kalerkantho


গফরগাঁওয়ে ছাত্রীকে পিটিয়ে হাসপাতালে পাঠালেন শিক্ষক

গফরগাঁও (ময়মনসিংহ) প্রতিনিধি   

২০ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ০০:০০



ছাত্র-ছাত্রীকে পেটানো আইনত নিষিদ্ধ থাকার পরও ময়মনসিংহের গফরগাঁও উপজেলা সদরে এক শিক্ষক শ্রেণিকক্ষে নবম শ্রেণির এক ছাত্রীকে পিটিয়ে আহত করেছেন। ওই ছাত্রীকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। গতকাল বুধবার সকালে গফরগাঁও খায়রুল্লাহ সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে এ ঘটনা ঘটে।

জানা গেছে, সকাল সাড়ে ৯টার দিকে খায়রুল্লাহ সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে নবম শ্রেণির কোচিং ক্লাস চলছিল। এ সময় সহকারী শিক্ষক মাহমুদুর রহমান শিক্ষার্থীদের একটি কম্পোজিশন লিখতে দেন। কিছুক্ষণ পর শিক্ষার্থী সাদিয়া নওশিন লুব্ধি ‘স্যার, আমার কাগজ শেষ হয়ে গেছে, কাগজ লাগবে’ বলতেই ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন শিক্ষক মাহমুদুর। ‘তোর সব কিছুতেই ভণ্ডামি’ বলেই হাতে থাকা স্টিলের স্কেল দিয়ে লুবদিকে পেটাতে থাকলে সে অজ্ঞান হয়ে পড়ে।

পরে অন্য শিক্ষার্থীরা অফিস কক্ষে এনে নাকে-মুখে পানি ছিটালে জ্ঞান ফেরে লুবদির। পরে তাকে চিকিৎসার জন্য উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। শিক্ষার্থীরা জানায়, শিক্ষক মাহমুদুর সব ছাত্রীকেই তুই-তোকারি করে কথা বলেন।

লুব্ধির বাবা গফরগাঁওয়ের একটি নিম্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক। তিনি বলেন, ‘শিক্ষার্থীদের পিটুনি দিয়ে পড়ানো সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। নবম শ্রেণির ছাত্রী ছোট নয়। শিক্ষক পিটুনি দিয়ে জঘন্য অপরাধ করেছেন। আমি তাঁর বিচার চাই।’

অভিযুক্ত শিক্ষক মাহমুদুর রহমানের বক্তব্য জানতে তাঁর মোবাইল ফোনে একাধিকবার কল করলেও তিনি রিসিভ করেননি।

জানতে চাইলে খায়রুল্লাহ সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক এ কে এম মফিজুল হক বলেন, ‘নবম শ্রেণির একজন ছাত্রীকে পিটুনি দেওয়া খুবই অন্যায় হয়েছে। এ ব্যাপারে অভিযুক্ত শিক্ষককে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে। জবাব পাওয়ার পর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

বিদ্যালয়টির বেশ কয়েকজন ছাত্রীর অভিভাবক এ প্রতিনিধিকে জানান, অভিযুক্ত শিক্ষক মাহমুদুর রহমান নিয়মিতই ছাত্রীদের সঙ্গে খারাপ আচরণ করেন। তিনি নিয়মিত স্কুলে আসেনও না। নিয়মিত ছাত্রীকে প্রাইভেট পড়তে উৎসাহিত করেন। তিনি স্কুল চলাকালীন বাসায় অতিরিক্ত ক্লাসের নামে কোচিংয়ের ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছেন। তিনি এর আগে অসদাচরণের জন্য অন্য স্কুল থেকে বদলি হয়ে এ স্কুলে আসেন। 

গফরগাঁও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ডা. শামীম রহমান বলেন, ‘এ ঘটনার জন্য আমি তাৎক্ষণিকভাবে খায়রুল্লাহ সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষককে বলে দিয়েছি অভিযুক্ত শিক্ষকের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য।’



মন্তব্য