kalerkantho


সীমান্ত দিয়ে ভারতে পাচার হচ্ছে তিন জাতের মাছের পোনা

দিনাজপুর প্রতিনিধি   

২৪ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ০০:০০



দিনাজপুরের হাকিমপুরের হিলি সীমান্ত এলাকা দিয়ে ভারতে শিং, পাবদা ও পাঙ্গাশ মাছের পোনা পাচার বেড়ে গেছে। একাধিক কারণে এই তিন জাতের পোনা পাচার হচ্ছে বলে জানা গেছে। গত পাঁচ মাসে ভারতে পাচারের সময় ২২৪ কেজি শিং ও পাবদা মাছের পোনা আটক করা হয়েছে। ফলে সীমান্তে নজরদারি বাড়িয়েছে বিজিবি।

বিজিবি হিলির মোংলা বিওপি ও বাসুদেবপুর ক্যাম্প সূত্র জানায়, ১১ মার্চ পাচারের সময় শিং মাছের ৩০ হাজার পোনা জব্দ করেন হিলির বাসুদেবপুর ক্যাম্পের বিজিবি সদস্যরা। ২৬ এপ্রিল শিং মাছের ১৫ হাজার পোনা জব্দ করেন মোংলা ক্যাম্পের বিজিবি সদস্যরা। ৩১ জুলাই পাবদা মাছের ২৫ হাজার পোনা জব্দ করেন বাসুদেবপুর ক্যাম্পের বিজিবি সদস্যরা। ১৮ ও ২৩ আগস্ট শিং মাছের ১৩৮ কেজি পোনা জব্দ করেন বাসুদেবপুর ও মোংলা ক্যাম্পের বিজিবি সদস্যরা। একইভাবে ১৪ ও ১৯ সেপ্টেম্বর ৭১ কেজি শিং মাছের পোনা জব্দ করেন বাসুদেবপুর ও মোংলা ক্যাম্পের বিজিবি সদস্যরা।

হিলির মাছ চাষি ও ব্যবসায়ী, সুরমা মৎস্য আড়তের মালিক জাহিদুল ইসলাম জানান, বাংলাদেশে শিং, পাবদা ও পাঙ্গাশ মাছের রেণু, ডিম ও পোনার উৎপাদন ভালো। পক্ষান্তরে ভারতের মৎস্যসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা অনেক চেষ্টা করেও তাদের দেশের পুকুরে শিং, পাবদা ও পাঙ্গাশ মাছের পোনা উৎপাদন করতে পারছে না। এ কারণে ভারতের বাজারে বাংলাদেশের শিং, পাবদা ও পাঙ্গাশের পোনার চাহিদা ব্যাপক। এ ছাড়া বাংলাদেশের বাজারে এসব মাছের পোনার যে দাম পাওয়া যায় তার চেয়ে প্রায় দ্বিগুণ দাম ভারতে পাওয়া যায়। বাংলাদেশে এক লাখ শিং মাছের পোনার দাম প্রকারভেদে যেখানে ৭০ হাজার থেকে ৭৫ হাজার টাকা, সেখানে ভারতে একই পরিমাণ মাছের পোনার দাম দুই লাখ টাকা। আবার পাবদা মাছের এক লাখ পোনার দাম বাংলাদেশে ৬০ থেকে ৬৫ হাজার টাকা, যার দাম ভারতে প্রায় দুই লাখ টাকা। এ কারণে সীমান্ত পথ দিয়ে ভারতে শিং ও পাবদা মাছের পোনা পাচার হচ্ছে।

একই কথা জানান হিলি স্থলবন্দর আমদানি-রপ্তানিকারক গ্রুপের সভাপতি হারুন উর রশীদ হারুন। তিনি বলেন, ‘ভারত শিং, পাবদা ও পাঙ্গাশ মাছের পোনা উৎপাদন করতে পারে না। এ কারণে সে দেশের বাজারে আমাদের দেশের শিং, পাবদা ও পাঙ্গাশের পোনার ব্যাপক চাহিদা আছে। এসব মাছের পোনা বাংলাদেশ থেকে ভারতে রপ্তানি করা হয় না। ভারতের অভ্যন্তরে কাস্টমসে উচ্চপদস্থ কর্মকর্তার পদায়ন না থাকাসহ আরো কিছু কারণে তা রপ্তানি করা সম্ভব হচ্ছে না। এ কারণে সীমান্ত দিয়ে বাংলাদেশ থেকে ভারতে পোনা পাচার হয়ে যাচ্ছে।’ তিনি আরো বলেন, পোনা পাচারের কারণে সরকার যেমন রাজস্ব আহরণ থেকে বঞ্চিত হচ্ছে, তেমনি বাণিজ্যিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে বাংলাদেশের পোনা ব্যবসায়ীরা। এ ব্যাপারে বিজিবি হিলির বাসুদেবপুর কম্পানির কমান্ডার সুবেদার জয়েন উদ্দিন বলেন, ‘সীমান্ত দিয়ে ভারতে বাংলাদেশের মাছের পোনা পাচার বেড়েছে। আমরা প্রায়ই পোনা আটক করছি। তাই সীমান্তগুলোতে নজরদারি বাড়ানো হয়েছে, যাতে মাছের পোনা পাচার হয়ে যেতে না পারে।’



মন্তব্য