kalerkantho


পদ্মাপারের মৈনট ঘাট অরক্ষিত

অমিতাভ অপু, দোহার-নবাবগঞ্জ (ঢাকা)   

১৮ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ০০:০০



পদ্মাপারের মৈনট ঘাট অরক্ষিত

ঢাকার কাছাকাছি হওয়ায় মৈনট ঘাটে প্রতিদিন অসংখ্য দর্শনার্থীর সমাগম হয়। কিন্তু নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদার না থাকায় হয়রানির শিকার হয় দর্শনার্থীরা। ছবি : কালের কণ্ঠ

পদ্মা নদীবেষ্টিত দোহার উপজেলার মৈনট ঘাট ‘মিনি কক্সবাজার’ নামেই এখন বেশি পরিচিত। বর্তমানে মৈনট ঘাটকে অনেকেই পিকনিক স্পট হিসেবেও ব্যবহার করছে। প্রতিদিন হাজার হাজার দর্শনার্থী এখানে ভিড় জমাচ্ছে। কিন্তু দিন দিন এটি অরক্ষিত হয়ে পড়ছে। অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড ঠেকাতে এখানে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কোনো তৎপরতা নেই। দর্শনার্থীদের জন্য নেই কোনো নিরাপত্তাব্যবস্থা। বিগত দেড় বছরে ৯ শিক্ষার্থীর সলিলসমাধি ঘটলেও কর্তৃপক্ষের টনক নড়েনি। এ ঘাটকে ঘিরে প্রতারকচক্র সক্রিয়। দর্শনার্থীরা স্পিড বোট কিংবা ট্রলারে ঘুরতে গিয়ে নানা ধরনের প্রতারণার শিকার হচ্ছে। তাদের কাছ থেকে আদায় করা হচ্ছে অতিরিক্ত ভাড়া। পদ্মার ইলিশের নামে খাওয়ানো হচ্ছে অন্য মাছ।

এ ঘাট দিয়ে নির্বিঘ্নে মাদক নিয়ে পারাপার হচ্ছে মাদক কারবারিরা। ঘাট এলাকায় কোনো চেকপোস্ট না থাকায় অপরাধীরা থাকছে ধরাছোঁয়ার বাইরে। গত ৭ সেপ্টেম্বর গোপন সংবাদের ভিত্তিতে র‌্যাব-১১-এর নারায়ণগঞ্জ ও মুন্সীগঞ্জ ক্যাম্পের সদস্যরা জরুরি ভিত্তিতে চেকপোস্ট বসিয়ে চোরাচালানচক্রের পাঁচ সদস্যকে ২৪ কেজি সোনার বারসহ আটক করে। এর পরই ঘাটের নিরাপত্তার বিষয়টি আলোচনায় আসে।

অনুসন্ধানে জানা যায়, ঘাটের পাশে একটি পুলিশ ফাঁড়ি ও একটি নৌ পুলিশ ফাঁড়ি থাকলেও তারা দায়সারাভাবে দায়িত্ব পালন করছে। অন্যদিকে ঘাটের ইজারাদার বা দায়িত্বে থাকা ব্যক্তিরা দর্শনার্থীদের নিরাপত্তার বিষয়ে চরম উদাসীনতার পরিচয় দিচ্ছেন। যাত্রী পারাপারের ক্ষেত্রে ভাড়া আদায় ছাড়া অন্য কোনো কার্যক্রমের সঙ্গে সম্পৃক্ত হচ্ছেন না তাঁরা। বেশির ভাগ ট্রলার বা স্পিড বোটে নেই লাইফ জ্যাকেট। ফলে পদ্মার বুকে অনেকটা ঝুঁকি নিয়ে ঘুরছে দর্শনার্থীরা।

অনুসন্ধানে আরো জানা যায়, রাত নামলেই মৈনট ঘাটের চিত্র পাল্টে যায়। ঘাট ও এর আশপাশে চলে নানা ধরনের অসামাজিক কার্যকালাপ। মাদক কারবারিরা হয়ে ওঠে তৎপর। হিজড়ারা বিভিন্নভাবে প্রতারণা করে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে টাকা-পয়সা হাতিয়ে নেয়। কয়েকজন প্রভাবশালী ব্যক্তির ছত্রচ্ছায়ায় ঘাট এলাকায় এ ধরনের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড চলছে বলে জানা গেছে।

২০১৭ সালে কোরবানি ঈদের আগে প্রায় ৩৭টি গরু বোঝাই একটি ট্রলার মৈনট ঘাট থেকে ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটে। তা ছাড়া ঘাটকে ঘিরে চলছে নানা ধরনের চাঁদাবাজি। ঘাট এলাকায় অপরিকল্পিতভাবে ইট-বালুর ব্যবসা খুলে বসেছে কিছু প্রভাবশালী ও স্বার্থান্বেষী ব্যক্তি। এতে ঘুরতে আসা দর্শনার্থীরা পড়ছে চরম বিপাকে। সামান্য বাতাসে বালু উড়ে গিয়ে জামাকাপড়সহ খাবারদাবার নষ্ট হচ্ছে।

ঢাকা থেকে মৈনট ঘাটে ঘুরতে আসা বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের দপ্তর সম্পাদক বরুণ ভৌমিক নয়ন বলেন, ‘আমি মৈনট ঘাটের কথা অনেক শুনেছি। এ কারণে এখানে এসেছি। তবে এখানে এসে কোনো ধরনের নিরাপত্তাব্যবস্থা আমার চোখে পড়েনি। বিশেষ করে রাতে মৈনট তো একেবারে অরক্ষিত থাকে। এখানে যে হারে দর্শনার্থী আসছে সে তুলনায় নিরাপত্তাব্যবস্থাই নেই বললেই চলে।’

এ বিষয়ে ঘাটের ইজারাদার ডলি কনস্ট্রাকশনের কর্ণধার নাসির উদ্দিনের সঙ্গে ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাঁকে পাওয়া যায়নি। তবে ঘাটে দায়িত্বে থাকা বাশার মুন্সী বলেন, ‘মৈনট ঘাটে কোনো অনিয়ম নেই। মাদক বা চোরাচালানের বিষয়ে আমাদের কিছু জানা নেই। আমরা যাত্রীদের নিরাপত্তার জন্য লাইফ জ্যাকেট রেখেছি, কিন্তু তারা পরতে চায় না।’

দোহার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আফরোজা আক্তার রিবা বলেন, ‘এ বিষয়ে আমার জানা নেই। তবে লিখিত অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

 

 

 



মন্তব্য