kalerkantho


ফরিদপুর ও মৌলভীবাজার

হাসপাতালে ‘অবহেলায়’ দুই রোগীর মৃত্যু, ক্ষোভ-ঘেরাও

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফরিদপুর ও শ্রীমঙ্গল (মৌলভীবাজার) প্রতিনিধি   

২১ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ০০:০০



মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নার্সের অবহেলায় এক চা শ্রমিকের মৃত্যুর অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় মৃতের স্বজনরা গতকাল বৃহস্পতিবার সকাল ৬টা থেকে ৮টা পর্যন্ত কমপ্লেক্সের চিকিৎসক-নার্সদের ঘেরাও করে রাখে।

জানা যায়, ফিনলে চা কম্পানির ভুড়ভুড়িয়া চা বাগানের শ্রমিক পারশ মৃধা (৪৫) ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হয়ে বুধবার সকালে চা বাগানের ডিসপেনসারিতে ভর্তি হন। উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. জয়নাল আবেদীন টিটোর পরামর্শে তাঁকে বুধবার দুপুরে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে স্থানান্তর করা হয়। বৃহস্পতিবার ভোর ৫টায় চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়।

পারশের ছেলে রিপন মৃধার অভিযোগ, বুধবার রাত ১২টার পর থেকে তাঁর বাবার কোনো চিকিৎসা হয়নি। রাত ২টার দিকে তাঁর অবস্থার অবনতি হলে রিপন গিয়ে দেখেন কর্তব্যরত নার্স তাঁর কক্ষের দরজা ভেতর থেকে বন্ধ করে ঘুমিয়ে পড়েছেন। পরে রিপন বহুবার ডিউটি রুমের দরজায় ডাকাডাকি করলেও নার্স সাড়া দেননি। ভোর ৪টার দিকে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি অন্য রোগীর স্বজনরা ওই কক্ষের দরজায় জোরে ধাক্কা ও লাথি দিলে নার্স দরজা খুলে তাঁদের গালাগাল করেন। রোগীর অবস্থার কথা তাঁকে জানানো হলে তিনি প্রায় এক ঘণ্টা পর ভোর পৌঁনে ৫টার দিকে রোগীকে দেখতে যান।

পারশের মৃত্যুর পর তাঁর ও অন্য রোগীর স্বজনরা ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন। তাঁরা কমপ্লেক্স ঘেরাও করে রাখেন। পুলিশ গিয়ে তাঁদের শান্ত করে। পরে কালীঘাট ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান প্রানেশ গোয়ালা, ফিনলের ভাড়াউড়া ডিভিশনের ডিজিএম গোলাম মোহম্মদ শিবলী, ভুড়ভুড়িয়া চা বাগানের পঞ্চায়েতের সভাপতি সুধীর রিকিয়াশনসহ অন্যদের নিয়ে ডা. জয়নাল আবেদীন টিটো বৈঠক করেন। বৈঠক শেষে ডা. টিটো অভিযুক্ত নার্সের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়ে অবরুদ্ধ অবস্থা থেকে মুক্ত হন।

চেয়ারম্যান প্রানেশ গোয়ালা বলেন, স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি অন্য রোগীর স্বজনদের সাক্ষ্য থেকে রিপনের অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেছে। যথাসময়ে নার্সকে পাওয়া গেলে হয়তো এই মৃত্যু ঠেকানো যেত।

ডা. জয়নাল আবেদীন টিটো বলেন, অভিযুক্ত নার্সের বিরুদ্ধে তদন্ত করে ব্যবস্থা নিতে তিনি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ বরাবর চিঠি দিচ্ছেন।

এদিকে ফরিদপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে বুধবার রাতে চিকিৎসকের অবহেলায় মালা দেবনাথ (২০) নামের এক রোগীর মৃত্যুর অভিযোগ পাওয়া গেছে। রোগীর বাড়ি ঝিনাইদহের পুরনো হাটখোলা-চাকলাপাড়ায়।

মৃতের পরিবার জানায়, মালা দেবনাথ বুধবার বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে শ্বাসকষ্ট নিয়ে ফরিদপুর মেডিক্যাল কলেজ (ফমেক) হাসপাতালের মেডিসিন ওয়ার্ডে ভর্তি হন। সন্ধ্যায় কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁকে কোনো চিকিৎসা না দিয়ে মহিলা সার্জারি বিভাগে পাঠিয়ে দেন। এদিকে সার্জারি বিভাগে কর্মরত চিকিৎসক লুৎফুর রহমান না থাকায় রোগীকে কোনো চিকিৎসাই দেওয়া হয়নি।

মালা দেবনাথের স্বামী রতন দেবনাথ বলেন, ‘শ্বাসকষ্টের কারণে রোগীর অবস্থা যখন সংকটাপন্ন তখন আমরা কর্তব্যরত সেবিকাদের একটি অক্সিজেনের সিলিন্ডারের ব্যবস্থা করে দিতে অনেক কাকুতিমিনতি করলেও তাঁরা কথা শোনেননি। শেষে রাত সাড়ে ১০টার দিকে বলা যায় অক্সিজেনের অভাবেই মৃত্যু হয় মালার।’

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, মালার মৃত্যুর পর রোগীর স্বজনরা হাসপাতালে চিৎকার করে ক্ষোভ প্রকাশ করতে থাকেন। খবর পেয়ে রাত পৌনে ১১টার দিকে হাসপাতালে ছুটে আসেন হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক কামদা প্রসাদ সাহা। তিনি অভিযোগ জেনে বলেন, এ বিষয়ে তদন্ত টিম গঠন করা হবে। দোষী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

কামদা প্রসাদ সাহা গতকাল বৃহস্পতিবার বিকেলে কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘মৃত রোগীর স্বজনরা লিখিত অভিযোগ দেননি। তবে আমি মৌখিক অভিযোগের ভিত্তিতে হাসপাতালের উপপরিচালক ডা. মো. আফজাল হোসেনকে প্রধান করে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেছি। কমিটির অন্য দুই সদস্য হলেন আরএম ডা. মো. কামরুজ্জামান এবং মেডিসিন বিভাগের সহকারী অধ্যাপক খান মো. আরিফ।’ তিনি বলেন, তিন কর্মদিবসের মধ্যে কমিটি এ ব্যাপারে প্রতিবেদন জমা দেবে।



মন্তব্য