kalerkantho


টঙ্গী-গাজীপুর সড়ক

৫ টাকার ভাড়া ২০ টাকা!

মো. মাহবুবুল আলম, টঙ্গী   

৭ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ০০:০০



প্রায় সব বাসের দরজা বন্ধ। একটু ফাঁক করে কন্ডাক্টর চেঁচাচ্ছে ‘২০ টাকা’ ‘২০ টাকা’। দুই-তিন কিলোমিটার পথের ভাড়া পাঁচ টাকার স্থলে এখন ২০ টাকা। থ্রি হুইলার বন্ধের পর সব বাস রাতারাতি সিটিং সার্ভিস, গেটলক ও স্পেশাল সার্ভিস হয়ে গেছে। ফিটনেস না থাকায় বাসের সংখ্যাও প্রায় অর্ধেকে নেমে এসেছে। টঙ্গী-গাজীপুর সড়কে একদিকে চলছে ভাড়া নৈরাজ্য, অন্যদিকে দেখা দিয়েছে তীব্র পরিবহন সংকট। বাস স্টপেজগুলোতে গাড়ির পিছু ছোটার প্রতিযোগিতায় নাকাল যাত্রীরা।

টঙ্গী ও আশপাশের এলাকায় সাম্প্রতিককালে গড়ে উঠেছে প্রায় দুই হাজার ছোট-বড় শিল্পকারখানা ও ঘনবসতিপূর্ণ আবাসিক এলাকা। এখানে প্রায় দুই লাখ শ্রমিক ও লক্ষাধিক শিক্ষার্থীকে প্রতিদিন ভোর থেকে রাত পর্যন্ত যাতায়াত করতে হয় বিভিন্ন যানবাহনে। যানবাহন সংকটের কারণে নারী শ্রমিক ও শিশু শিক্ষার্থীদের যাতায়াতে অবর্ণনীয় দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।

টঙ্গী-গাজীপুর সড়কে ১০টি রুটের বাস চলাচল করে। গাজীপুর, চৌরাস্তা, গাজীপুরা, কালিয়াকৈর, শ্রীপুর, কাপাসিয়া থেকে ঢাকার গুলিস্তান, মতিঝিল ও সায়েদাবাদে যাতায়াতকারী বাসগুলো লোকাল সার্ভিস হিসেবেই এত দিন চলছিল। সম্প্রতি এসব বাস নিয়মনীতি ছাড়াই একযোগে ‘সিটিং সার্ভিস’, ‘গেটলক’ ও ‘স্পেশাল সার্ভিস’ নাম দিয়ে ইচ্ছামতো ভাড়া আদায় করছে।

সু-প্রভাত পরিবহনের চালক মোতালেব হোসেন বলেন, মালিকদের নির্দেশেই পরিবহন শ্রমিকরা সিটিং সার্ভিসের ভাড়া আদায় করছে। ফিটনেসসহ অন্যান্য কাগজ না থাকায় জরিমানার ভয়ে প্রায় অর্ধেক গাড়ি রাস্তায় নামছে না। কাগজপত্র তৈরির জন্য দুই-তিন মাস সময় দেওয়া হলে পরিবহন সংকট থাকবে না।

সড়কে থ্রি হুইলার চলাচল বন্ধের পর পরিবহন সংকট ও অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের ব্যাপারে গাজীপুর পুলিশ সুপার শামসুন্নাহার বলেন, এ ব্যাপারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।



মন্তব্য