kalerkantho


দূষিত পানি সরবরাহ করছে পৌরসভা!

শাহ ফখরুজ্জামান, হবিগঞ্জ   

২৩ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ০০:০০



দূষিত পানি সরবরাহ করছে পৌরসভা!

হবিগঞ্জ শহরের বেবিস্ট্যান্ডে পৌরসভার লৌহ দূরীকরণ প্লান্টে শেড না থাকায় পানি দূষিত হয়। ছবি : কালের কণ্ঠ

হবিগঞ্জ পৌরসভার লৌহ দূরীকরণ প্লান্ট থেকে প্রতিনিয়ত সরবরাহ করা হচ্ছে দূষিত পানি। অস্বাস্থ্যকর ও দুর্গন্ধযুক্ত এ পানি পান করে শহরবাসী জন্ডিসসহ নানা রোগে আক্রান্ত হচ্ছে। এর পরও বিষয়টি নিয়ে কর্তৃপক্ষ উদাসীন। আর শহরবাসীর মাঝে বিরাজ করছে চাপা ক্ষোভ ও আতঙ্ক।

পৌরসভার সরবরাহ করা এ পানি পান করে এরই মধ্যে হবিগঞ্জ নার্সিং ইনস্টিটিউটের ১৩ শিক্ষার্থী, পুলিশ সদস্য, সাংবাদিক, অ্যাডভোকেটসহ দেড় শতাধিক লোক জন্ডিসে আক্রান্ত হয়েছে। এ ছাড়া টাইফয়েডসহ পানিবাহিত নানা অসুখে আক্রান্ত হচ্ছে পৌরবাসী। অচিরেই এ ব্যাপারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা না নিলে এটি মহামারি আকার ধারণ করবে বলে আশঙ্কা করছে সচেতন মহল।

গত বৃহস্পতিবার সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, হবিগঞ্জ শহরের বেবিস্ট্যান্ড এলাকায় পৌর পানি সরবরাহ প্রকল্পের লৌহ দূরীকরণ প্লান্টে শেড না থাকায় পানিতে পড়ছে পাখির বিষ্ঠা। এ ছাড়া প্লান্টের স্তরে স্তরে আছে শেওলাসহ বিভিন্ন ধরনের ময়লা-আবর্জনা। প্রায় দুই ঘণ্টা অপেক্ষার পরও প্লান্টে কর্তব্যরত কাউকে পাওয়া যায়নি। প্রবেশপথের কোথাও তালা না থাকায় প্লান্টটি একেবারেই অরক্ষিত। যেকোনো সময় যে কেউ প্লান্টে ঢুকতে পারছে। ফলে ঘটতে পারে দুর্ঘটনা।

স্থানীয় বাসিন্দা আবু তাহের মিয়া জানান, প্লান্টটির নিচতলায় সার্বক্ষণিক একজন লোক থাকার কথা। কিন্তু সেখানে দিনের বেশির ভাগ সময়ই কেউ থাকে না। ফলে যে কেউ প্রবেশ করতে পারছে এই গুরুত্বপূর্ণ স্থানে।

এ ব্যাপারে হবিগঞ্জ পৌর এলাকার স্টাফ কোয়ার্টারের ফজিলাতুন নেছা জানান, পৌরসভার পানি ময়লা ও দুর্গন্ধযুক্ত। এ পানি পান করে এক সপ্তাহ ধরে তাঁর গলায় সমস্যা দেখা দিয়েছে। 

এ ছাড়া অসংখ্য পৌর নাগরিক দুর্গন্ধযুক্ত পানির ব্যাপারে অভিযোগ জানালেও নেওয়া হচ্ছে না কার্যকরী কোনো উদ্যোগ।

হবিগঞ্জ শেখ হাসিনা মেডিক্যাল কলেজের সহকারী অধ্যাপক ডা. সোলায়মান মিয়া জানান, এরই মধ্যে তাঁর কাছে জন্ডিসে আক্রান্ত হয়ে শতাধিক লোক এসেছে। তিনি ধারণা করছেন, হবিগঞ্জ পৌরসভার অবিশুদ্ধ পানি পানের কারণেই এ অসুখ হয়েছে। নার্সিং ইনস্টিটিউটের ১৩ শিক্ষার্থী অসুস্থ হওয়ার ঘটনায় এ পানি সরবরাহকেই দায়ী করছেন প্রতিষ্ঠানটির ইনচার্জ রেহানা খাতুন। শিগগিরই এ ব্যাপারে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন বলে মনে করছেন তাঁরা।

হবিগঞ্জ পৌরসভার স্যানিটারি ইন্সপেক্টর অবনী কুমার দত্ত জানান, এ ব্যাপারে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া হবে।



মন্তব্য