kalerkantho


সুরমাপারে হাহাকার

বিয়ানীবাজার (সিলেট) প্রতিনিধি   

২৫ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ০০:০০



সিলেটের বিয়ানীবাজার উপজেলায় সুরমা নদীর তীরবেষ্টিত চারখাই ইউনিয়নের কয়েকটি এলাকায় প্রতিবছর নদীভাঙন দেখা দেয়। তবে এ বছর ভাঙনের তীব্রতা বেশি হওয়ায় সুরমাপারে চলছে হাহাকার। প্রতিনিয়ত এ ভাঙনে বিয়ানীবাজার উপজেলার মানচিত্রে ব্যাপক পরিবর্তন ঘটছে। ভাঙনের কবলে পড়ে প্রতিবছর নিঃস্ব হচ্ছে শতাধিক পরিবার। ভিটামাটি, গবাদি পশু, কৃষিজমিসহ সর্বস্ব হারিয়ে ভাড়াভিত্তিতে অন্যের জমিতে আশ্রয় নিয়েছে হতভাগ্যরা।

সরেজমিনে উপজেলার চারখাই ইউনিয়নের সাফাগ্রামে গিয়ে দেখা যায়, গত রবিবার রাতে ভাঙনে গৃহহারা হয়েছে চারটি পরিবার। গত কয়েক দিনে ভাঙনে ভিটামাটি হারিয়েছে আরো ১৫ পরিবার। সাফাগ্রামে নিঃস্ব মানুষের আহাজারিতে চারপাশের পরিবেশ ভারী হয়ে উঠেছে। তাদের সান্ত্বনা দিতে রাজনৈতিক নেতরা ছুটে গেছেন অসহায় মানুষের পাশে। তবে তাঁদের কাছ থেকে শুধুই মিলছে আশ্বাস।

রবিবার রাতে অজিত চন্দ্র দে, ডাক্তার বাচ্ছেশপতি দে, শিক্ষক রামেন্দ্র চন্দ্র দে ও বাবুল চন্দ্র দের পরিবার ভিটামাটি হারিয়েছে। তাঁরা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, কয়েক বছর ধরে নদীভাঙনের বিষয়টি দায়িত্বশীলদের জানানোর পর ভাঙনরোধে কোনো ব্যবস্থা নেননি। শুধু ভাঙনরোধে ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাসই পাওয়া গেছে। সব হারানোর পরও এখনো একই আশ্বাস শুনতে হচ্ছে।

বিয়ানীবাজার উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান আতাউর রহমান খান বলেন, ‘ভাঙনকবলিত এলাকা পরিদর্শন করেছি। প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য সিলেটের পানি উন্নয়ন বোর্ডের দায়িত্বশীলদের সঙ্গে কথা বলেছি। এ ছাড়া অসহায় পরিবারগুলোকে সরকারি সহায়তা দেওয়ার চেষ্টা করছি।’

সিলেট পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী সিরাজুল ইসলাম বলেন, ‘সুরমা নদীর ওই অংশসহ আরো দুটি ভাঙনকবলিত অংশে ভাঙন রোধে এক কোটি ৮৩ লাখ টাকার একটি প্রজেক্ট পাঠিয়েছি। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ প্রজেক্ট অনুমোদন করলে আমরা দ্রুত সময়ের মধ্যে কাজ শুরু করব।’



মন্তব্য