kalerkantho


নদ-নদীর ভাঙন

আগ্রাসী পদ্মায় দিশাহারা মানুষ

প্রিয় দেশ ডেস্ক   

৭ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ০০:০০



আগ্রাসী পদ্মায় দিশাহারা মানুষ

শরীয়তপুরের নড়িয়া উপজেলার মুলফত্গঞ্জ বাজার নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। ছবি : কালের কণ্ঠ

পদ্মা নদীতে হঠাৎ করে পানি বাড়ায় ঘূর্ণায়মান স্রোতের সৃষ্টি হয়েছে। ফলে গত দুই সপ্তাহ ধরে তীরবর্তী এলাকায় তীব্র ভাঙন চলছে। অব্যাহত ভাঙনে পদ্মাপারের হাজারো মানুষ দিশাহারা হয়ে পড়েছে। ভিটেমাটি হারিয়ে আশ্রয়ের সন্ধানে দিগ্বিদিক ছোটাছুটি করছে তারা। দিন দিন অসহায় মানুষের কান্না ও আহাজারিতে পদ্মাপারের পরিবেশ ভারী হয়ে উঠছে।

রাজবাড়ী প্রতিনিধি জানান, কালুখালীর রতনদিয়া ইউনিয়নের সাদারচর, হরিণবাড়ীয়া, প্রস্তাবিত রাজবাড়ী সেনানিবাস ও জেলা শহরের গোদারবাজার ঘাট এলাকা পদ্মার ভাঙনের তীব্র হুমকিতে রয়েছে। গত মঙ্গলবার রাতে গোদারবাজার ঘাটের অবকাশকেন্দ্র ‘বন্ধন’-সংলগ্ন ২০০ মিটার নদী তীর রক্ষা বাঁধ ধসে গেছে। বর্তমানে সেখানে পানি উন্নয়ন বোর্ডের পক্ষ থেকে বালুভর্তি জিও ব্যাগ ফেলে ভাঙন রোধের চেষ্টা চলছে। তা ছাড়া কালুখালীর রতনদিয়া এলাকার বেশ কয়েকটি গ্রাম নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। রাজবাড়ী সেনা ক্যাম্প নামক পিলার থেকে সোয়া কিলোমিটার এসবিবি ইটের রাস্তার কিছু অংশ ও সাদার বাজার সম্পূর্ণ ধসে গেছে। এ ছাড়া লস্করদিয়া নারায়ণপুর গ্রামের কয়েক শ বাড়িঘর পদ্মায় বিলীন হয়ে গেছে।

গোয়ালন্দ (রাজবাড়ী) প্রতিনিধি জানান, দৌলতদিয়া ও দেবগ্রাম ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় তীব্র নদীভাঙন দেখা দিয়েছে। এতে অনেকেই পরিবার-পরিজন নিয়ে পূর্বপুরুষের ভিটেমাটি ছেড়ে নিরাপদ স্থানে চলে যাচ্ছে। এদিকে দৌলতদিয়ার গুরুত্বপূর্ণ ৬ নম্বর ফেরিঘাটটি ভাঙনের মুখোমুখি হয়েছে। অন্য ৫ নম্বর ঘাটটিও ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। তবে সেখানে বালুর বস্তা ফেলে ঘাট রক্ষার চেষ্টা চালাচ্ছেন পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মীরা। 

বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন সংস্থার (বিআইডাব্লিউটিসি) দৌলতদিয়া ঘাট ব্যবস্থাপক শফিকুল ইসলাম জানান, ফেরিঘাট এলাকায় নদীভাঙন শুরু হওয়ায় ৬ নম্বর ঘাটটি হুমকিতে রয়েছে। তাই এলাকার নদীভাঙন রোধে দ্রুত প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে হবে।

শরীয়তপুর প্রতিনিধি জানান, গত কয়েক দিনে পদ্মার ভাঙনে নড়িয়া উপজেলার মুলফত্গঞ্জ বাজার ও শতাধিক ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে।

নড়িয়া উপজেলা প্রশাসন ও স্থানীয় সূত্র জানায়, দুমাস ধরে উপজেলার পদ্মা-তীরবর্তী এলাকা ভাঙছে।  মোক্তারেরচর, কেদারপুর, ঘরিসার ও নড়িয়া পৌরসভার ১৫টি গ্রামে ভাঙনের তীব্রতা বেশি। গত দুমাসের ভাঙনে এখানকার প্রায় চার হাজার পরিবার গৃহহীন হয়েছে। গত শনিবার থেকে পদ্মা নদী আঘাত হেনেছে ২০০ বছরের পুরনো মুলফত্গঞ্জ বাজারে। গত সোমবার সন্ধ্যায় বাজারের বিপণিবিতানের একটি তিন তলা ভবনসহ একটি দ্বিতল ভবন নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। যেকোনো মুহূর্তে পদ্মার ভাঙনে বিলীন হয়ে যেতে পারে পাশের স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ভবনটি।

এ বিষয়ে নড়িয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সানজিদা ইয়াসমিন বলেন, ‘ভাঙন রোধে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার ব্যাপারে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে লিখিতভাবে জানানো হয়েছে।’

ফরিদপুর থেকে নিজস্ব প্রতিবেদক জানান, পদ্মা নদীর ভাঙনে শুধুই ছোট হয়ে আসছে ফরিদপুরের চরভদ্রাসন উপজেলা। গত ১৫ বছরে এ উপজেলার ৫৯টি গ্রাম পদ্মা নদীতে বিলীন হয়ে গেছে। উপজেলার ১৩৪টি গ্রামের মধ্যে এখন চারদিকে পদ্মাবেষ্টিত হয়ে আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছে বাকি ৭৫টি গ্রামের বাসিন্দারা।

ফরিদপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. সুলতান মাহমুদ বলেন, ‘বর্তমানে চরভদ্রাসন সদরের এমপিডাঙ্গি এলাকায় ৩৭৫ মিটারজুড়ে ভাঙন রয়েছে।’



মন্তব্য