kalerkantho


গাইবান্ধা জেলা পরিষদের বরাদ্দ

মসজিদ-মন্দিরের টাকা হাওয়া

অমিতাভ দাশ হিমুন, গাইবান্ধা   

১১ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ০০:০০



গাইবান্ধা জেলা পরিষদে ২০১৬-১৭ অর্থবছরে সাধারণ বরাদ্দের আওতায় পাঁচ কোটি ২৫ লাখ এবং ২০১৭-১৮ অর্থবছরে চার কোটি ৬৯ লাখ টাকার প্রকল্প দেওয়া হয়। এই টাকায় মসজিদ-মন্দিরের উন্নয়নকাজ করার কথা। বাস্তবে কোনো প্রতিষ্ঠানে কোনো কাজ হয়নি।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সদর উপজেলার জগত্রায় গোপালপুর বৈরাগীপাড়া দুর্গা মন্দিরে পূজা-পালি করে স্থানীয় সনাতন ধর্মাবলম্বীরা। কিছুদিন আগেও এই মন্দিরের তেমন কোনো অবকাঠামো ছিল না। স্থানীয়দের সহযোগিতা আর চাঁদার টাকায় মন্দির সংস্কার করা হয়।

এই মন্দিরের উন্নয়নে ২০১৬-১৭ অর্থবছরে এক লাখ এবং ২০১৭-১৮ অর্থবছরে দুই লাখ টাকার দুটি প্রকল্প বরাদ্দ দেয় গাইবান্ধা জেলা পরিষদ। জেলা পরিষদের প্রকল্পের তালিকা ধরে এ প্রতিবেদক সরেজমিন পরিদর্শনে গেলে মন্দিরের সভাপতি গৌতম কুমার হতচকিত হয়ে পড়েন। অবাক হয়ে বলেন, ‘জেলা পরিষদের বার্তাবাহক রতন কুমার আমাকে পরিষদে ডেকে বিভিন্ন কাগজে সই নিয়ে ৩০ হাজার টাকা হাতে দেন। মন্দির আমাদের পরকালের ঠিকানা। কে আত্মসাৎ করেছে, তা জানি না। কেউ টাকা আত্মসাৎ করলে আমার কিছুই বলার নেই।’

চলতি অর্থবছরে জেলা পরিষদ থেকে সাঘাটা উপজেলার পণ্ডিতপাড়া মসজিদের উন্নয়নে দুই লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়।

মসজিদের ক্যাশিয়ার লাল মিয়া বলেন, ‘আমাকে জেলা পরিষদে ডেকে নিয়ে ৭০ হাজার টাকা হাতে দেয় কর্তৃপক্ষ।’ এর বেশি কিছু বলতে চাননি তিনি। একই উপজেলার ঝাড়াবর্ষা গ্রামের সিদ্দিকের বাড়ির মসজিদে দেওয়া হয় দুই লাখ টাকা।

এই মসজিদের সভাপতি মো. সিদ্দিক হোসেন বলেন, ‘টাকা পাইনি। তবে কর্তৃপক্ষ আমাকে আশ্বস্ত করেছে, বরাদ্দের টাকা পাব।’ তাঁর মসজিদের নামে কত টাকা বরাদ্দ, তা তিনি বলতে পারেননি।

তবে তিনি শুনেছেন, জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান একটি মসজিদের নামে বরাদ্দ দিয়ে সেই টাকা কয়েকটি মসজিদে ভাগ করে দেন।

অন্যদিকে ২০১৬-১৭ অর্থবছরে মন্ত্রণালয় থেকে অনুমোদিত প্রকল্পের তালিকায় দেখা যায়, সাঘাটা উপজেলায় জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আতাউর রহমানের নিজের ইউনিয়ন ঘুড়িদহে চেয়ারম্যান বাড়ি মসজিদ, এতিমখানা, মক্তব ও বৃদ্ধাশ্রমের জন্য ১৪ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে । ঘুড়িদহ ইউনিয়নের কোথাও বৃদ্ধাশ্রম বা এতিমখানা খুঁজে পাওয়া যায়নি।

ঘুড়িদহ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আবুল কালাম আজাদ বলেন, ‘আমার ইউনিয়নে বৃদ্ধাশ্রম ও এতিমখানার কোনো অস্তিত্ব নেই।’ এ বিষয়ে জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আতাউর রহমান বলেন, ‘প্রকল্প নিয়ে কোনো অস্বচ্ছতা নেই। নিয়ম মেনে সব কাজ করা হয়েছে। প্রকল্পগুলো অনুমোদন হলেও আমরা তা বাস্তবায়ন না করে পরে সংশোধন করে অন্য প্রতিষ্ঠানের নামে বরাদ্দ দেব।’ তবে কোন কোন প্রতিষ্ঠানের নামে প্রকল্প দেওয়া হয়েছে, তা স্পষ্ট করেননি তিনি।

এদিকে ২০১৬-১৭ ও ২০১৭-১৮ অর্থবছরে তিন লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয় পলাশবাড়ী উপজেলার ভেলাকোপা হেয়ালি সেতুসংলগ্ন মন্দিরে।

মন্দিরটির দায়িত্বশীল নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক কর্মকর্তা  বলেন, ‘আমাকে এ পর্যন্ত ৩০ হাজার টাকা দেওয়া হয়েছে। মন্দিরের ছাদ নির্মাণ করে দেওয়ার কথা। তবে এখনো তা হয়নি।’



মন্তব্য