kalerkantho


রাজৈর মহিলাবিষয়ক কর্মকর্তার অফিস

টাকা ছাড়া মেলে না ভাতা

রাজৈর (মাদারীপুর) প্রতিনিধি   

১৩ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ০০:০০



মাদারীপুরের রাজৈর উপজেলা মহিলাবিষয়ক কর্মকর্তার অফিসে বিভিন্ন ভাতা প্রদানে নানা অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। অনিয়মের বেড়াজাল থেকে রেহাই পাচ্ছেন না গর্ভবতী নারীরাও। টাকা ছাড়া হাতে মিলছে না গর্ভবতী ভাতার চেক।

গর্ভবতী নারীদের অভিযোগে জানা যায়, মহিলাবিষয়ক কর্মকর্তার অফিসে গর্ভবতী নারীদের নাম তালিকাভুক্তি থেকে শুরু করে টাকা তোলা পর্যন্ত সব ক্ষেত্রেই ঘুষ দিতে হয়। তাঁরা মোট ১২ হাজার টাকা ভাতা পান চার কিস্তিতে। চেক নেওয়ার সময় প্রতি কিস্তিতেই অফিস খরচার নামে কমপক্ষে ৩০০ টাকা দিতে হয় তাঁদের। এ ছাড়া নাম তালিকাভুক্তির সময় অফিস ম্যানেজ করার নামে স্থানীয় নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিরা ৩০০ থেকে ৮০০ টাকা পর্যন্ত নিয়ে থাকেন।

গত ৫ সেপ্টেম্বর ভাতা দেওয়ার সময় উপস্থিত কদমবাড়ী ও কবিরাজপুর ইউনিয়নের গর্ভবতী ভাতা সুবিধাভোগী নারীদের সঙ্গে আলাপ করে জানা যায়, রাজৈর মহিলাবিষয়ক কর্মকর্তার অফিস থেকে ভাতার চেক পেতে প্রত্যেক গর্ভবতী নারীকে কমপক্ষে ৩০০ টাকা দিতে হচ্ছে অফিসটিতে। এ ছাড়া তাঁদের (গর্ভবতী নারী) নাম অন্তর্ভুক্ত করিয়ে দেওয়ার অজুহাতে সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন পরিষদ সদস্যরা ব্যক্তিভেদে ৩০০ থেকে ৮০০ টাকা পর্যন্ত নিয়েছেন।

রাজৈর উপজেলা মহিলাবিষয়ক কর্মকর্তা দীর্ঘদিন ধরে রাজৈরে মূল দায়িত্বে থেকে জেলা কর্মকর্তাসহ কালকিনি উপজেলার অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করছেন। তাঁর বিরুদ্ধে অফিসের নিজস্ব এলাকার বাইরে মহিলা সমিতির সদস্যদের ঋণ দেওয়ারও অভিযোগ রয়েছে। বছরের পর বছর এসব ঋণের টাকা অনাদায় পড়ে থাকলেও তা উত্তোলনে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে না।

এ ছাড়া অভিযোগ রয়েছে, নানা অনিয়মের মধ্যে দিয়ে চলছে রাজৈর উপজেলা মহিলাবিষয়ক কর্মকর্তার অফিস। এটি সঠিকভাবে তদন্ত করলে বেরিয়ে আসবে।

রাজৈর উপজেলা মহিলাবিষয়ক কর্মকর্তা মাহমুদা আক্তার কনা অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, ‘আমি অফিসে না থাকার কারণে গর্ভবতী ভাতার বিষয়ে কী হয়েছে, আমার জানা নেই। অফিসে এসে আপনাদের সামনে ওদের (অফিসের কর্মচারী) জিজ্ঞাসা করব।’

রাজৈর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সোহানা নাসরিন বলেন, ‘বিষয়টি আমার জানা নেই। তবে অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’



মন্তব্য