kalerkantho


বন বিভাগের অনুমতি না নিয়ে গারো পাহাড়ের গাছ বিক্রি

নালিতাবাড়ী (শেরপুর) প্রতিনিধি   

১১ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ০০:০০



বন বিভাগের অনুমতি না নিয়ে গারো পাহাড়ের গাছ বিক্রি

শেরপুরের নালিতাবাড়ী উপজেলার সীমান্তবর্তী গারো পাহাড়ের ঢালে বন বিভাগের অনুমতি না নিয়ে খ্রিস্টান মিশনারিতে থাকা ৫০টি গজারি ও সেগুনগাছ কাটা হয়েছে। ছবিটি গতকাল তোলা। ছবি : কালের কণ্ঠ

শেরপুরের নালিতাবাড়ী উপজেলার সীমান্তবর্তী গারো পাহাড়ের ঢালে বন বিভাগের অনুমতি না নিয়ে খ্রিস্টান মিশনারিতে থাকা দুই লক্ষাধিক টাকার ৫০টি গজারি ও সেগুনগাছ বিক্রির অভিযোগ উঠেছে। সীমানাপ্রাচীর ও রাস্তা তৈরির জন্য পনিহাটা সাধু আন্দ্রিয়ের মিশন কর্তৃপক্ষ এরই মধ্যেই ২০টি গাছ কেটে ফেলেছে।

এলাকাবাসী ও বন বিভাগ সূত্রে জানা যায়, উপজেলার সীমান্তবর্তী গারো পাহাড়ের ঢালে রামচন্দ্রকুড়া ইউনিয়নের পানিহাটা গ্রামে সাধু আন্দ্রিয়ের খ্রিস্টান মিশন অবস্থিত। মিশনের সীমানার ভেতরে প্রায় তিন হাজার শাল-গজারি ও সেগুনগাছ রয়েছে। তবে গাছগুলো পনিহাটা সাধু আন্দ্রিয়ের মিশন কর্তৃপক্ষের মালিকাধীন। সম্প্র্রতি মিশনে সীমানাপ্রাচীর, বিদ্যুতের লাইন ও রাস্তা নির্মাণের জন্য মিশন কমিটি সভা করে বন বিভাগের অনুমতি না নিয়ে গাছ বিক্রির সিদ্ধান্ত নেয়। সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ৫০টি শাল-গজারি ও সেগুনগাছ স্থানীয় কাঠ ব্যবসায়ীদের কাছে দুই লাখ ২০ হাজার টাকায় বিক্রি করা হয়।

তবে ২০১১ সালের বনজদ্রব্য পরিবহন (নিয়ন্ত্রণ) বিধিমালায় বলা হয়েছে, সামাজিক বনায়নের গাছ কাটতে হলে বন বিভাগের অনুমতি নিতে হয়। তাই গত শনিবার গাছ কাটার খবর পেয়ে বন বিভাগের গোপালপুর বিট কর্মকর্তা বাধা দেন। এরই মধ্যে ২০টি গাছ কেটে ফেলা হয়েছে। এ খবর পেয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আরিফুর রহমান রামচন্দ্রকুড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানকে বিষয়টি দেখে পদক্ষেপ নিতে বলেন। ওই দিন গাছ কাটা বন্ধ করা হয়।

এলাকাবাসীরা জানায়, পাঁচ বছর আগে মিশনের ভেতরে থাকা প্রায় আড়াই হাজার শাল-গজারি ও সেগুন গাছ ৭৬ লাখ টাকায় বিক্রি করার প্রস্তুতি নিয়েছিল মিশন কর্তৃপক্ষ। কিন্তু বন বিভাগের অনুমতি না পাওয়ায় সেই গাছ কাটা সম্ভব হয়নি বলে জানা গেছে।

মিশন কমিটির সদস্য গলিয়াত রেমা বলেন, ‘মিশনের ভেতর দিয়ে একটি রাস্তা করা হবে। এ ব্যাপারে মিশনারি কমিটি সভা করে ৫০টি গাছ বিক্রি করার সিদ্ধান্ত নেয়। সিদ্ধান্ত অনুযায়ী গাছগুলো বিক্রি করা হয়েছে।’

মিশনের পুরোহিত মৃত্যুঞ্জয় মণ্ডল বলেন, ‘গাছগুলো আমাদের মালিকানাধীন। তাই আমাদের প্রধান বিশপের অনুমতিক্রমে প্রতিষ্ঠানের স্বার্থেই লিখিত সিদ্ধান্ত নিয়ে ৫০টি গাছ বিক্রি করা হয়েছে। এর মধ্যে অনেক গাছ মারা গেছে। এ ব্যাপারে ইউএনও স্যারের কাছে লিখিত আবেদন করা হয়েছে।’

বন বিভাগের গোপালপুর বিট কর্মকর্তা মেসবাউল হক বলেন, ‘ব্যক্তিমালিকানাধীন হলেও বন বিভাগের অনুমতি ব্যতীত কোনো গাছ কাটার নিয়ম নেই। এমনিতেই প্রাকৃতিক বন কাটা বেআইনি। মিশন কর্তৃপক্ষ আমাদের সঙ্গে কোনো যোগাযোগ করেনি। খবর পেয়ে শনিবার গাছ কাটা বন্ধ করা হয়েছে। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকেও অবহিত করা হয়েছে।’

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আরিফুর রহমান বলেন, খবর পেয়েই ইউপি চেয়ারম্যানের মাধ্যমে গাছ কাটা বন্ধ করা হয়েছে। মিশনের পক্ষ থেকেও লিখিত আবেদন পাওয়া গেছে। বন বিভাগ, জনপ্রতিনিধি ও মিশনারি কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।



মন্তব্য