kalerkantho


গাসিক টঙ্গী আঞ্চলিক কার্যালয়

পরিত্যক্ত ভবনে চলছে দাপ্তরিক কার্যক্রম

টঙ্গী (গাজীপুর) প্রতিনিধি   

২১ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ০০:০০



পরিত্যক্ত ভবনে চলছে দাপ্তরিক কার্যক্রম

গাসিক টঙ্গী আঞ্চলিক কার্যালয়ের জরাজীর্ণ ভবন। ছবি : কালের কণ্ঠ

দেয়ালের পলেস্তারা খসে খসে পড়ছে। ছাদের রড বেরিয়ে গেছে। ইটের গাঁথুনিতে বড় বড় ফাটল। ফাটলের ভেতর থেকে বট-অশ্বত্থগাছ শাখা মেলে ছড়িয়ে পড়ছে। একটু বৃষ্টি হলেই মেঝে হয় পানিতে সয়লাব। এ চিত্র গাজীপুর সিটি করপোরেশনের (গাসিক) টঙ্গী আঞ্চলিক কার্যালয় ভবনের। এক যুগেরও বেশি সময় আগে পরিত্যক্ত ঘোষণা করা জীর্ণ এ ভবনে ঝুঁকির মধ্যেই চলছে দাপ্তরিক কার্যক্রম। ভবনের ভেতরে সবাই ভয়ে থাকে—কখন কোন দুর্ঘটনা ঘটে।

ভবনটি এখন আর ব্যবহারের যোগ্য নেই। অভ্যন্তরীণ অর্থসংস্থান ও মন্ত্রণালয়ের অর্থ প্রাপ্তির সুযোগ না থাকায় ব্যবহারের অযোগ্য, পরিত্যক্ত ও ঝুঁকিপূর্ণ ভবনেই সব কার্যক্রম চালানো হচ্ছে। সিটি করপোরেশনের অর্গানোগ্রাম অনুসারে জনবল বৃদ্ধিতে প্রয়োজনীয় স্থান সংকুলান ও ব্যবহারযোগ্য নতুন ভবন তৈরি অতি জরুরি হয়ে পড়েছে।

ষাটের দশকের প্রথম দিকে টঙ্গী ইউনিয়ন পরিষদের কার্যালয় হিসেবে ভবনটি ব্যবহৃত হয়। এরপর ১৯৭৪ সালে টঙ্গী পৌরসভা প্রতিষ্ঠা হলে এ ভবনেই কার্যক্রম শুরু হয়। ৬৭ শতাংশ জমির ওপর স্থাপিত ব্রিক ফাউন্ডেশনের ‘টঙ্গী পৌর ভবন’ এক যুগ আগে পরিত্যক্ত ঘোষণা করা হয়। ভবনটি ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের পাশেই অবস্থিত। অতি পুরনো এই ভবনে বসবাস করা বিপজ্জনক হয়ে পড়েছে। অন্যদিকে মহাসড়ক ও আশপাশের এলাকা থেকে অপেক্ষাকৃত নিচু জমিতে এর অবস্থান হওয়ায় একটু বৃষ্টিতে ভবনের ভেতরে পানি জমে যায়। সম্প্রতি ভবনের নিচতলায় মাটি ফেলে মেঝে কিছুটা উঁচু করা হলেও এখনো ভেতরে ঢুকতে হয় মাথা নিচু করে।

গাসিক টঙ্গী কার্যালয়ের বিদ্যুৎ বিভাগের প্রধান প্রকৌশলী মতিউর রহমান মতি বলেন, ‘পুরনো এই ভবনটি এমনি ঝুঁকিপূর্ণ যে এতে বসে কাজ করতে ভয় হয়। দুর্বল হয়ে যাওয়া ভবনটির সামনে হোয়াইট ওয়াশ করলেও ভেতরের ইট, বালু, রড—সব কিছুই নষ্ট হয়ে গেছে। যেকোনো সময় ঘটতে পারে বড় ধরনের দুর্ঘটনা।’

২০১৩ সালে গাসিক প্রতিষ্ঠা হওয়ার পর ভবনটি গাসিকের টঙ্গী আঞ্চলিক কার্যালয় হিসেবে ব্যবহার করা শুরু হয়। বর্তমানে এ ভবনে সিটি করপোরেশনের প্রকৌশল, প্রশাসন, স্বাস্থ্য, কর, কনজারভেন্সি ও লাইসেন্স বিভাগসহ অর্ধশতাধিক শাখা দপ্তর অফিস আছে। ব্যবহার অযোগ্য এই ভবনের পুরোটাই ভিজে, স্যাঁতসেঁতে থাকায় আসবাব, জরুরি কাগজপত্রসহ সব জিনিসপত্র নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। সিটি করপোরেশন সূত্রে জানা যায়, বর্তমানে গাসিক প্রায় ১৪০ কোটি টাকা ঋণের মাঝে আছে। ফলে নিজস্ব অর্থায়নে নতুন ভবন তৈরি সম্ভব না হওয়ায় ২০১৭ সালে ৯৯ কোটি টাকা ব্যয় নির্ধারণ করে ১৪ তলা একটি আধুনিক ভবন তৈরির প্ল্যান ডিপিপি (ডেভেলপমেন্ট প্রজেক্ট প্রপোজাল) সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়। মন্ত্রণালয় প্রকল্পটি গ্রহণ করেনি।

গাসিকের টঙ্গী আঞ্চলিক কার্যালয়ের নির্বাহী প্রকৌশলী লেহাজ উদ্দিন বলেন, সিটি করপোরেশনের সব কার্যক্রম সুষ্ঠুভাবে পরিচালনার জন্য নতুন ভবন তৈরি জরুরি হয়ে পড়েছে। এ ব্যাপারে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের হস্তক্ষেপ প্রয়োজন।



মন্তব্য