kalerkantho


গাইবান্ধা বাফার স্টক

জমাটবাঁধা সার নিয়ে ডিলাররা বিপাকে

গাইবান্ধা প্রতিনিধি   

১৭ অক্টোবর, ২০১৮ ০০:০০



গাইবান্ধা বাফার স্টক গুদামের জমাট বাঁধা ইউরিয়া সার নিয়ে ডিলাররা বিপাকে পড়েছে। এ সার কৃষকরা নিতে অনাগ্রহী বলে ডিলারদের গুদামেই পড়ে থাকছে। তার পরও নতুন বরাদ্দ উত্তোলন করতে গেলে তাদের ঘাড়ে আবার চাপিয়ে দেওয়া হচ্ছে জমাট বাঁধা সার।

প্রতিকার চেয়ে গাইবান্ধা ফার্টিলাইজার অ্যাসোসিয়েশন গত বৃহস্পতিবার স্থানীয় প্রেস ক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলন করে। দ্রুত প্রতিকার না মিললে তারা বাফার গুদাম থেকে সার উত্তোলন বন্ধ করতে বাধ্য হবে বলে জানায়।

ফার্টিলাইজার অ্যাসোসিয়েশনের গাইবান্ধা জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক সুদেব কুমার চৌধুরী লিখিত বক্তব্যে উল্লেখ করেন, গাইবান্ধা বাফার গুদামে বিপুল পরিমাণ ইউরিয়া সার দীর্ঘদিন ধরে মজুদ রয়েছে। জেলার কৃষকরা জমাট বাঁধা ইউরিয়া ব্যবহারে অভ্যস্ত নয়। কৃষকদের অনীহার কারণে ডিলাররা জমাট বাঁধা সার বিক্রি করতে পারছে না। এ নিয়ে জটিলতা সৃষ্টি হলে বিসিআইসির অর্থ পরিচালক মো. হাইউল কাইউম সম্প্রতি গাইবান্ধায় এসে বাফার গুদাম পরিদর্শন করেন। তিনি স্থানীয় ডিলারদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন। ডিলারদের বর্তমান মজুদ করা জমাট বাঁধা সার উত্তোলন করার অনুরোধ জানিয়ে আগামীতে ওই ধরনের সার গাইবান্ধা বাফার গুদামে আর সরবরাহ করা হবে না বলে আশ্বাস দেন। এরপর গুদামে মজুদ সার যন্ত্রে ভেঙে ডিলারদের সরবরাহ করা হয়। কিন্তু কৃষকরা এই সার না কেনায় ডিলারদের গুদামে তা অবিক্রীত অবস্থায় পড়ে রয়েছে। ফলে ডিলাররা আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছে। এমতাবস্থায় গত ১৬ সেপ্টেম্বর জেলা সার ও বীজ পর্যবেক্ষণ কমিটির সভায় জমাট বাঁধা সার সরবরাহ না করার অনুরোধ জানানো হয়। ডিলারদের প্রতিবাদ সত্ত্বেও জমাট বাঁধা, ছেঁড়াফাটা ও কম ওজনের সারের বস্তা ডিলারদের নিতে বাধ্য করা হচ্ছে।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ ফার্টিলাইজার অ্যাসোসিয়েশন জেলা সহসভাপতি আব্দুল মজিদ লেবন, আব্দুস সবুর সরকার, এ কে মজিদুল আলম, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহফুজার রহমান, সদস্য গাজী শরিফুল ইসলাম, সৈয়দ কামরুল ইসলাম ইমরান, সাবেক জেলা সভাপতি এ কে এম জিল্লুর রহমান রাজু, সাবেক সাধারণ সম্পাদক মাহবুব আলম রিপন প্রমুখ।

এদিকে গাইবান্ধা বাফার স্টক গুদাম ইনচার্জ অশোক কুমার চৌধুরী জানান, বর্তমানে তাদের গোডাউনে তিন হাজার টন ইউরিয়া সার মজুদ রয়েছে। এর মধ্যে জমাট বাঁধা সারের পরিমাণ এক হাজার টন। আসন্ন রবি মৌসুমের জন্য ৩১ হাজার চার টন ইউরিয়া সার গাইবান্ধার জন্য বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এরই মধ্যে পাইপলাইনে ১৪ হাজার টন ইউরিয়া সার রয়েছে। এর মধ্যে কত টন জমাট বাঁধা তা তিনি বলতে পারেননি।



মন্তব্য