kalerkantho


এবার সাড়ে চার কিলোমিটার সড়কের গাছ সাবাড়

গাইবান্ধা প্রতিনিধি   

২১ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ০০:০০



এবার সাড়ে চার কিলোমিটার সড়কের গাছ সাবাড়

গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার সাপমারা ইউনিয়নে সাড়ে চার কিলোমিটার সড়কের ইউক্যালিপটাসসহ বিভিন্ন প্রজাতির গাছ কেটে সাবাড় করা হয়েছে। ছবি : কালের কণ্ঠ

গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার সাপমারা ইউনিয়নে সাড়ে চার কিলোমিটার সড়কের ইউক্যালিপটাসসহ বিভিন্ন প্রজাতির গাছ কেটে সাবাড় করা হয়েছে। এসব গাছের আনুমানিক মূল্য প্রায় এক কোটি টাকা। গাছ কাটার ফলে সড়কের উভয় পাশের আমন ধানের ক্ষেতও ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

এলাকাবাসী জানায়, সামাজিক বনায়ন কর্মসূচির আওতায় সংশ্লিষ্ট সমিতির সদস্যরা খামারপাড়া বটতলা থেকে বৈরাগীর হাট সড়কে চৌহুদপুর ও পজয়পুর গ্রামজুড়ে প্রায় এক যুগ আগে এসব গাছ রোপণ করেন। কিন্তু কোনো ধরনের নিয়ম না মেনে গাছগুলো টেন্ডার ছাড়াই ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান (ইউপি) চেয়ারম্যান শাকিল আকন্দ বুলবুল ও সমিতির সভাপতি দাবিদার আব্দুল করিম বিক্রি করে দিয়েছেন। এলাকাবাসীর অভিযোগ, তড়িঘড়ি করে শুধু দিনে নয়, রাতেও গাছ কেটে ট্রাকে তুলে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। আর রাস্তার দুই পাশের জমিতে কাটা গাছ পড়ে আমন ধানের ক্ষেতের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। এসব গাছের ক্রেতা গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার কাইয়ারগঞ্জ এলাকার কাঠ ব্যবসায়ী রানু মিয়া জানান, তিনি প্রায় দুই বছর আগে ১৫ লাখ টাকা দিয়ে ৮০৩টি গাছ কিনেছেন। সাপমারা ইউপি চেয়ারম্যান শাকিল আকন্দ বুলবুল ও সামাজিক বনায়ন সমিতির সভাপতি আব্দুল করিমের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে এসব গাছ তিনি কিনেছেন। গত তিন মাস আগে তিনি গাছ কাটা শুরু করেন। ওই সব গাছ এখনো তিনি কেটে নিচ্ছেন।

সামাজিক বনায়ন সমিতির সভাপতি দাবিদার আব্দুল করিম বলেন, ‘উপকারভোগী হিসেবে আমরা গাছগুলো ইউপি চেয়ারম্যান বুলবুলের মাধ্যমে কাঠ ব্যবসায়ী রানু মিয়ার কাছে বিক্রি করে দিয়েছি।’ তবে গাছের সংখ্যা কত, তা তিনি বলতে পারেননি। তাঁর সাফ জবাব, ‘আমি আর কিছু জানি না, সব জানেন চেয়ারম্যান।’

এ ব্যাপারে সংশ্লিষ্ট এলাকার উপকারভোগীরা জানান, গাছ কেটে ফেলার ক্ষেত্রে তাঁদের কোনো টাকা-পয়সা দেওয়া হয়নি। বিষয়টি চেয়ারম্যান ও সমিতির সভাপতি সমঝোতা করেই করেছেন। এ বিষয়ে জানতে ইউপি চেয়ারম্যান শাকিল আহম্মেদ বুলবুলের মোবাইল ফোনে বহুবার কল দিলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

এ ব্যাপারে গোবিন্দগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রামকৃষ্ণ বর্মণের সঙ্গে কথা হলে তিনি জানান, এসব গাছ কাটতে ইউনিয়ন পরিষদ হয়ে সংশ্লিষ্ট উপজেলা কমিটির অনুমোদন নিতে হয়। সর্বোপরি জেলা প্রশাসক ওই অনুমোদন চূড়ান্ত করেন। কিন্তু সাপমারা ইউনিয়নের গাছ কাটার ব্যাপারে নিয়ম-কানুনই মানা হয়নি। এ ব্যাপারে তিনি কিছুই জানেন না।

এর আগে গোবিন্দগঞ্জের তালুককানুপুর ইউনিয়নেও একই কায়দায় সহস্রাধিক গাছ কেটে নেওয়া হয়েছে।



মন্তব্য