kalerkantho


রাঙ্গাবালীর চরনজির দ্বীপ

‘আদর্শলিপি’ই ভরসা

রাঙ্গাবালী (পটুয়াখালী) প্রতিনিধি   

২১ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ০০:০০



চরনজির। পটুয়াখালীর রাঙ্গাবালীর ছোটবাইশদিয়া ইউনিয়নের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন ছোট্ট দ্বীপ এটি। আশির দশকে বুড়াগৌরাঙ্গ নদীর কোলঘেঁষে এ দ্বীপের সৃষ্টি হয়। পরে আশপাশের এলাকার লোকজন এসে এখানে বসতি গড়ে তোলে। দিন দিন জনসংখ্যা বৃদ্ধি পেলেও এখানে সরকারি কিংবা বেসরকারি কোনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান গড়ে ওঠেনি। ফলে এখানকার ছেলেমেয়েদের পড়াশোনা এখনো ‘আদর্শলিপি’তে আটকে আছে।

উপজেলা সদর থেকে মোটরসাইকেলে করে সাড়ে তিন কিলোমিটার পথ অতিক্রম করে গহীনখালী খেয়াঘাট যেতে হয়। সেখান থেকে ছোট নৌকায় করে বুড়াগৌরাঙ্গ নদী পাড়ি দিয়ে পৌঁছাতে হয় চরনজির দ্বীপে। এতে প্রায় ৪৫ মিনিট সময় লাগে।

সদর ইউনিয়ন থেকে সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন থাকায় সব ধরনের নাগরিক সুবিধা বঞ্চিত হচ্ছে চরনজিরবাসী। সহস্রাধিক লোকের বাস এ ছোট্ট দ্বীপে। প্রকৃতি আর ভূপতিদের সঙ্গে সংগ্রাম করে বেঁচে আছে তারা। বন্যা নিয়ন্ত্রণে বেড়িবাঁধ না থাকায় জোয়ারের পানিতে ভেসে যায় ঘরের সবকিছু। ভাটির টানে শুকিয়ে যায় গোসলের পানিটুকু। দুঃখই যেন তাদের প্রতিদিনের সঙ্গী। এখানকার ছেলেমেয়েরা ‘আদর্শ লিপি’র মাধ্যমে অক্ষরজ্ঞান চেনে। তাদের পড়াশোনার জন্য কোনো শিক্ষালয় নেই। তাই অল্প বয়সেই নদীতে মাছ ধরা ও ক্ষেতে চাষবাসের মতো কাজ বেছে নেয় তারা।

চরনজিরের বাসিন্দা সাইদুল মিয়া আক্ষেপ করে বলেন, ‘আমাগো সন্তানগো বুঝি কোনোদিন ল্যাহাপড়া করার সুযোগ অইবো না। আমনেরা (সাংবাদিকরা) সরকারের কাছে আমাগো সন্তানের লাইগ্যা (জন্য) একটা স্কুল দাবি করেন।’

আরেক বাসিন্দা মমতাজ বেগম বলেন, ‘এইহানে স্কুল নাই। মোর মাইয়া ক্লাস টুয়ে পড়ে, অর নানাবাড়ি থাইক্কা। স্কুল বন্ধ পরলে এইহানে আয়। কী করমু, এইহানের তোন যাইয়া-আইয়া তো আর ল্যাহাপড়া করা যায় না। ওইহানে থাইক্কাই পড়ে।’

উপজেলা চেয়ারম্যান মো. দেলোয়ার হোসেন বলেন, ‘আমরা বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানাব।’ ভারপ্রাপ্ত উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা গোলাম সগির বলেন, ‘যেসব চরে স্কুল নেই সেগুলোর প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। কিন্তু আগে প্রজেক্ট ছিল না। এখন এক হাজার স্কুলের প্রজেক্ট ছাড়ছে। ওই প্রজেক্টে ওই সব চরে স্কুল হবে বলে আশা করা যায়।’



মন্তব্য