kalerkantho


নদ-নদীর ভাঙন

সংরক্ষণের নামে চলছে লুটপাট

ভাঙছে রাজশাহী শহর রক্ষা বাঁধ

রফিকুল ইসলাম, রাজশাহী   

২৫ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ০০:০০



সংরক্ষণের নামে চলছে লুটপাট

রাজশাহী শহর রক্ষা বাঁধের শ্রীরামপুরে পুলিশ লাইনস অফিসের সামনে ভাঙন দেখা দিয়েছে। ভাঙন রোধে জিও ব্যাগ ফেলছে পাউবোর কর্মীরা। গত বছরও এখানে ভাঙন দেখা দিয়েছিল। ছবিটি গতকাল তোলা। ছবি : কালের কণ্ঠ

রাজশাহী শহর রক্ষা বাঁধ সংরক্ষণের জন্য গত বছর পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) কোটি টাকা ব্যয় করেছিল। কিন্তু বছর না ঘুরতে সেই বাঁধ ভাঙছে। এবার তারা জিওব্যাগ ফেলছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, বাঁধ রক্ষার নামে পাউবো প্রতিবছর প্রকল্পের টাকা লুটপাট করে।

গতকাল সোমবার সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, পদ্মা নদীর শ্রীরামপুরে রাজশাহী পুলিশ লাইনসের সামনে টি-গ্রোয়েন এবং শহর রক্ষা বাঁধে একের পর এক ফাটল সৃষ্টি হয়েছে। পানি নামতে থাকায় সবেচেয়ে বেশি ক্ষতি হয়েছে শহর রক্ষা বাঁধের। গত বছর যেখানে কোটি ব্যয় করে কংক্রিটের ব্লক ফেলা হয়েছিল, এখন সেই ব্লকগুলো নদীগর্ভে বিলীন হতে শুরু করেছে। বাঁধ ভেঙে ব্লক চলে যাচ্ছে নদীগর্ভে। এ নিয়ে পুরো শহর রক্ষা বাঁধই পড়েছে হুমকির মুখে। পাউবো এই ভাঙনকবলিত এলাকায় লাল নিশান টাঙিয়ে রেখেছে। সেখানে জনসাধারণকে চলাচল করতে দেওয়া হচ্ছে না। আর ভাঙনরোধে শ্রমিকরা জিওব্যাগ কাঁধে করে নিয়ে সেখানে ফেলছে। কিন্তু সেই ব্যাগগুলো গিয়ে পড়ছে নদীগর্ভে।

স্থানীয় নজরুল ইসলাম জানান, গত সপ্তাহ থেকে পদ্মায় পানি কমতে শুরু করার পর থেকে রাজশাহী শহর রক্ষা বাঁধের বিভিন্ন স্থানে ভাঙন দেখা দিতে থাকে। এখন পানি যত নামছে, বাঁধের বিভিন্ন অংশে ভাঙনের পরিমাণও তত বেশি দেখা দিচ্ছে। বিশেষ করে শ্রীরামপুরে ১৫১ দশমিক ৭৭ মিটার বাঁধ এক কোটি ৪১ লাখ টাকা খরচ করে গতবার ব্লক বসিয়েছিল পাউবো। এবার সেখানেই সবচেয়ে বেশি ভাঙন দেখা দিয়েছে। ব্লকগুলো গত শুক্রবার থেকে নদীর মধ্যে চলে যাচ্ছে। আর দেখা দিয়েছে বড় আকারের কয়েকটি ফাটল।

শ্রীরামপুরের বাসিন্দা মাজেদুর রহমান জানান, গত বছর কংক্রিকেট ব্লক বসানোর কথা ছিল। কিন্তু তাঁরা দেখেছেন, কোনো মতে বালু ও সিমেন্টের মিশ্রণ দিয়ে ব্লক তৈরি করে নদীতে ফেলা হয়েছে। ফলে অনেক ব্লকই ফেটে ভেঙে গেছে। কারণ, ব্লক মজবুত হয়নি। আবার যে পরিমাণ ফেলার কথা ছিল, সেই পরিমাণ না ফেলে টাকা লুট করা হয়েছে। এখন আবার নতুন করে ভাঙন দেখা দিয়েছে। এবার বালুর বস্তা (জিওব্যাগ) ফেলা হচ্ছে। তিনি বলেন, ‘বালুর বস্তা ফেলার নামে লাখ লাখ টাকা লুট করবে পাউবো। এভাবেই তারা প্রকল্পের নামে সরকারের কোটি কোটি টাকা নষ্ট করছে। আর গোটা শহর পড়ছে হুমকির মুখে।’

এদিকে অনুসন্ধানে জানা গেছে, গত পাঁচ বছরে পাউবো রাজশাহী শহর রক্ষা বাঁধ সংরক্ষণের নামে অন্তত ১০০ কোটি টাকা খরচ করেছে। কিন্তু রাজশাহীর বুলনপুর থেকে নগরীর তালাইমারী পর্যন্ত শহর রক্ষা বাঁধের বিভিন্ন অংশে প্রতিবছর ফাটল দেখা দিচ্ছে। গত বছর নগরীর পঞ্চবটি এলাকায় প্রায় পাকা রাস্তাসহ ৫০ মিটার বাঁধ সম্পূর্ণ নদীগর্ভে তলিয়ে যায়। অথচ সেখানে বাঁধ সংরক্ষণ প্রকল্পের নামে কোটি কোটি টাকা খরচ করা হয়েছে। এ ছাড়া নগরীর বুলনপুর ও শ্রীরামপুরে প্রতিবছর বর্ষা মৌসুম এলে হাজার হাজার বস্তা জিওব্যাগ ফেলা হয়। কিন্তু বর্ষা শেষে পানি কমতে শুরু করলে দেখা দেয় ভাঙন। আবার তখন নতুন প্রকল্প করে ফেলা হয় জিওব্যাগ। কখনো জরুরি প্রকল্প করেও জিওব্যাগ ফেলা হয়।

জানতে চাইলে রাজশাহী পাউবোর উপসহকারী প্রকৌশলী মাহাবুব রাসেল বলেন, ‘গত বছর কোনো অনিয়ম হয়েছে কি না বলতে পারব না। তবে এখন বাঁধে ভাঙন দেখা দেওয়ায় জরুরি ভিত্তিতে জিওব্যাগ ফেলা হচ্ছে। গতবার যখন মেরামত করা হয়, তখন সব চেষ্টাই করা হয়েছে। কিন্তু বাঁধের ভাঙন রোধ করা যাচ্ছে না।’

পাউবো রাজশাহীর নির্বাহী প্রকৌশলী মুখলেছুর রহমান এ নিয়ে কোনো কথা বলতে রাজি হননি।



মন্তব্য