kalerkantho


সৌদি আরবে নির্যাতনের অভিযোগ

মেয়েকে ফেরত চান বাবা

সাতক্ষীরা প্রতিনিধি   

২০ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ০০:০০



সাতক্ষীরার এক তরুণীকে চাকরি দেওয়ার নামে সৌদি আরবে পাচার করে নির্যাতনের অভিযোগ করেছেন বাবা। বুধবার তিনি সাতক্ষীরা প্রেস ক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করে এ অভিযোগ করেন। তিনি মেয়েকে ফেরত ও পাচারকারীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চান।

সাতক্ষীরার ওই দিনমজুর বাবা লিখিত বক্তব্যে বলেন, তাঁর মেয়েকে (২২) হাসপাতালে ৪০ হাজার টাকা মাসিক বেতনে নার্সের চাকরি দেওয়ার নামে গত ১ ফেব্রুয়ারি বাড়ি থেকে সৌদি আরবের উদ্দেশে নিয়ে যান আন্তর্জাতিক নারী পাচার সিন্ডিকেটের সদস্য সদর উপজেলার মাগুরা কর্মকারপাড়ার নাছিমা খাতুন ও তাঁর সহযোগী খুলনা শহরের টুটপাড়ার কামরুজ্জামান ওরফে সোহাগ বাবু। পরে ঢাকার কলাবাগানের তানিয়া ট্রেড ইন্টারন্যাশনালের মাধ্যমে ওই তরুণীকে সৌদি আরবে নিয়ে দালাল ফরহাদের মাধ্যমে সমুদ্রবন্দর ‘দাম্মাম খাবজি’র কাছে দুম্বা খাটালের মালিক ‘হায়ান ম্যাডাম অরফা’র কাছে বিক্রি করা হয়। তাঁর মোবাইল ফোনটি কেড়ে নিয়ে তাঁকে বাধ্য করা হয় শারীরিক সম্পর্ক করতে। দিনে মাত্র একটি রুটি ও পানি খাইয়ে নির্যাতন চালানো হয়। সম্প্রতি বাড়িওয়ালির মোবাইল ফোন থেকে তরুণী তাঁকে নির্যাতনের কাহিনি পরিবারকে জানান। সেখানে বাংলাদেশি কয়েকজন নারীকে একইভাবে নির্যাতন করা হচ্ছে। ২৮ আগস্ট সন্ধ্যায় খুলনার সোনাডাঙ্গা থেকে সোহাগকে আটক করে র‌্যাব। সোহাগের স্বীকারোক্তি অনুযায়ী পরদিন কর্মকারপাড়া থেকে নাছিমাকে গ্রেপ্তার করে সদর থানার পুলিশ। এ ঘটনায় তরুণীর বাবা ২৯ আগস্ট নাছিমা, সোহাগসহ চারজনের বিরুদ্ধে থানায় মামলা করেন। তদন্তকারী কর্মকর্তা সদর থানার উপপরিদর্শক অনুপ কুমার দাস সোহাগকে রিমান্ড আবেদন করেন আদালতে। কিন্তু ৪ সেপ্টেম্বর শুনানিকালে দুুর্বল উপস্থাপনার কারণে আদালত রিমান্ড মঞ্জুর করেননি। পরে সোহাগের ব্যবহৃত মোবাইল ফোন দুটি তাঁর বাবার কাছে দিলে তরুণীকে আরো নির্যাতন করা হচ্ছে। গ্রেপ্তারকৃতদের আবার রিমান্ডের আবেদন জানাতে বললেও উপপরিদর্শক উদ্যোগ নিচ্ছেন না। আসামিরা জামিন পেলে মেয়েকে জীবিত দেশে আনা সম্ভব হবে না বলে আশঙ্কা বাবার।

সদর থানার উপপরিদর্শক অনুপ কুমার দাস জানান, ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে পরামর্শ করে এ বিষয়ে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।



মন্তব্য