kalerkantho


ভাড়া লাগে না তাই ঝুঁকিপূর্ণ ভবনে

দিলীপ কুমার মণ্ডল, নারায়ণগঞ্জ   

৭ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ০০:০০



ভাড়া লাগে না তাই ঝুঁকিপূর্ণ ভবনে

ভাড়া দিতে হয় না, তাই এই ঝুঁকিপূর্ণ ভবনে বাস করছে নারায়ণগঞ্জের বন্দর উপজেলা পরিষদের কর্মীরা । ছবি : কালের কণ্ঠ

সরকারিভাবে পুরোপুরি পরিত্যক্ত ঘোষণা করার পরেও বন্দর উপজেলার একটি ঝুঁকিপূর্ণ ভবনে বসবাস করছেন উপজেলার কর্মকর্তা-কর্মচারীরা।

পরিত্যক্ত ঘোষণার পর সেখানে বসবাসরত উপজেলার কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ভবন ছেড়ে দেওয়ার নোটিশ দিয়েছিলেন উপজেলার কর্মকর্তা। কিন্তু তাতে কোনো কাজ হয়নি। বিনা পয়সায় বসবাস, সরকারি খরচে বিদ্যুৎ ও পানির সুবিধা নিয়ে বেশ আয়েশেই দিন কাটাচ্ছেন বসবাসকারীরা। উপজেলার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের এ বিষয়ে জানানো হলে শুধু নোটিশ দিয়েই চুপসে যান তাঁরা।

সরেজমিন ঘুরে দেখা যায়, দোতলা ভবনটি বসবাসের অযোগ্য হয়েছে অনেক আগেই। এখন ভবনটির এমন অবস্থা হয়েছে যে এর আশপাশে অবস্থান করাটাও বিপজ্জনক। ভবনের ছাদের বেশির ভাগ জায়গায় ও পিলারগুলোর আস্তর খসে পড়ে রড বেরিয়ে আছে। দেয়ালে ও ছাদে আগাছা জন্মেছে। এমন অবস্থাতেও জীবনের ঝুঁকি নিয়ে সামান্য কিছু টাকা বাঁচাতে ঝুঁকিপূর্ণ ভবনটিতে বসবাস করছেন উপজেলার কর্মকর্তা-কর্মচারীরা।

ভবনে বসবাসকারী উপজেলা কর্মচারীরা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, কোয়ার্টারে থাকতে গেলে ভাড়া দিতে হয়। এখানে থাকলে কোনো ভাড়া দিতে হয় না। এখানে বিদ্যুৎ বিলও লাগে না। ২০০৯ সালে ভবনটি পরিত্যক্ত ঘোষণার পর থেকে প্রায় ৯ বছর ধরে এভাবেই থাকছেন তাঁরা।

এ ব্যাপারে বন্দর উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা পিন্টু ব্যাপারী বলেন, ‘মূলত উপজেলার কিছু কর্মকর্তা টাকা বাঁচানোর জন্য সেখানে বসবাস করছেন। কারণ সেখানে থাকলে ভাড়া দিতে হয় না। ২০০৯ সালে পরিত্যক্ত ঘোষণার পর অনেকবার তাঁদের নোটিশ দেওয়া হয়েছে। নোটিশ পাওয়ার পরেও তাঁরা বসবাস করছেন। এখন এটি সম্পূর্ণ তাঁদের দায়। কোনো দুর্ঘটনা ঘটলে তার জন্য আমরা দায়ী থাকব না। এখন নিজেদের ঝুঁকিতেই তাঁরা সেখানে বসবাস করছেন।’

 

 

 



মন্তব্য