kalerkantho


সোনারগাঁর পঞ্চবটী প্রাথমিক বিদ্যালয়

শত বছরেও হয়নি নিজস্ব জমি

সোনারগাঁ (নারায়ণগঞ্জ) প্রতিনিধি   

১৩ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ০০:০০



শত বছরেও হয়নি নিজস্ব জমি

সোনারগাঁর পঞ্চবটী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। ছবিটি গতকাল তোলা। ছবি : কালের কণ্ঠ

সোনারগাঁর পঞ্চবটী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার ১০৩ বছরেও নিজস্ব ঠিকানা খুঁজতে হন্যে হয়ে কর্তৃপক্ষের দ্বারে দ্বারে ঘুরছেন স্কুল ব্যবস্থাপনা কমিটির সদস্য ও শিক্ষকরা। অথচ প্রতিষ্ঠানটি শত বছর ধরে সোনারগাঁর বিভিন্ন গ্রামের শিক্ষার্থীদের নীরবে-নিভৃতে শিক্ষার আলো বিলিয়ে চলছে।

নারায়ণগঞ্জের প্রাচীন রাজধানী সোনারগাঁয় ১৯১৫ সালে স্থাপিত হয় ৬৫ নম্বর পঞ্চবটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়টি। উপজেলার বৈদ্যেরবাজার ইউনিয়নের পঞ্চবটি গ্রামে তৎকালীন জমিদার হরিশচন্দ্র পোদ্দারের দুই ছেলে হরেন্দ্র মোহন পোদ্দার ও রাই মোহন পোদ্দার এলাকায় শিক্ষার আলো জ্বালাতে তাঁদের নিজস্ব ৬৭ শতাংশ জমিতে একটি টিনশেট ঘরে বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠা করেন। ১৯৪৭ সালে হঠাৎ সপরিবারে দেশত্যাগ করায় জমিটি বিদ্যালয়ের নামে দানপত্র করে যেতে পারেননি। তাই দাতাদের নিজস্ব জমিতে পথচলা শুরু হলেও নামজারি জমাভাগে আজো বিদ্যালয়ের নাম ঠাঁই পায়নি। তাই অনেকেই বিদ্যালয়ের জমি দখলের পাঁয়তারা করে আসছে। ২০১৬ সালে একটি চক্র বিদ্যালয়ের বেশির ভাগ জমি দখলের চেষ্টা করলে তৎকালীন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আবু নাসের ভূঁঞা সরেজমিনে গিয়ে জমি দখল মুক্ত করেন। পরে এই জমি বিদ্যালয়ের নামে নামজারির জন্য আইনি ব্যবস্থা নিতে বলেন। পরে তৎকালীন শিক্ষা কর্মকর্তা জাহিদ ইকবাল নামজারির জন্য সোনারগাঁ উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) বরাবর আবেদন করলেও এ বিষয়ে কোনো অগ্রগতি হয়নি বলে জানা যায়।

বিদ্যালয়ের জমি থাকলেও নানা জটিলতার কারণে ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় পাঠদান চলছে। বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক হালিমা খাতুন বলেন, ‘বিদ্যালয়ের বর্তমান শিক্ষার্থী ১৮১ জন। বিদ্যালয়টি একবারে রাস্তার পাশে। আর রাস্তাঘেঁষে বয়ে চলেছে হরিগঞ্জ খাল। গভীর এ খালে পড়ে কোমলমতি শিক্ষার্থীরা অনেক সময় দুর্ঘটনার শিকার হয়। বিদ্যালয়ের জমি না থাকায় আমরা সরকারি অনেক সুযোগ থেকে বঞ্চিত হচ্ছি।’

বিদ্যালয়ের ব্যবস্থা কমিটির সভাপতি ছাত্তার সরকার বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রীর কাছে আমাদের আবেদন, তিনি যেন ৬৭ শতাংশ জমি বিদ্যালয়ের নামে দেওয়ার সব প্রক্রিয়া দ্রুত সম্পন্ন করেন।’

এ ব্যাপারে সোনারগাঁ উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা নিখিল চন্দ্র বিশ্বাস বলেন, ‘বিদ্যালয়টি যাতে জমি পায়, এ ব্যাপারে আমরা সর্বাত্মকভাবে চেষ্টা করছি। নিজস্ব জমি না থাকায় বিদ্যালয়টি সরকারি অনেক সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।’

 

 



মন্তব্য