kalerkantho


স্বামীর ‘নির্যাতনে’ গৃহবধূর বিষপান চিকিৎসকের ‘অবহেলায়’ মৃত্যু

পিরোজপুর প্রতিনিধি   

২৫ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ০০:০০



পিরোজপুরের নাজিরপুরে স্বামীর নির্যাতন সইতে না পেরে বিষপান করে আত্মহত্যার চেষ্টা চালান তহমিনা আক্তার ময়না নামের এক গৃহবধূ। তাঁকে চিকিৎসার জন্য নাজিরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসকের অবহেলায় তাঁর মৃত্যু হয়েছে। গতকাল সোমবার সকালে নাজিরপুর প্রেস ক্লাব মিলনায়তনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এই দাবি করেন ময়নার বাবা উপজেলার ষোলশত গ্রামের আজাহার আলী শেখ।

লিখিত বক্তব্যে আজহার আলী বলেন, মেয়ে ময়নাকে পাঁচ বছর আগে নাজিরপুরের সেখমাটিয়া ইউনিয়নের রগুনাথপুর গ্রামের সরোয়ার হোসেন খানের ছেলে রুবেল খানের সঙ্গে বিয়ে দেন। বিয়ের সময় তিনি রুবেলকে দেড় লাখ টাকাসহ উপহারসামগ্রী দেন। কিছুদিন সেখানে সুখে-শান্তিতে সংসার করার পর রুবেল ও তাঁর পরিবার আরো টাকা (আজহার ‘যৌতুক’ শব্দ ব্যবহার করেন) চেয়ে ময়নাকে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন শুরু করে। বিষয়টি নিয়ে কয়েকবার সালিস বৈঠক হলেও টাকার জন্য ময়নার ওপর নির্যাতন বন্ধ হয়নি। এ নির্যাতন সইতে না পেরে গত মঙ্গলবার ময়না তাঁর আড়াই বছর বয়সের একমাত্র মেয়ে ফাতেমাকে নিয়ে ষোলশত গ্রামে বাবার বাড়িতে চলে আসেন। বৃহস্পতিবার সকালে রুবেল শ্বশুরবাড়িতে এসে আবার ময়নার কাছে টাকা দাবি করেন এবং টাকা না দিলে তাঁকে তালাকের হুমকি দেন। ময়না এর প্রতিবাদ জানিয়ে টাকা দিতে অপরাগতা প্রকাশ করলে তাঁকে শারীরিক নির্যাতন করেন রুবেল। টাকার জন্য স্বামীসহ শ্বশুরবাড়ির লোকজনের নির্যাতন সইতে না পেরে ওই দিন বিকেলে ময়না বিষপান করে আত্মহত্যার চেষ্টা চালান। তখন পরিবারের লোকজন ময়নাকে নাজিরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এনে ভর্তি করে। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক শোভন রায় চৌধুরী কামরুল ও জালাল নামের দুজন বহিরাগত ব্যক্তির মাধ্যমে ময়নাকে ওয়াশ করান। এ সময় ময়না সুস্থতা অনুভব করে আর ওয়াশের প্রয়োজন নেই বলে চিৎকার করেন। কিন্তু জালাল ময়নার বুকের ওপর উঠে ওয়াশ অব্যাহত রাখলে ময়নার মৃত্যু হয়। পরে ডা. শোভন ওয়াশকক্ষে গিয়ে ময়নাকে মৃত ঘোষণা করেন।

ডা. শোভন রায় বলেন, চিকিৎসায় কোনো ত্রুটি হয়নি।



মন্তব্য