kalerkantho


সুন্দরবনের সম্প্রসারিত অভয়ারণ্য চিহ্নিত

জেলে-বাওয়ালিদের পাস বন্ধ

বাগেরহাট প্রতিনিধি   

৮ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ০০:০০



বিশ্ব ঐতিহ্য সুন্দরবনে সম্প্রসারিত বন্য প্রাণী অভয়ারণ্য এলাকার সীমানা নির্ধারণ করা হয়েছে। সম্প্রতি বনের বিভিন্ন অংশে গাছে রং লাগিয়ে অভয়ারণ্য এলাকা চিহ্নিত করা হয়। অভয়ারণ্য এলাকা থেকে সব ধরনের বনজ সম্পদ আহরণ নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। ওই এলাকায় জেলে-বাওয়ালিদের সব ধরনের বিএলসি (পাস) বন্ধ করে দিয়েছে বন বিভাগ। বর্তমানে সুন্দরবনের তিন লাখ ১৭ হাজার ৯৫০ দশমিক ০৮ হেক্টর জমি অভয়ারণ্যের আওতাভুক্ত।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সুন্দরবনে অভয়ারণ্য এলাকা সম্প্রসারণ করায় বন্য প্রাণী, মৎস্যসম্পদ, বৃক্ষরাজিসহ সব ধরনের বনজ সম্পদ বাড়বে। তবে অভয়ারণ্য এলাকা সম্প্রসারণ করায় বনের ওপর নির্ভরশীল জেলে-বাওয়ালিরা বিপাকে পড়েছে।

বন বিভাগ সূত্রে জানা যায়, ১৯৯৬ সালে সুন্দরবনের এক লাখ ৩৯ হাজার ৬৯৯ দশমিক ৪৯৬ হেক্টর এলাকাকে অভয়ারণ্য হিসেবে ঘোষণা করা হয়। এর ২১ বছর পর ২০১৭ সালে আরো এক লাখ ৭৮ হাজার ২৫০ দশমিক ৫৮৪ হেক্টর এলাকাকে অভয়ারণ্যভুক্ত করা হয়। সব মিলিয়ে বর্তমানে সুন্দরবনের অভয়ারণ্য এলাকা দাঁড়িয়েছে তিন লাখ ১৭ হাজার ৯৫০ দশমিক ০৮ হেক্টর এলাকা। এরই পরিপ্রেক্ষিতে সুন্দরবন পূর্ব বিভাগের শরণখোলা রেঞ্জের আওতাধীন ৯১ হাজার ৬৯৩ দশমিক ৯৬২ হেক্টর, পশ্চিম বিভাগের খুলনা রেঞ্জের আওতাধীন ৩৮ হাজার ৩৩৯ দশমিক ৮৪৫ হেক্টর এবং সাতক্ষীরা রেঞ্জের আওতাধীন ৪৮ হাজার ২১৬ দশমিক ৭৭৭ হেক্টর সম্প্রসারিত বন্য প্রাণী অভয়ারণ্য এলাকা ঘোষণা করা হয়েছে।

খুলনা সার্কেলের বন সংরক্ষক আমীর হোসাইন চৌধুরী জানান, সুন্দরবনের অভয়ারণ্য থেকে সব ধরনের বনজ সম্পদ আহরণ বন্ধ করা হয়েছে। এতে সুন্দরবনে মানুষের চাপ অনেকটা কমেছে। ফলে বন্য প্রাণী, জলজ প্রাণী, গাছপালাসহ সব ধরনের বনজ সম্পদ বৃদ্ধি পাবে। সুন্দরবনের বাংলাদেশ অংশের আয়তনের শতকরা ৫০ ভাগেরও বেশি এখন অভয়ারণ্যভুক্ত।

সুন্দরবন পূর্ব বন বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা (ডিএফও) মাহমুদুল হাসান জানান, দুই মাসের মধ্যে ওই সব এলাকায় প্ল্যাকার্ড ও সাইনবোর্ড ঝুলিয়ে দেওয়া হবে। তা ছাড়া অভয়ারণ্য এলাকা থেকে সব ধরনের বনজ সম্পদ আহরণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। কোনো অবস্থাতেই এ এলাকা থেকে বনজ সম্পদ আহরণ করতে দেওয়া হবে না।

ডিএফও মাহমুদুল হাসান আরো জানান, সুন্দরবনে আগে বনজ সম্পদ আহরণে বিএলসি দেওয়ার ক্ষেত্রে কোনো সংখ্যার হিসাব ছিল না। সব জেলে-বাওয়ালিকে পাস দেওয়া হতো। কিন্তু এখন পাস দেওয়ার বিষয়টি সীমিত করা হয়েছে। গোটা সুন্দরবনে মাত্র ১২ হাজার পাস দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বনের ওপর থেকে পেশাজীবীদের চাপ কমাতে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফরেস্ট্রি অ্যান্ড উড টেকনোলজি ডিসিপ্লিনের অধ্যাপক ড. মাহমুদ হোসেন বলেন, অভয়ারণ্য এলাকা থেকে সব ধরনের বনজ সম্পদ আহরণ বন্ধ করা গেলে সুন্দরবনের প্রাকৃতিক ভারসাম্য বজায় থাকবে। এতে বন্য প্রাণী ও জলজ সম্পদ বৃদ্ধি পাবে।

এদিকে সুন্দরবনঘেঁষা বাগেরহাটের শরণখোলার মৎস্য ব্যবসায়ী জালাল মোল্লা বলেন, সুন্দরবনের অভয়ারণ্য এলাকা সম্প্রসারণ করায় তাঁর ব্যবসায় ধস নেমেছে। শরণখোলার বেশির ভাগ নদ-নদী অভয়ারণ্যভুক্ত হওয়ায় জেলেরা জাল ফেলতে পারছে না।

বনসংলগ্ন শরণখোলা গ্রামের জেলে ফুল মিয়া জানান, ২৫ বছর ধরে তিনি সুন্দরবনের বিভিন্ন নদ-নদীতে মাছ ধরে জীবিকা নির্বাহ করে আসছেন। কিন্তু হঠাৎ করে মাছ ধরা বন্ধ হওয়ায় তাঁদের কষ্টের শেষ নেই।



মন্তব্য