kalerkantho


কাজল নদে নিঃস্ব আড়াই শ পরিবার

গলাচিপা (পটুয়াখালী) প্রতিনিধি   

২৫ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ০০:০০



গত দুই দশকে পটুয়াখালীর গলাচিপা উপজেলায় কাজল নদের তীব্র ভাঙনে নিঃস্ব হয়েছে অন্তত আড়াই শ পরিবার। নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে প্রায় সাত বর্গকিলোমিটার এলাকা।

উপজেলার চরকাজল ইউনিয়নের বড় চরকাজল গ্রামের মো. মোসলেম ও চানভানু দম্পতি কয়েক বছর আগে বড় চরকাজল গ্রামে বাড়ি করেন। ২০০৮ সালে তাঁদের বসতবাড়িটি এক রাতেই ভেঙে যায়। এরপর পাশে আবার বাড়ি করলে কয়েক বছরের মধ্যেই বাড়িটি নদীগর্ভে বিলীন হয়। বর্তমানে বন্যা নিয়ন্ত্রণ বেড়িবাঁধে খুপড়ি ঘর তুলে বসবাস করছেন এ দম্পতি।

মো. মোসলেম বলেন, ‘আমাদের পর পর দুইবার বাড়ি ভাঙছে। এ ছাড়া সাড়ে পাঁচ একর ফসলি জমির সবটাই হারাইছি।’ 

উপজেলার বড় চরকাজল গ্রামের লঞ্চঘাট এলাকার বাসিন্দা মোফাজ্জেল হাওলাদারেরও পর পর দুটি বাড়ি ও ৩৮ একর কৃষিজমি নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। পরে নদীর পারে একটি বাড়ি করেছেন। সেটিও এখন ভাঙনের মুখে। দুঃখ প্রকাশ করে তিনি বলেন, ‘নতুন করে জমি কিনে বাড়ি করার মতো এখন আর আমাদের সামর্থ্য নাই। এই বাড়িটুকু ভেঙে গেলে মাথা গোঁজার ঠাঁই থাকবে না।’

এ ব্যাপারে চরকাজল ইউনিয়নের চেয়ারম্যান সাইদুর রহমান রুবেল জানান, গত কয়েক বছরে প্রায় আড়াই শ পরিবারের বসতঘর এ নদীতে ভেসে গেছে। ক্ষতিগ্রস্তরা তেমন কোনো সহযোগিতাও পায়নি।

কাজল নদে কত পরিবার ভিটে হারিয়েছে তার সঠিক পরিসংখ্যান পাওয়া যায়নি সংশ্লিষ্ট সরকারি দপ্তরগুলোতে। 

এ প্রসঙ্গে পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অনুষদের প্রাক্তন ডিন ও ভূমি ব্যবস্থাপনা অনুষদের ডিন প্রফেসর আ ক ম মোস্তফা জামান বলেন, ‘এ অবস্থায় ভাঙনপ্রবণ স্থানে ব্লক বা বালির বস্তা দিলে আপাতত নদীভাঙন কম হবে।’

এ ব্যাপারে গলাচিপা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শাহ মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘আমি সদ্য এ উপজেলায় যোগদান করেছি। এ বিষয় ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করব।’



মন্তব্য