kalerkantho


ছাতকের ইসলামপুর স্বাস্থ্যকেন্দ্র

সন্ধ্যার পর অপরাধীদের অভয়ারণ্য

ছাতক (সুনামগঞ্জ) প্রতিনিধি   

১৭ অক্টোবর, ২০১৮ ০০:০০



দুর্গম পাহাড়ি এলাকা হিসেবে খ্যাত ছাতকের ইসলামপুর ইউনিয়ন। এ ইউনিয়নের স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রটি এখন বিভিন্ন অপরাধীদের অভয়ারণ্যে পরিণত হয়েছে। এক যুগের বেশি সময় ধরে বন্ধ-পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে থাকা এ স্বাস্থ্যকেন্দ্রের মূল ভবন এখন মাদক সেবন, জুয়া খেলা ও অসামাজিক কার্যকলাপের নিরাপদ আস্তানা হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। সন্ধ্যার পর থেকে গভীর রাত পর্যন্ত অপরাধীদের আনাগোনা থাকে এখানে। কেন্দ্রটি আবার চালুর দাবিতে একাধিকবার সংশ্লিষ্ট দপ্তরে আবেদন করেও কোনো ফল পাচ্ছে না বলে অভিযোগ করেছে স্থানীয়রা।

জানা যায়, ১৩টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভার মধ্যে ভৌগোলিক দিক থেকে ইসলামপুর ইউনিয়নের অবস্থান অনেকটাই জটিল। ছোট-বড় টিলা, পাহাড়ি নদী ও বালুমহালের কারণে এখানে উন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থা গড়ে উঠেনি। ফলে সীমান্তঘেঁষা এ ইউনিয়নের মানুষ সরকারি অনেক সুযোগ-সুবিধা থেকেই বঞ্চিত হচ্ছে। এর মধ্যে স্বাস্থ্যকেন্দ্রটি বন্ধ থাকায় ইউনিয়নের ২০ গ্রামের প্রায় ১৫ হাজার মানুষ সহজ স্বাস্থ্যসেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। প্রায় ১৪ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত উপজেলা সদর হাসপাতালে গিয়ে স্বাস্থ্যসেবা নেওয়া তাদের পক্ষে অনেকটাই দুরূহ। অনেকটা বাধ্য হয়েই ঝাড়ফুঁক ও হাতুড়ে ডাক্তারের শরণাপন্ন হয় তারা।

জানা যায়, ভৌগোলিক জটিলতার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে ১৯৯০ সালে সীমান্তবর্তী ছনবাড়ী বাজারসংলগ্ন এলাকায় কেন্দ্রটি চালু হয়। ফলে ইউনিয়নের নিজগাঁও, রতনপুর, ধনিটিলা, রাসনগর, বনগাঁও, দারোগাখালী, লুভিয়া, গাংপার-নোয়াকোট, পুরান নোয়াকোট, বৈশাকান্দি, বাহাদুরপুর গ্রামসহ কোম্পানীগঞ্জের কয়েকটি গ্রামের মানুষ চিকিৎসাসেবার জন্য এ কেন্দ্রের ওপর নির্ভরশীল হয়ে ওঠে। কিন্তু ভূমির মালিকানা ও মামলাসংক্রান্ত কারণে ২০০৪ সালে স্বাস্থ্যকেন্দ্রটি বন্ধ হয়ে যায়। চিকিৎসাসেবা থেকে বঞ্চিত স্থানীয় লোকজন স্বাস্থ্যকেন্দ্রটি চালুর দাবি জানিয়ে এলেও সংশ্লিষ্টরা তাতে কর্ণপাত করছে না বলে অভিযোগ তাদের।

ছনবাড়ী স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণকেন্দ্র রক্ষা কমিটির পক্ষ থেকে স্বাস্থ্যকেন্দ্রটি আবার চালু বা বিকল্প ব্যবস্থায় চালুর দাবিতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা বরাবর আলাদা স্মারকলিপি দেওয়া হয়েছে।

কমিটির আহ্বায়ক নুরুজ্জামাল, সদস্যসচিব জাহাঙ্গির আলম রাসেল, ইসলামপুর ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) সদস্য হেলিমা বেগম, সদস্য লাল মিয়াসহ কয়েকজন জানায়, স্বাস্থ্যকেন্দ্রটি বন্ধ হয়ে পড়ায় এখানে গর্ভবর্তী মা ও শিশু মৃত্যুর হার ক্রমেই বৃদ্ধি পাচ্ছে। সীমান্তবর্তী গ্রামের মানুষ জটিল যোগাযোগ ব্যবস্থার কারণে সদর হাসপাতালে সময়মতো যেতে পারছে না। ফলে হাতুড়ি ডাক্তার ও দাইমার সেবা নিয়েই সন্তুষ্ট থাকতে হচ্ছে তাদের।

উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. অভিজিৎ শর্ম্মা জানান, ইসলামপুর ইউনিয়ন স্বাস্থ্যকেন্দ্রটি পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরের নিয়ন্ত্রণাধীন। এ ছাড়া ভবনের ভূমি নিয়ে মামলাসংক্রান্ত জটিলতা আছে। মামলার বিষয়টি নিষ্পত্তি হলে কেন্দ্রটি আবারও চালু হবে। তবে বিকল্প ব্যবস্থায় চালু করার বিষয়ে আলোচনা চলছে।

 



মন্তব্য