kalerkantho


জগন্নাথপুরে পথে পথে গাড়ির স্ট্যান্ড

সীমাহীন ভোগান্তি নির্বিকার প্রশাসন

জগন্নাথপুর (সুনামগঞ্জ) প্রতিনিধি   

১২ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ০০:০০



সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুর পৌরশহরে পথে পথে গাড়ির স্ট্যান্ড থাকায় জনসাধারণকে ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। দীর্ঘদিন ধরে এ অবস্থা বিরাজ করলেও সম্প্রতি এর তীব্রতা বেড়েছে।

পৌর শহরের স্বরূপচন্দ্র সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের পাশেই জগন্নাথপুর থেকে সিলেটে যাতায়াতের বাসস্ট্যান্ড। এ বাসস্ট্যান্ডের গাড়িগুলো সড়কে ছড়িয়ে থাকে। বিদ্যালয়ের প্রবেশপথে বাস থাকায় শিক্ষার্থীদের যাতায়াতে ভোগান্তি পোহাতে হয়। একইভাবে সিএ মার্কেট এলাকায় রয়েছে জগন্নাথপুর থেকে সুনামগঞ্জগামী বাসের স্ট্যান্ড। এই স্ট্যান্ডের গাড়িগুলোও সড়কে দাঁড়িয়ে থাকে। ব্যস্ততম ওই এলাকা দিয়ে ছোট-বড় অসংখ্য যানবাহনের বাজার ও উপজেলা পরিষদে প্রবেশ করতে গিয়ে ভোগান্তিতে পড়তে হয়।

জগন্নাথপুর উপজেলা পরিষদ গেট থেকে গুদামের সেতুর মুখ পর্যন্ত কোনো স্ট্যান্ড না থাকায় সড়কে রয়েছে সিএনজিচালিত অটোরিকশার স্ট্যান্ড। পৌরভবনের সামনের সড়কে সিএনজিচালিত অটোরিকশার স্ট্যান্ড গড়ে উঠেছে। ইকড়ছই মাদরাসা এলাকায় জগন্নাথপুর-সুনামগঞ্জ সড়কের ওপর গড়ে উঠেছে চিলাউড়া-হলদিপুর ইউনিয়নে যাতায়াতের অটোরিকশা-টমটমের (ইজি বাইক) স্ট্যান্ড। একটু সামনে গেলেই পশ্চিম বাজার এলাকায় ইকড়ছই নামক স্থানে জগন্নাথপুর-সুনামগঞ্জ সড়কের ওপর সিএনজিচালিত অটোরিকশা-লেগুনার স্ট্যান্ড। মাইক্রোবাসের নিজস্ব স্ট্যান্ড না থাকায় দীর্ঘদিন ধরে হেলিপ্যাডের ওপর গড়ে উঠেছে তাদের স্ট্যান্ড।

ইদানীং শহরের প্রধান সড়কের মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্স মোড়ে টমটমের স্ট্যান্ড স্থাপন করা হয়েছে। ফলে সড়ক সংকোচিত হওয়ায় পথচারীদের চলতে হচ্ছে ঝুঁকি নিয়ে। এ ছাড়া ওই মোড় থেকে পৌরভবন পর্যন্ত টমটম, সিএনজিচালিত অটোরিকশা, ব্যাটারিচালিত রিকশাসহ বিভিন্ন যানবাহন সড়কজুড়ে এলোমেলোভাবে পড়ে থাকে। এতে তীব্র যানজটের পাশাপাশি সীমাহীন দুর্ভোগে পড়ে জনসাধারণ। সড়কে এমন নৈরাজ্য বিরাজ করলেও সমস্যা সমাধানে স্থানীয় প্রশাসন কিংবা পৌর প্রশাসনের কোনো কার্যক্রম নেই।

সম্প্রতি সরকার সড়কে শৃঙ্খলা ফেরাতে ট্রাফিক পুলিশ সপ্তাহ কর্মসূচি পালন করলেও জগন্নাথপুরে চিত্র ছিল যেই-সেই। ট্রাফিক আইন না মেনে আগের মতোই চলাফেরা করতে দেখা গেছে বিভিন্ন যানবাহনের চালকদের। নিয়ম রক্ষায় মাঝেমধ্যে ট্রাফিক পুলিশ কিছু যানবাহনের বিরুদ্ধে মামলা করেছে।

জগন্নাথপুরের ট্রাফিক বিভাগে দায়িত্বরত কর্মকর্তা মশিউর রহমান বলেন, ‘অনেক দিন ধরেই সড়কের বিভিন্ন স্থানে গাড়ির স্ট্যান্ড গড়ে উঠেছে। এতে যানজট ও নাগরিকদের ভোগান্তিতে পড়তে হয়। আমরা নাগরিক দুর্ভোগ লাঘবে সর্বাত্মক প্রচেষ্টা চালাচ্ছি।’

জগন্নাথপুর উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান বিজন কুমার দেব বলেন, ‘সুষ্ঠু পরিকল্পনার অভাবে জগন্নাথপুরে পরিবহন সেক্টরে নৈরাজ্য চলছে। সড়কের ওপর গাড়ির স্ট্যান্ড, বাস, অটোরিকশা, ইজি বাইকের যততত্র ব্যবহারের কারণে নাগরিক হিসেবে আমরা চরম ভোগান্তি রয়েছি। এসব বিষয়ে একাধিকবার উপজেলা আইন-শৃঙ্খলা কমিটির সভায় আলোচনা হয়েছে।’

জগন্নাথপুর বাস মালিক সমিতির সভাপতি নিজামুল করিম সড়কে বাস থাকার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, ‘আমরা দীর্ঘদিন ধরে নিজস্ব বাসস্ট্যান্ড নির্মাণের চেষ্টা চালাচ্ছি। জগন্নাথপুর-সিলেট ও জগন্নাথপুর-সুনামগঞ্জগামী যে দুটি বাসস্ট্যান্ড রয়েছে, তা আকারে খুব ছোট ও সড়কের পাশে থাকায় অনেক সময় চালকরা সড়কে গাড়ি রেখে দেয়। বাসস্ট্যান্ড নির্মিত হলেই এসব সমস্যা দূর হবে।’

জগন্নাথপুর পৌরসভার মেয়র আব্দুল মনাফ বলেন, ‘এসব বিষয়ে আমরা পদক্ষেপ নেব।’

নবাগত জগন্নাথপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাহফুজুল আলম মাসুম বলেন, ‘সড়কে শৃঙ্খলা ফেরাতে আমরা পদক্ষেপ গ্রহণ করব। এরই মধ্যে এ বিষয়ে নাগরিকদের নিয়ে সভা করা হয়েছে।’



মন্তব্য