kalerkantho


খুনের আসামি চেয়ারম্যান ধরছে না পুলিশ

ঘাটাইল (টাঙ্গাইল) প্রতিনিধি   

২৫ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ০০:০০



খুনের আসামি চেয়ারম্যান ধরছে না পুলিশ

হেকমত শিকদার

টাঙ্গাইলের ঘাটাইল উপজলার সাগরদীঘি ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান হেকমত শিকদারের বিরুদ্ধে আদালতে দুটি হত্যা মামলা করা হয়েছে। তিনি উপজেলা আওয়ামী লীগের সদস্যও। আদালতের নির্দেশে একটি মামলা থানায় নথিভুক্ত হলেও পুলিশ আসামি গ্রেপ্তারে ন্যূনতম তৎপরতা দেখায়নি।

দুটি মামলার একটি হচ্ছে টাঙ্গাইল জজ আদালতের আইনজীবী ফরহাদ হত্যা, অন্যটি যুবদল নেতা মালেক হত্যা। ফরহাদ হত্যা মামলায় বাদী তাঁর বাবা মো. হাফিজ উদ্দিন। আর যুবদল নেতা মালেক হত্যা মামলায় বাদী তাঁর স্ত্রী মর্জিনা খাতুন। চেয়ারম্যান হেকমত শিকদার সাগরদীঘি ইউনিয়নের বেতুয়াপাড়া গ্রামের মৃত ছায়েদ আলীর ছেলে।

একটি মামলার বিবরণ থেকে জানা যায়, নিহত ফরহাদ টাঙ্গাইল জজ আদালতের একজন আইনজীবী। গত ২১ জুলাই বিকেলে বেতুয়াপাড়া গ্রামে নিজ বাড়িতে খুন হন তিনি। চাচাতো ভাই রুবেল তাঁকে চাপাতি দিয়ে কুপিয়ে খুন করে। গত ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে ইউপি চেয়ারম্যান হেকমত শিকদারকে সমর্থন করেনি ফরহাদের পরিবারের লোকজন। এ কারণে ক্ষুব্ধ ছিলেন তিনি। নির্বাচনে সমর্থন না করা এবং পারিবারিক কলহের জেরে সুকৌশলে ফরহাদের চাচাতো ভাই রুবেলকে ব্যবহার করে এই হত্যাকাণ্ডটি চেয়ারম্যান ঘটিয়েছেন বলে মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে।

এই মামলায় ইউপি চেয়ারম্যান হেকমত শিকদারসহ সাতজনকে আসামি করা হয়েছে। গত ৩০ আগস্ট জ্যেষ্ঠ বিচারিক হাকিম আদালতে এ হত্যা মামলা করা হয়েছে। মামলার অন্য আসামিরা হলো বেতুয়াপাড়া গ্রামের মৃত রফিকুল ইসলামের ছেলে মো. রুবেল মিয়া (২৫), সিদ্দিক হোসেন (৫৮), দেলোয়ার হোসেন (৫৫), আজিজুল হক (৩৫), মো. ফজল হক (৫২) ও সাগরদীঘি গ্রামের রাসেল মিয়া (৩০)।

এদিকে সাগরদীঘি ইউনিয়ন যুবদলের সহসভাপতি মালেক হত্যা মামলায় ইউপি চেয়ারম্যান হেকমত শিকদারকে আসামি করা হয়েছে। তাঁকে ছাড়াও বেতুয়াপাড়া গ্রামের আলমগীর হোসেন (৩০), হাতিমারা গ্রামের ফারুক (৩৫), গুপ্ত বৃন্দাবন গ্রামের কবির হোসেন (৩৫), মোস্তফা (৪২), জহিরুলসহ (৪০) ২৩ জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। মামলায় অজ্ঞাতপরিচয় আসামি করা হয়েছে আরো ২০-২৫ জনকে। গত ২১ সেপ্টেম্বর আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী ঘাটাইল থানার পরিদর্শক মামলাটি থানায় নথিভুক্ত করেন।

অন্য মামলার বিবরণে উল্লেখ করা হয়েছে, গত ২৯ মার্চ সাগরদীঘি ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচন ছিল। নির্বাচনের আগের রাতে নৌকা প্রতীকের প্রার্থী হেকমত শিকদার অজ্ঞাতপরিচয় অর্ধশত লোক নিয়ে দুটি মাইক্রোবাস ও ১৫-২০টি মোটরসাইকেলযোগে গুপ্ত বৃন্দাবন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে যান। সেখানে গিয়ে দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রিসাইডিং অফিসারকে মৃত্যুর ভয় দেখিয়ে কেন্দ্র দখল করে ভোট দিতে থাকেন। এ সময় নিহত মালেকসহ এলাকাবাসী বাধা দেয় এবং ভোটকেন্দ্রের দরজা বাইরে থেকে বন্ধ করে দিয়ে আটকের চেষ্টা করে। এ সময় সন্ত্রাসীরা এলাকাবাসীর ওপর গুলি চালায়। সন্ত্রাসীদের গুলিতে মালেক নিহত হন। আহত হয় আরো পাঁচ-সাতজন। চেয়ারম্যান হেকমতের পিস্তলের গুলিতে মালেক নিহত হয়েছেন বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে। এ ঘটনায় গত ২৯ মার্চ ভোট শুরুর আগে কেন্দ্রের ভোটগ্রহণ স্থগিত করে নির্বাচন কমিশন।

মালেক হত্যা মামলার বাদী মর্জিনা খাতুন বলেন, ‘চেয়ারম্যানের প্রভাব ও বাধার কারণে ঘটনার পর মামলা করতে পারিনি। এখন মামলার পর চেয়ারম্যান প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়ালেও পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করছে না।’

আইনজীবী ফরহাদ হত্যা মামলার বাদী হাফিজ উদ্দিন বলেন, ‘চেয়ারম্যান এলাকায় নানা সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে লিপ্ত। তার অপকর্মের প্রতিবাদ করায় সে আমার ছেলেকে পরিকল্পিতভাবে খুন করেছে। পুত্রবধূ লাইজু আক্তার বাদী হয়ে থানায় একটি হত্যা মামলা করে। সে মামলায় চেয়ারম্যানসহ কতিপয় আসামির নাম বাদ পড়ে। পরে আমি বাদী হয়ে টাঙ্গাইল মুখ্য বিচারিক হাকিমের আমলি আদালতে চেয়ারম্যানসহ সাতজনকে আসামি করে মামলা করেছি। আমি আমার ছেলে হত্যার বিচার চাই।’

এ বিষয়ে ইউপি চেয়ারম্যান হেকমত শিকদার বলেন, ‘আমার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন। দায়ের করা মামলা দুটির কোনো ভিত্তি নেই। একটি মহল ষড়যন্ত্রমূলকভাবে আমাকে ফাঁসানোর চেষ্টা করছে। এরই অংশ হিসেবে নির্বাচনে পরাজিত প্রতিপক্ষরা আমাকে হেয়প্রতিপন্ন করতে বাদীদের দিয়ে মামলা দুটি দায়ের করিয়েছে।’

ঘাটাইল থানার পরিদর্শক মাকসুদুল আলম বলেন, ‘চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে আদালতে দায়ের করা দুটি হত্যা মামলার কপি পেয়েছি। আদালতের নির্দেশনা মোতাবেক মালেক হত্যা মামলাটি থানায় এফআইআরভুক্ত করা হয়েছে। আইনজীবী ফরহাদ হত্যা মামলাটিও আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’



মন্তব্য