kalerkantho


শ্রীমঙ্গল

ভুড়ভুড়িয়া চা বাগানে ডায়রিয়ার প্রাদুর্ভাব

এক মাসে আক্রান্ত ৮৯, মৃত্যু ২

শ্রীমঙ্গল (মৌলভীবাজার) প্রতিনিধি   

২৩ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ০০:০০



মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে ভুড়ভুড়িয়া চা বাগানে ডায়রিয়ার প্রাদুর্ভাব দেখা দিয়েছে। গত এক মাসে এ চা বাগানের ৮৯ জন শ্রমিক ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হয়েছে। এর মধ্যে দুজন মারা গেছেন।

রোগের বিস্তার ঠেকাতে চা বাগানের স্বাস্থ্য বিভাগ ও উপজেলা স্বাস্থ্য প্রশাসন যৌথভাবে মাঠপর্যায়ে কাজ করছে। ঢাকা রোগতত্ত্ব, রোগনিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের (আইইডিসিআর) চার সদস্যের একটি টিম গত শুক্রবার ভুড়ভুড়িয়া চা বাগানে গিয়ে কাজ শুরু করেছে। ডা. অনুপম সরকার ও ডা. মো. তানভীর হোসেনের সমন্বয়ে গঠিত আইইডিসিআর-এর এই টিমটি মূলত ডায়রিয়া প্রাদুর্ভাবের কারণ অনুসন্ধান করবে।

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সূত্রে জানা যায়, গত ২৮ আগস্ট থেকে ২১ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ভুড়ভুড়িয়া চা বাগানের ডায়রিয়া আক্রান্ত ৬৮ জন শ্রমিক চিকিৎসা নিয়েছে। তাদের মধ্যে পারশ মৃধা (৪৫) নামের এক ব্যক্তি মারা গেছে।

চা বাগানের ডাক্তারখানা সূত্র জানায়, ডাক্তারখানায় একই সময়ে ডায়রিয়া আক্রান্ত ৫৮ জনকে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে বঙ্কি রিকিয়াসন (৭০) মারা গেছেন।

উপজেলা স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মীরা জানান, ভুড়ভুড়িয়া চা বাগানে গত এক মাসে ৮৯ জন ডায়রিয়া আক্রান্ত রোগী শনাক্ত করেছে তারা। বাগানের ৬ নম্বর লাইনে আক্রান্তের সংখ্যা বেশি।

গত শুক্রবার সকাল সাড়ে ১১টায় সরেজমিনে দেখা যায়, সহকারী স্বাস্থ্য পরিদর্শক কল্পনা রানী বিশ্বাস, স্বাস্থ্য সহকারী অমলেশ পুরকায়স্থ ও বিভা রানী চৌধুরী ভুড়ভুড়িয়া চা বাগানের শ্রমিক বসতিতে কাজ করছেন। তাঁরা শ্রমিকদের ঘরে ঘরে গিয়ে ডায়রিয়া আক্রান্ত রোগী শনাক্তের পাশাপাশি খাবার স্যালাইন বিতরণ করছেন।

বাগানের ডাক্তারখানায় গিয়ে দেখা গেছে, জিৎ রিকিয়াসন নামের তিন বছরের একটি শিশুকে স্যালাইন পুশ করা হচ্ছে। এ ছাড়া ডাক্তারখানায় আরো চারজন রোগী ভর্তি রয়েছে।

চা বাগানের মেডিক্যাল অফিসার ডা. সাদাত হাসান মো. আসলাম বলেন, গত ২৮ আগস্ট এ বাগানে প্রথম ডায়রিয়া দেখা দেয়। এরপর রোগীর আত্মীয়স্বজনের মাধ্যমে একজন থেকে অন্যজনে ছড়িয়ে পড়ে। তবে তারা চেষ্টা করছেন পাশের বাগানে যাতে রোগটি না ছড়ায়।

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে গিয়ে দেখা যায়, ওই চা বাগানের দুজন রোগী চিকিৎসাধীন আছেন। উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মো. জয়নাল আবেদীন টিটো বলেন, চা বাগানের ডায়রিয়া পরিস্থিতি এখন নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই। তবে স্যালাইনের কিছুটা সংকট রয়েছে। মৌলভীবাজার সিভিল সার্জন অফিস থেকে চাহিদার অর্ধেক স্যালাইন পাওয়া গেছে। বিশেষ ব্যবস্থায় ঢাকা সেন্ট্রাল স্টোর থেকে স্যালাইনের চাহিদা মেটানো প্রয়োজন বলে মন্তব্য করছেন তিনি।



মন্তব্য