kalerkantho


ফুলপুরে চিকিৎসাবর্জ্যের অব্যবস্থাপনা

ঝুঁকিতে জনস্বাস্থ্য

ফুলপুর (ময়মনসিংহ) প্রতিনিধি   

১৮ অক্টোবর, ২০১৮ ০০:০০



ময়মনসিংহের ফুলপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, বেসরকারি ডায়াগনস্টিক সেন্টার ও ক্লিনিকে সেবা নিতে আসা রোগীদের চিকিৎসাবর্জ্য সঠিক নিয়মে ধ্বংস না করার ফলে ঝুঁকিতে রয়েছে জনস্বাস্থ্য।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রতিদিন শত শত রোগী জ্বর, পেটের পীড়া, ডায়রিয়া, জন্ডিসসহ বিভিন্ন সংক্রামক রোগের চিকিৎসা নিতে আসে। এসব রোগ নির্ণয়ের জন্য সরকারি-বেসরকারি হাসপাতাল ও বিভিন্ন ডায়াগনস্টিক সেন্টারে রোগীর রক্ত, মলমূত্র, কাশিসহ নানা ধরনের ক্লিনিক্যাল পরীক্ষা করা হয়। এসব পরীক্ষার জন্য ব্যবহৃত সিরিঞ্জ, তুলা, স্যালাইন সেট, রক্তের ব্যাগসহ নানা উপকরণ ব্যবহারের পর বর্জ্য হিসেবে স্বাস্থ্যসম্মত প্রক্রিয়ায় ভস্মীভূত (ইনসিনারেশন) বা জীবাণুমুক্ত করার বিধান রয়েছে। কিন্তু সরকারি হাসপাতাল বা বেসরকারি ক্লিনিকে তা পালন করা হচ্ছে না।

ফুলপুর হাসপাতালে ইনসিনারেশনের জন্য নির্দিষ্ট ঘরটির ছাদ নেই। এই ঘরে প্রতিদিনের বর্জ্যগুলো ফেলে রাখা হয়। বৃষ্টি হলেই ভিজে তা ছড়িয়ে পড়ে। এ ছাড়া মশা-মাছি, কুকুর-বিড়ালসহ বিভিন্ন প্রাণীর মাধ্যমে এসব থেকে রোগ-জীবাণু ছড়ায়। এসব বর্জ্য ধ্বংসের জন্য নিয়মিত ইনসিনারেশন করা হচ্ছে না।

সরেজমিন দেখা যায়, শুধু পৌর শহরেই রয়েছে ২০টির মতো ডায়াগনস্টিক সেন্টার ও ক্লিনিক। এসব ক্লিনিকে প্রতিদিন সিজারসহ নানা ধরনের অস্ত্রোপচারে ব্যবহৃত সিরিঞ্জ, ব্লাডব্যাগ, এক্স-রে পানি, স্যালাইন সেটসহ নানা ধরনের চিকিৎসাবর্জ্য নর্দমায় বা যত্রতত্র ফেলে দেওয়া হচ্ছে। এতে রোগ সংক্রমণের মারাত্মক ঝুঁকিতে রয়েছে এলাকার পরিবেশ।

এ বিষয়ে ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজের মেডিসিন বিশেষজ্ঞ ডা. প্রবাল দত্ত অধিকারী বলেন, ‘রোগীর চিকিৎসাবর্জ্য জনস্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক হুমকি। এতে পরিবেশ দূষণসহ মানব শরীরে নানা ধরনের রোগ ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।’

মারাত্মক ক্ষতিকারক এসব বর্জ্য যথাযথ নিয়মে পুড়িয়ে ফেলা বা ধ্বংস করার জন্য স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের যে নির্দেশনা রয়েছে তা ফুলপুরের সরকারি বা বেসরকারি কোনো প্রতিষ্ঠানই পালন করছে না। এ বিষয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. পরিমল কুমার পাল বলেন, ‘আমরা প্রতিদিনই বর্জ্যগুলো ধ্বংস করার চেষ্টা করি।’ ইনসিনারেশন ঘরের দুরবস্থার ব্যাপারে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘ইনসিনারেশনসহ হাসপাতালের কয়েকটি সমস্যা নিয়ে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে আবেদন করেছি। আশা করি, শিগগির সমস্যাগুলো দূর করা হবে।’

 

 



মন্তব্য