kalerkantho


ঝুঁকিপূর্ণ মাটির ঘরে স্কুল

রানীনগর (নওগাঁ) প্রতিনিধি   

১৭ অক্টোবর, ২০১৮ ০০:০০



ঝুঁকিপূর্ণ মাটির ঘরে স্কুল

নওগাঁর রানীনগর উপজেলার লাইকুড়ি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মাটির ঘরের সামনে শিক্ষার্থীরা। ছবি : কালের কণ্ঠ

ঝুঁকিপূর্ণ মাটির ঘরে চলে পাঠদান। ঘরের চারদিকে বাঁশের খুঁটি দিয়ে কোনোমতে দাঁড় করিয়ে রেখেছে কর্তৃপক্ষ। আকাশে কালো মেঘ দেখলেই দুর্ঘটনার আশঙ্কায় বাড়ি চলে যেতে চায় শিক্ষার্থীরা। এ চিত্র নওগাঁর রানীনগরের লাইকুড়ি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের। তাই অবিলম্বে পাকা ভবন নির্মাণ করে দেওয়ার দাবি জানিয়েছে শিক্ষার্থী-অভিভাবকরা।

জানা যায়, উপজেলা সদর থেকে পূর্ব দিকে প্রায় ১৩ কিলোমিটার দূরে করজগ্রামের লাইকুড়ি মৌজায় লাইকুড়ি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় অবস্থিত। বর্তমানে স্কুলটিতে প্রায় ১১০ জন শিক্ষার্থী আছে। একসময় স্কুলটি সরকারি করা হয়। তবে সরকারিভাবে তেমন কোনো আসবাবপত্র না মিললেও ইউনিয়ন পরিষদের সহায়তায় বেশ কিছু আসবাবপত্র মিলেছে। এ ছাড়া নিজেদের টাকায় কিছু জিনিসপত্র কিনেছেন শিক্ষকরা। এর মধ্যে গত বছর বন্যায় স্কুলঘরে পানি ঢুকে যায়। এতে মাটির ঘরগুলো ভেঙে পড়ার উপক্রম হয়। স্কুল কর্তৃপক্ষ বাঁশের খুঁটি দিয়ে কোনো রকমে স্কুলঘরগুলো দাঁড় করিয়ে রেখেছে। অন্যদিকে আকাশে কালো মেঘ দেখলেই দুর্ঘটনার আশঙ্কায় বই-খাতা ফেলে স্কুল ছেড়ে চলে যেতে চায় শিক্ষার্থীরা। পরিস্থিতি সামাল দিতে অনেক সময় ছুটি দিতে বাধ্য হন শিক্ষকরা।

তৃতীয় শ্রেণির ছাত্রী মিথিলা দেবনাথ জানায়, ‘আকাশে মেঘ দেখলেই খুব ভয় হয়। না জানি কখন ঝড়ে স্কুল ভেঙে মাথায় পড়ে।’

স্কুলের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক নিহার রঞ্জন দেবনাথ জানান, জরাজীর্ণ ঘরের কারণে ভয়ে অনেক অভিভাবক ছেলেমেয়েদের স্কুলে পাঠাতে চান না। তিনি বলেন, ‘ভবন নির্মাণ করে দেওয়ার জন্য সংসদ সদস্য মো. ইসরাফিল আলমের সুনজর কামনা করছি।’

উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আতাউর রহমান জানান, উপজেলায় যতগুলো প্রাথমিক বিদ্যালয় আছে তার মধ্যে এই স্কুলের (লাইকুড়ি) সার্বিক অবকাঠামো খুবই দুর্বল। যেভাবে এখন পর্যন্ত পাঠদান চলছে তাতে কোনোভাবেই শিক্ষার মান ধরে রাখা সম্ভব নয়। বাধ্য হয়ে স্কুলের কর্মকাণ্ড চালু রাখা হয়েছে। স্কুলে বহুতল ভবন নির্মাণের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে তালিকা পাঠানো হয়েছে। আশা করছি অল্প দিনের মধ্যেই বরাদ্দ আসবে।

 

 



মন্তব্য