kalerkantho


কেরানীগঞ্জে গৃহবধূর মৃত্যু

ভাইয়ের অভিযোগ হত্যা, ননদ গ্রেপ্তার

কেরানীগঞ্জ (ঢাকা) প্রতিনিধি   

১৩ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ০০:০০



কেরানীগঞ্জে সালমা অক্তার (৩৫) নামের এক গৃহবধূর রহস্যজনক মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় স্বামীর পরিবারের দাবি, গৃহবধূ হৃদযন্ত্র ক্রিয়া বন্ধ হয়ে মারা গেছেন। তবে নিহতের ভাইয়ের অভিযোগ, তাঁকে হত্যা করা হয়েছে। গত মঙ্গলবার রাতে কেরানীগঞ্জ মডেল থানার বন্ধ ছাটগাঁও এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

এ ঘটনায় নিহতের ছোট ভাই হাজি মো. লিটন কেরানীগঞ্জ মডেল থানায় একটি হত্যা মামলা করেন। পুলিশ এ ঘটনায় নিহতের ননদ সাহিদা বেগমকে গ্রেপ্তার করেছে।

মামলার বাদী নিহতের ছোট ভাই লিটন বলেন, ‘আট-নয় বছর আগে আমার বড় বোন সালমার সঙ্গে একই এলাকার মনোয়ার হোসেন বাবুর পারিবারিকভাবে বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকে বাবু আমার বোনকে যৌতুকের জন্য প্রায়ই মারধর করতেন। আমি বোনের সুখের জন্য কয়েক দফায় প্রায় চার লাখ টাকা দিই। এর মধ্যে তাদের ঘরে আব্দুল্লাহ (৬) নামের একটি পুত্রসন্তান আসে। পরে বাবু সৌদি আরব চলে যান। সেখানে যাওয়ার পর বাবু তাঁর মা-বোনদের কাছে টাকা পাঠাতেন। তিনি আমার বোন ও আব্দুল্লাহর তেমন কোনো খোঁজখবর নিতেন না। আমার বোন শাশুড়ি কিংবা ননদের কাছে টাকা-পয়সা চাইলেই তারা গালমন্দ ও মারধর করত। এ নিয়ে এলাকার মেম্বার-চেয়ারম্যানসহ গণ্যমান্য ব্যাক্তিদের নিয়ে কয়েকবার বিচার-সালিস হয়েছে। ঘটনার দিন সন্ধ্যায় বোন আমার বাড়িতে টাকার জন্য আসে। কিন্তু আমি বাড়িতে না থাকায় রাত সাড়ে ৮টার দিকে শ্বশুরবাড়ি চলে যায়। পরে লোক মারফত জানতে পারি, আমার বোন টাকা চাওয়ায় শাশুড়ি, দুই ননদসহ দেবররা নির্যাতন ও মারধর করে তাকে স্থানীয় সাজেদা হাসপাতালে নিয়ে গেছে। আমরা খবর পেয়ে সেখানে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসকরা জানান, অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাকে মিটফোর্ড হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। পরে মিটফোর্ড হাসপাতালে গিয়ে আমার বোনের মৃতদেহ দেখতে পাই।’

থানাহাজতে থাকা নিহত সালমার বড় ননদ সাহিদা বেগম বলেন, ‘ঘটনার দিন রাত সাড়ে ৮টার দিকে সালমা টাকা-পয়সা নিয়ে আমার সঙ্গে উচ্চবাচ্য করে নিজ ঘরে চলে যায়। আগে থেকেই তার হৃদরোগের সমস্যা রয়েছে। পরে আমরা ডাকতে গেলে তাকে ঘরে অজ্ঞান অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখে বাড়ির পাশে সাজেদা হাসপাতালে নিয়ে যাই। সেখানকার কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে দ্রুত মিটফোর্ড হাসপাতালে নিয়ে যেতে বলে। তখনই তাকে আমরা মিটফোর্ড হাসপাতালে নিয়ে যাই। সেখানকার ডাক্তাররা সালমাকে মৃত বলে জানান।’

কেরানীগঞ্জ মডেল থানার উপপরিদর্শক সাইদুজ্জামান বাচ্চু বলেন, ‘ঘটনার খবর পেয়ে রাতেই নিহতের ননদ সাহিদা বেগমকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পরে মিটফোর্ড হাসপাতালে গিয়ে লাশের সুরতহাল প্রতিবেদন করে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠাই। তবে লাশের গায়ে কোনো আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়নি।’

কেরানীগঞ্জ মডেল থানার ওসি শাকের মোহাম্মদ যুবায়ের বলেন, ‘নিহত গৃহবধূ একজন হৃদরোগী ছিলেন। তাঁর শ্বশুরবাড়ির পক্ষ থেকে এ রোগের অনেক কাগজপত্র দেখিয়েছে। এ ছাড়া নিহতের গায়ে কোনো আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়নি। তাই আমরা এটি হত্যাকাণ্ড কি না তা সঠিকভাবে বলতে পারছি না। নিহতের ভাইয়ের অভিযোগের ভিত্তিতে থানায় একটি হত্যা মামলা নেওয়া হয়েছে।’

 



মন্তব্য