kalerkantho


বাল্যবিয়েতে রাজি না হওয়ায় মারধর ছাত্রীর আত্মহত্যা

লক্ষ্মীপুর প্রতিনিধি   

২০ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ০০:০০



লক্ষ্মীপুরে অষ্টম শ্রেণির এক ছাত্রী বাল্যবিয়েতে রাজি না হওয়ায় মা-বাবা মারধর করায় ‘আত্মহত্যা’ করেছে। গতকাল বুধবার সকালে নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।

মৃতের নাম ইয়াসমিন আক্তার (১৫)। সে সদর উপজেলার দত্তপাড়া ইউনিয়নের সৈয়দপুর গ্রামের ইসমাইল হোসেন ও লাকী বেগমের মেয়ে এবং সৈয়দপুর বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের ছাত্রী।

স্থানীয়রা জানায়, ইয়াসমিন গত বছর জুনিয়র স্কুল সার্টিফিকেট (জেএসসি) পরীক্ষায় অংশ নিয়ে পাস করতে পারেনি। এ জন্য একই শ্রেণিতে পড়ালেখা করছে। এর মধ্যে মা-বাবা তাকে বিয়ে দেওয়ার ব্যবস্থা করেন। একপর্যায়ে ফুফাতো ভাই সমাষপুর গ্রামের কুয়েতপ্রবাসী রাশেদের (৩৫) সঙ্গে বিয়ের জন্য তাকে চাপ দেওয়া হয়। রাশেদ আগে বিয়ে করেছিলেন। তিন বছর আগে পারিবারিক কলহের জেরে বিবাহবিচ্ছেদ হয়। বিয়েতে রাজি না হওয়ায় রবিবার রাতে ইয়াসমিনকে মা-বাবা মারধর করেন। এতে সে অভিমানে পরদিন সকালে বিষপানে আত্মহত্যার চেষ্টা চালায়। পরিবার তাকে সদর হাসপাতালে ভর্তি করে। অবস্থার অবনতি ঘটলে তাকে নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। দুপুরে মরদেহ সৈয়দপুরের বাড়িতে আনা হয়। খবর পেয়ে পুলিশ মরদেহটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠায়।

দত্তপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও ওই বিদ্যালয়ের সভাপতি আহসানুল কবির রিপন বলেন, বাল্যবিয়ে দিতে ওই ছাত্রীকে পরিবার চাপ দেয়। এতে অভিমানে সে আত্মহত্যা করে।

দত্তপাড়া পুলিশ তদন্তকেন্দ্রের উপপরিদর্শক (এসআই) মজিবুর রহমান বলেন, তদন্ত করে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।



মন্তব্য