kalerkantho


শাহজাদপুরে যক্ষ্মা রোগী ৪০০

হাসপাতালে নেই বিশেষ ব্যবস্থা

শাহজাদপুর (সিরাজগঞ্জ) প্রতিনিধি   

৭ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ০০:০০



সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর উপজেলায় এ বছর ৪০০ রোগী যক্ষ্মার চিকিৎসা নিচ্ছে। ২০১৭ সালে চিকিৎসা নিয়েছে ৭৭১ রোগী। উপজেলা ৫০ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতালে বিশেষ ওয়ার্ড না থাকায় তাদের সবাইকে বাড়িতে থেকে চিকিৎসা নিতে হচ্ছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, এ উপজেলায় ১৩টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভা। প্রতিটি ওয়ার্ডে স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মী ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠান ব্র্যাক যৌথভাবে কাজ করছে। তবে রোগের প্রকোপ দেখা যাওয়ায় হাসপাতালে আসা থেমে নেই আক্রান্তদের। প্রতি মাসে নতুন রোগীর সন্ধান পাওয়া যাচ্ছে। স্বল্পসংখ্যক কর্মী নিয়ে এ রোগের চিকিৎসা দিতে হিমশিম খাচ্ছে স্বাস্থ্য বিভাগ।

উপজেলা হাসপাতাল সূত্রের এক হিসাবে জানা গেছে, গত আট মাসে প্রায় চার শ নতুন রোগীর চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। চিকিৎসা চলাকালে রোগ নিরাময় না হওয়া পর্যন্ত রোগীদের বিনা মূল্যে ছয় থেকে আট মাস ওষুধ দেওয়া হয়। বাড়িতে রেখে স্বাস্থ্য বিভাগের মাঠকর্মীদের মাধ্যমে চিকিৎসা দেওয়া হয়। প্রতিটি রোগীর জন্য স্বাস্থ্য বিভাগের ১৬ থেকে ২৪ হাজার টাকার ওষুধ ব্যয় করতে হয়।

গত বুধবার ডায়া গ্রামের আবু তালেব শেখ (৪৫) ও ওসমান গণি (৬০) চিকিৎসা নিতে আসেন শাহজাদপুর উপজেলা ৫০ শয্যার হাসপাতালে। তাঁরা দুজনই তাঁত শ্রমিক। তাঁরা জানান, বেশ কিছুদিন কাশি ও হালকা জ্বরে ভুগছিলেন। কাশি পরীক্ষা করে তাঁদের যক্ষ্মা ধরা পড়ে।

হাসপাতালের যক্ষ্মা ও কুষ্ঠ নিয়ন্ত্রক কর্মকর্তা মো. জাহাঙ্গীর আলম বলেন, ‘রোগীকে পর্যবেক্ষণের পাশাপাশি নিরাময়ের জন্য দীর্ঘমেয়াদি চিকিৎসা দিতে হয়। নিয়মিত অসুধ সেবন না করলে ফের এ রোগে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি থেকে যায়। সে জন্য স্বাস্থ্য বিভাগের মাঠকর্মীরা রোগীদের নজরদারিতে রেখে নিরাময় না হওয়া পর্যন্ত ওষুধ সেবন অব্যাহত রাখেন। রোগ সেরে যাওয়ার পরও রোগীকে কিছুদিন হাসপাতালের ফলো আপে থাকতে হয়।’

ব্র্যাকের যক্ষ্মা নিয়ন্ত্রণ কর্মসূচির উপজেলা ব্যবস্থাপক সুরেশ চন্দ্র বিশ্বাস জানান, ১৩টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভায় কমবেশি সবখানেই যক্ষ্মা রোগীর সন্ধান পাওয়া যাচ্ছে। এ উপজেলা তাঁতসমৃদ্ধ। ঘনবসতি হওয়ায় একসঙ্গে অনেক লোককে বসবাস করতে হয়। যমুনা নদীর তীরবর্তী চারটি ইউনিয়ন প্রতিবছর নদীভাঙনের শিকার হয়। আর এ কারণে এসব পরিবার বাস্তুহারা হয়। পরিবারের অনেককে একসঙ্গে গাদাগাদি হয়ে বসবাস করতে হয়। তিনি বলেন, ‘এই দুই কারণ ছাড়াও আরো নানা কারণে পৌর সদরসহ কায়েমপুর, পোরজনা, খুকনী ও কৈজুরী ইউনিয়নের এ রোগটি এখন বেশি দেখা যাচ্ছে। এক হিসাবে দেখা গেছে, আক্রান্তদের মধ্যে পাঁচ থেকে ছয় ভাগ শিশু রয়েছে। শিশু বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক না থাকায় হাসপাতালের রোগ নিয়ন্ত্রণ চিকিৎসা কর্মকর্তা (এমওডিসি) দিয়ে যক্ষ্মায় আক্রান্ত শিশুদের চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।’

শাহজাদপুর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা জুবায়দা মেহের নাজ বলেন, ‘যক্ষ্মা রোগটি হাঁচি ও কাশিতে সংক্রমিত হওয়ায় রোগীদের হাসপাতালে ভর্তি করা সম্ভব হয় না। তাদের বাড়িতে রেখে স্বাস্থ্য বিভাগের মাঠকর্মীদের দিয়ে চিকিৎসা দেওয়া হয়।’

এদিকে আক্রান্ত রোগীদের অভিমত, প্রকোপ দেখা যাওয়ায় যক্ষ্মা নিরাময়ের জন্য শাহজাদপুরে আলাদা একটি হাসপাতাল প্রয়োজন। প্রায় সাড়ে ছয় লাখ মানুষের জন্য যে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স রয়েছে, তার পাশাপাশি একটি যক্ষ্মা নিরাময় কেন্দ্র বা পূর্ণাঙ্গ বিশেষায়িত হাসপাতাল স্থাপন করা জরুরি।



মন্তব্য