kalerkantho


রায়পুরায় ৪১ বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষকের পদ শূন্য

মনিরুজ্জামান, নরসিংদী   

১৩ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ০০:০০



নরসিংদীর রায়পুরা উপজেলায় আট বছর ধরে ৪১টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষকের পদ শূন্য রয়েছে। এতে বিদ্যালয়গুলোর প্রায় ১০ হাজার কোমলমতি শিক্ষার্থীর পাঠদান ব্যাহত হচ্ছে। ফলে ভেস্তে যেতে চলেছে বর্তমান সরকারের শতভাগ প্রাথমিক শিক্ষা নিশ্চিতকরণ কার্যক্রম।

জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কার্যালয় ও স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, রায়পুরা উপজেলার ২৪টি ইউনিয়নে ১৯৯টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় রয়েছে। এর মধ্যে ২০১০ সাল থেকে ৪১টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষকের পদ শূন্য রয়েছে। বিদ্যালয়ের জ্যেষ্ঠ সহকারী শিক্ষকরাই এসব বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক হিসেবে বাড়তি দায়িত্ব পালন করছেন। ফলে এসব বিদ্যালয়ে অধ্যয়নরত প্রায় ১০ হাজার শিক্ষার্থীর পাঠদান কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। এতে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকরা ও এলাকাবাসী। অন্যদিকে এসব শূন্য পদ পূরণ হতে দেরি হওয়ার কারণ হিসেবে শিক্ষকদের বিভিন্ন রকম মামলার জটিলতাকে দায়ী করছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

রায়পুরা উপজেলার প্রধান শিক্ষক বিহীন প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলো হলো ৯৯ নং মির্জানগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, ৮৭ নং মাঝেরচর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, ৭৪ নং কানাইনগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, ১০৩ নং সমীবাদ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, ১৪৫ নং বাঁশগারী চান্দের কান্দি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, ৮৩ নং কাচারীকান্দি দক্ষিণপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, ৭১ নং জগদপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, ৯৬ নং রাজনগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, ১০০ নং মির্জাচর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, ৯৪ নং বাঁশগাড়ী-৩ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, ৯১ নং কুরেরপার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, ৯৭ নং মির্জাচর-১ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, ৯৩ নং বাঁশগাড়ী-২ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, ৬১ নং তুলাতলী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, ৯৮ নং মির্জাচর-২ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, ৭৬ নং গজারিকান্দি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, ৯২ নং বাঁশগাড়ী-১ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, ১০৪ নং গাজীপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, ৮১ নং মধ্যনগর সরকারি  প্রাথমিক বিদ্যালয়, ৮৯ নং কালিকাপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়সহ ৪১টি।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘হয় আমাদের পদোন্নতি দিয়ে প্রধান শিক্ষক করা হোক, নয়তো নতুন প্রধান শিক্ষক নিয়োগ দেওয়া হোক। কারণ বাড়তি দায়িত্ব অনেক সময় বিদ্যালয়ের শিক্ষা কার্যক্রমে বাধার সৃষ্টি করে। এ ছাড়া ভারপ্রাপ্তের পদ নিয়ে শিক্ষকদের মধ্যে অনেক রাজনীতি ও কাদা ছোড়াছুড়ির ঘটনা ঘটে। এতে শিক্ষার পরিবেশ নষ্ট হয়।’

এ ব্যাপারে রায়পুরা উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. মাসুদ রানা বলেন, ‘প্রধান শিক্ষক নিয়োগে ৬৫ শতাংশ জেলা বা উপজেলা শিক্ষা কার্যালয়ের কমিটির মাধ্যমে পদোন্নতি হয়ে থাকে। আর বাকি ৩৫ শতাংশ শিক্ষক সরাসরি সরকারি নিয়োগের মাধ্যমে হয়ে থাকে। পদোন্নতির ভিত্তিতে যে নিয়োগ সেটা উচ্চ আদালতের একটি রিটের কারণে দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ রয়েছে। যার কারণে এ জটিলতার সৃষ্টি হয়েছে। আমার ব্যক্তিগত অভিমত সরকারের নিজস্ব হস্তক্ষেপ ছাড়া এ সমস্যার সমাধান হবে না।’



মন্তব্য