kalerkantho


শ্রীমঙ্গলে খাদ্যের সন্ধানে লোকালয়ে অজগর

শ্রীমঙ্গল (মৌলভীবাজার) প্রতিনিধি   

২৪ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ০০:০০



শ্রীমঙ্গলের রাধানগর গ্রামে অজগর আতঙ্ক দেখা দিয়েছে। বিশালাকৃতির অজগর লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যান থেকে খাবারের সন্ধানে লোকালয়ে ঢুকে হাঁস-মুরগি-ছাগল গিলে খাচ্ছে। কিন্তু গৃহস্থরা কোনো ক্ষতিপূরণ পাচ্ছে না।

গ্রামবাসী জানায়, গত ছয়-সাত মাসে ৮-১০টি ছাগলসহ অসংখ্য হাঁস-মুরগি অজগরের পেটে গেছে। এমন ১০টি অজগর গ্রামবাসীর হাতে ধরা পড়েছে। পরে বন্য প্রাণী সেবা ফাউন্ডেশনের মাধ্যমে অজগরগুলো লাউয়াছড়া বনে ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছে।

শ্রীমঙ্গল উপজেলার সদর ইউনিয়নের একটি গ্রাম রাধানগর। লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যানসংলগ্ন এ গ্রামে প্রায় ২০০টি পরিবারের বাস। গ্রামের বাসিন্দা ছালিমা বেগম। তিন বছর আগে তাঁর স্বামী মারা গেছেন। ১২ বছরের প্রতিবন্ধী একটি ছেলে আর আট বছরের একটি মেয়েকে নিয়ে খুব কষ্টে দিন পার করছেন। হাঁস-মুরগি-ছাগল পালন করে সংসার চালান। গত ১২ সেপ্টেম্বর তার একটি ছাগল অজগর গিলে খাওয়ার চেষ্টা করে। গ্রামবাসী অজগরের গ্রাস থেকে ছাগলটিকে মৃত অবস্থায় উদ্ধার করে। পরে অজগরটি ধরে বন্য প্রাণী সেবা ফাউন্ডেশনের মাধ্যমে লাউয়াছড়া বনে ছেড়ে দেওয়া হয়। এর আগেও ছালিমা বেগমের আরো তিনটি ছাগল অজগরের পেটে গেছে।

ছালিমা বেগম বলেন, ‘বহু বছর ধরে আমি ইখানো আছি। অজগরের এত উৎপাত আগে দেখছি না। অখন প্রায়ই মোটা মোটা অজগর গ্রামো আইয়া হাঁস-মুরগি-ছাগল ধরি ধরি খায়। আমারে এক টাকাও ক্ষতিপূরণ দিছে না বন বিভাগ।’

গ্রামবাসীরা জানায়, গত ছয় মাসের মধ্যে অভিরত রুহীদাসের দুটি, গণেশ নুুনিয়ার একটি ও ফজলু মিয়ার একটি ছাগল অজগর গিলে খেয়েছে। এ ছাড়া ভানু মুণ্ডা, ফয়জুল মিয়া, সালমা বেগম, খালেদা আক্তার, বাচ্চু মিয়া, আলাই মিয়া, বকুল মিয়া, ইউসুফ মিয়া ও ফজলু মিয়ার ৩০-৩৫টি হাঁস-মুরগি অজগরের পেটে গেছে। সম্প্রতি গ্রামের খালেদা আক্তার ও ইসমাইল মিয়ার ঘরের ভেতর থেকে বিশালাকৃতির দুটি অজগর উদ্ধার করা হয়।

রাধানগর গ্রামের বাসিন্দা লাউয়াছড়া সহব্যবস্থাপনা কমিটির সাবেক সদস্য মো. শামসুল হক বলেন, সহব্যবস্থাপনা কমিটির মাধ্যমে লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যান পরিচালিত হয়। উদ্যানে প্রবেশের টিকিট বিক্রি করে যে আয় হয়, এর একটা অংশ থেকে আগে বন্য প্রাণীর দ্বারা ক্ষতিগ্রস্ত স্থানীয় গ্রামবাসীকে ক্ষতিপূরণ দেওয়া হতো। কিন্তু এখন গ্রামবাসী ক্ষতিপূরণ পাচ্ছে না।

বন বিভাগের বন্য প্রাণী শাখার এসিএফ আনিসুর রহমান বলেন, লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যানে এখন কোনো প্রকল্প নেই। বনের আয়ের সম্পূর্ণ অংশই সরকারের কোষাগারে জমা দিতে হয়। আয়ের অর্ধেক বনের উন্নয়নে খরচ করা যায়। তবে এর প্রস্তাব ঢাকায় পাঠাতে হয়। অনুমোদন হলে বরাদ্দ মেলে।

ক্ষতিগ্রস্তদের ক্ষতিপূরণ দেওয়া প্রসঙ্গে এসিএফ বলেন, বন আইনে শুধু বাঘ, কুমির ও হাতির দ্বারা ক্ষতিগ্রস্ত হলে ক্ষতিপূরণের বিধান আছে। তবে সহব্যবস্থাপনা কমিটি ইচ্ছা করলে বাজেটে উত্থাপন করে অনুদান তহবিল থেকে ক্ষতিপূরণ দিতে পারে। এ বিষয়ে এজেন্ডা নিয়ে সহব্যবস্থাপনা কমিটির আগামী সভায় আলোচনা করা হবে বলে জানান তিনি। একই সঙ্গে তিনি ক্ষতিগ্রস্তদের লাউয়াছড়া সহব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি ও সদস্যসচিব বরাবর আবেদন করার পরামর্শ দেন।



মন্তব্য