kalerkantho


শাহজাদপুরে সেতু-কালভার্ট বন্ধ করে স্থাপনা তৈরি

শাহজাদপুর (সিরাজগঞ্জ) প্রতিনিধি   

১৬ অক্টোবর, ২০১৮ ০০:০০



লাখ লাখ টাকা ব্যয় করে নির্মিত শাহজাদপুরের আঞ্চলিক ও মহাসড়কের বেশ কিছু সেতু ও কালভার্ট বন্ধ করে পাশেই ঘরবাড়ি ও স্থাপনা তৈরি করা হয়েছে। এগুলো দেখেও না দেখার ভান করছে কর্তৃপক্ষ। এভাবে সেতু-কালভার্ট বন্ধ করা হলে বর্ষা মৌসুমে পানির চাপে রাস্তা ভেঙে যাওয়ার আশঙ্কা করছে স্থানীয়রা।

স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের শাহজাদপুর-জার্মিরতা ছয় কিলোমিটার আঞ্চলিক পাকা সড়ক ও জনপথ বিভাগের শাহজাদপুর কৈজুরী সাত কিলোমিটার আঞ্চলিক সড়ক দিয়ে প্রতিদিন শত শত যানবাহন চলাচল করে। এ দুটি সড়কে অনেকটি ছোট-বড় কালভার্ট ও সেতু রয়েছে। সড়কে পাঁচটি কালভার্ট বন্ধ করে পাশেই ঘরবাড়িসহ বিভিন্ন স্থাপনা নির্মাণ করা হয়েছে। এ কারণে আঞ্চলিক সড়কের দুই পাশে বর্ষা এলেই পানির প্রবাহ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। অন্যদিকে শাহজাদপুর-পোতাজিয়া চার কিলোমিটার আঞ্চলিক সড়কটিও জনপথ বিভাগের। এ পথ দিয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে যেতে হয়। রাউতারা বুড়িমারী মৌজায় বরীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের স্থায়ী ক্যাম্পাস হচ্ছে। ওই বিশ্ববিদ্যালয়ে যাওয়ার একমাত্র পথ এটি। এ সড়কে গুরুত্বপূর্ণ জোড়া কার্লভার্টের একটি (মাদলা জোড়া ব্রিজ নামে পরিচিত) বন্ধ করে তার পাশেই বাড়ি নির্মাণ করা হয়েছে। সড়ক ও জনপথ বিভাগের লোকজন দেখেও এর কোনো ব্যবস্থা নেয়নি। এমনকি ঢাকা-পাবনা মহাসড়কের বাঘাবাড়ী বাজারসংলগ্ন একটি গুরুত্বপূর্ণ কালভার্ট বন্ধ করে দিয়েছে স্থানীয় ব্যবসায়ীরা। কালভার্টের নালাটিও মাটি দিয়ে ভরাট করে বাজার সম্প্রসারণ করা হয়েছে। এ কারণে বর্ষায় বা বৃষ্টির পানি এ নালা দিয়ে বের হতে পারছে না। এ নালা দিয়েই চলন বিলের পানি পাশের করতোয়া নদীতে প্রবাহিত হতো। নালাটি বন্ধ হওয়ায় চলন বিলের পানি প্রবাহ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। ফলে পানির চাপ এসে পড়ছে ঢাকা-পাবনা মহাসড়কের ওপর।

এদিকে শাহজাদপুর উপজেলায়ও বেশ কয়েকটি সেতু ও কালভার্ট বন্ধ করে ঘরবাড়ি ও স্থাপনা নির্মাণ করে পানি প্রবাহ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। শাহজাদপুর উপজেলা নদীবিধৌত এলাকা। উপজেলার ওপর দিয়ে বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ নদী ও এর শাখা নদী প্রবাহিত। এর মধ্যে যমুনা, করতোয়া, বড়াল ও হুড়াসাগর নদী অন্যতম। কিন্তু আঞ্চলিক ও মহাসড়কের বেশ কয়েকটি স্থানে কালভার্টের দুই পাশে মাটি দিয়ে ভরাট করায় বর্ষায় পানির চাপ সড়কগুলোতে পড়তে শুরু করেছে। এতে সড়কগুলো এখন ঝুঁকির মুখে।

এ ব্যাপারে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর শাহজাদপুর উপজেলার প্রকৌশলী আহম্মেদ রফিকের ভাষ্য, ‘১২ মিটার একটি কালভার্ট তৈরি করতে ২০ থেকে ২২ লাখ টাকা খরচ হয়। তার পরও কেউ যদি কালভার্ট ও সেতু বন্ধ করে কোনো স্থাপনা নির্মাণ করে, সেটা দুঃখজনক।’ তিনি বলেন, ‘উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান বা স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান বিষয়টি দেখভাল করার কথা। জনপ্রতিনিধিরা সচেতন হলে এ সমস্যা অনেকটাই দূর হয়ে যায়। প্রয়োজনে তাঁরা এ বিষয়ে লোকাল পুলিশের সহযোগিতা নিয়ে সমস্যার সমাধান করতে পারেন।’ তবে উপজেলা চেয়ারম্যান অধ্যাপক আজাদ রহমান বলেন, ‘বিষয়টি আমাদের এখতিয়ারবহির্ভূত। জনপ্রতিনিধিদের ওপর দায়ভার চাপিয়ে কর্তৃপক্ষ দায়িত্ব এড়াতে পারে না।’

 



মন্তব্য