kalerkantho


৭ কোটি টাকা হাতছাড়া

ফেরির ক্যান্টিন পরিচালনায় অনিয়ম

সাব্বিরুল ইসলাম সাবু, মানিকগঞ্জ   

১৯ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ০০:০০



বিভিন্ন রুটে বাংলাদেশ আভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন করপোরেশনের (বিআইডাব্লিউটিসি) চলাচলকারী ফেরির ক্যান্টিন পরিচালনায় অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। যথাযথভাবে ঠিকাদার নিয়োগ না দেওয়ায় সংস্থাটি প্রতিবছর কমপক্ষে সাত কোটি টাকার রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। এ ব্যাপারে প্রধানমন্ত্রীর দপ্তর, বিআইডাব্লিউটিসির চেয়ারম্যান, দুর্নীতি দমন কমিশনের চেয়ারম্যানসহ বিভিন্ন কর্তৃপক্ষের কাছে অভিযোগ করেছেন কয়েকজন ক্যাটারিং ঠিকাদার (ভেন্ডার)।

অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, প্রায় চার বছর আগে বিআইডাব্লিউটিসির ফেরি বহরে সাতটি ইউটিলিটি ফেরি যোগ হয়। প্রথম থেকেই কোনো ধরনের টেন্ডার আহ্বান না করে বিআইডাব্লিউটিসির ক্যাটারিং ম্যানেজার তাঁর পছন্দের ঠিকাদারদের দিয়ে ক্যান্টিন বা টি-স্টল পরিচালনা করে আসছেন। প্রথম তিন বছর দৈনিক মাত্র ৪৫০ টাকা ভাড়া আদায় করা হতো। বর্তমানে তিনটি ইউটিলিটি ফেরি থেকে এক হাজার ১০০ টাকা এবং বাকি চারটি থেকে এক হাজার ৫০০ টাকা করে ভাড়া আদায় করা হচ্ছে। অথচ প্রতিদিন তিন হাজার ৫০০ টাকা ভাড়া দিতে রাজি হয়ে অনেক ঠিকাদার আবেদন করলেও তাঁদের নিয়োগ দেওয়া হচ্ছে না। অভিযোগকারীদের হিসাবে এতে সংস্থাটি প্রতিদিন ১৪ হাজার, মাসে চার লাখ ২০ হাজার আর বছরে ৫০ লাখ ৪০ হাজার টাকা অতিরিক্ত আয় থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।

একইভাবে ১৪টি রো রো ফেরির মধ্যে ছয়টিতে ঠিকাদার নিয়োগ দেওয়া হলেও বাকি আটটিতে বিআইডাব্লিউটিসির কর্মচারী দিয়ে ক্যান্টিন পরিচালিত হচ্ছে। ঠিকাদাররা ভ্যাট, ট্যাক্সসহ প্রতিদিন ভাড়া দিচ্ছেন ১৯ হাজার ৫০০ টাকা। তা ছাড়া জামানত বাবদ বিআইডাব্লিউটিসির অ্যাকাউন্টে ফেরির প্রকারভেদে ১৭-২০ লাখ টাকা জমা রাখতে হচ্ছে। অথচ বিআইডাব্লিউটিসির কর্মচারী কর্তৃক পরিচালিত ক্যান্টিন কর্তৃপক্ষ প্রতিদিন ভাড়া দিচ্ছে মাত্র সাত হাজার ৮০০ টাকা। তাদের ভ্যাট ও ট্যাক্স দিতে হয় না। জামানতও রাখতে হয় না। তাদের ক্যান্টিনের যাবতীয় ব্যবহার্য জিনিসপত্র বিআইডাব্লিউটিসি সরবরাহ করে। পাশাপাশি এরা সংস্থার কর্মচারী হিসেবে বেতনও পায়।

অভিযোগকারীদের হিসাবে, প্রতিযোগিতামূলক টেন্ডারের মাধ্যমে ঠিকাদার নিয়োগ দিলে ১৪টি রো রো ফেরি থেকে বছরে কমপক্ষে ছয় কোটি টাকা অতিরিক্ত রাজস্ব আদায় করতে পারবে সংস্থাটি। একইভাবে ১০টি কে-টাইপ ফেরি থেকে আরো প্রায় এক কোটি টাকা অতিরিক্ত রাজস্ব আদায় করা সম্ভব। সে হিসাবে ইউটিলিটি, রো রো ও কে-টাইপ ফেরি থেকে বছরে গড়ে সাত কোটি টাকা অতিরিক্ত রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হচ্ছে বিআইডাব্লিউটিসি।

অভিযোগকারীরা আরো বলেন, সংস্থার লাভ না দেখে শুধু নিজের পকেট ভারী করার জন্য ক্যাটারিং ম্যানেজার টেন্ডারের মাধ্যমে ঠিকাদার নিয়োগ দিতে রাজি হচ্ছেন না। তিনি কর্মচারী কর্তৃক পরিচালিত ক্যান্টিনগুলো থেকে প্রতি মাসে কমপক্ষে চার-পাঁচ লাখ টাকা আদায় করছেন। ক্যাটারিং ম্যানেজারের মাধ্যমে বিআইডাব্লিউটিসিরি ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারাও এই টাকার ভাগ পান বলে অভিযোগ করেন তাঁরা।

বিআইডাব্লিউটিসির প্রধান কার্যালয়ের ক্যাটারিং ম্যানেজার এ এন আল শিবলীর সঙ্গে টেলিফোনে বেশ কয়েকবার যোগাযোগের চেষ্টা করলেও ফোন রিসিভ করেননি তিনি।



মন্তব্য