kalerkantho


জব্দ বাসের চাপা

জন্মদিন পালন করা হলো না উত্তমের

নিজস্ব প্রতিবেদক ও টাঙ্গাইল প্রতিনিধি   

৪ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ০০:০০



থানায় নেওয়ার পথে জব্দ বাসের চাপায় পিষ্ট সাব-ইন্সপেক্টর (এসআই) উত্তম কুমারের জন্মদিন ছিল গতকাল সোমবার। এই বিশেষ দিনকে উপলক্ষ করে টাঙ্গাইল থেকে ঢাকায় আসতে চেয়েছিলেন মা কামনা রানী সরকার। তার আগেই রবিবার বিকেলে প্রাণ গেল প্রিয় সন্তানের।

জন্মদিন উপলক্ষে উত্তমের স্ত্রী-সন্তান ও স্বজনদের একত্রিত হয়ে আনন্দে কাটানোর কথা ছিল। গতকাল স্বজনরা একত্রিত হলো ঠিকই। তবে তা জন্মদিন পালনের জন্য নয়, তাঁকে শেষবারের মতো দেখার জন্য। রাতে নিহতের মরদেহ নেওয়া হয় শ্মশানে। আনন্দের বদলে কান্নায় ভাসল স্বজনরা।

নিহতের স্বজনরা জানায়, উত্তম কুমার পায়েস খুব পছন্দ করতেন। তাই জন্মদিনে ছেলেকে পায়েস খাওয়ানোর ইচ্ছা ছিল মায়ের। গত রবিবার বিকেলে ছেলের জন্য পায়েস রান্না করে তাঁর ঢাকার পথে রওনা হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু তার আগেই একটি ফোনে এলোমেলো হয়ে যায় সব। থেমে যায় পায়েস রান্না, বন্ধ হয়ে যায় ঢাকা যাওয়া।

পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, ছেলের সঙ্গে ঢাকায় থাকতেন মা কামনা রানী সরকার। ঈদের ছুটিতে তিনি গ্রামের বাড়ি কালিহাতীতে আসেন। ছেলের মৃত্যু সংবাদ পাওয়ার পর থেকে তিনি নির্বাক।

গতকাল সকাল ১১টার দিকে ঢাকা থেকে কালিহাতী গ্রামের বাড়ি আসেন উত্তম কুমারের স্ত্রী তমা। ৪৮ দিন বয়সী মেয়ে উপমাকে কোলে নিয়ে বারবার মুর্ছা যাচ্ছিলেন তিনি। মাঝেমধ্যে কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলছিলেন, ‘আমি কাকে নিয়ে বাঁচব, মেয়ের কী হবে? গতকাল (রবিবার) একসঙ্গে ওর জন্য কেক, গিফট কিনতে যাওয়ার কথা ছিল। সব সময় ওর সব পছন্দের খাবারগুলো রান্না করে দিতাম। এখন কাকে রান্না করে খাওয়াব?’

এদিকে এসআই উত্তম কুমার নিহতের ঘটনায় রাজধানীর শাহ আলী থানায় দুর্ঘটনা আইনে মামলা হয়েছে। বাদী হয়েছেন উত্তমের ভাই দিপঙ্কর সরকার। তবে নিহতের স্বজনরা বলছে, তাদের অভিযোগকে হত্যা মামলা হিসেবে গণ্য করে বাসচালককে কঠোর শাস্তি দেওয়া হোক।

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই খোকন চন্দ্র দেবনাথ জানিয়েছেন, আদালতে চালক বেলাল হোসেনের পাঁচ দিনের রিমান্ড আবেদন জানানো হয়েছে।

প্রসঙ্গত, গত ২৯ আগস্ট মিরপুর বেড়িবাঁধ এলাকায় জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যায়ের এক শিক্ষকের গাড়িকে ধাক্কা দেয় ঈগল পরিবহনের একটি বাস (ঢাকা মেট্রো ব ১৪-৬৮২৮)। গত রবিবার বিকেলে বাসটিকে জব্দ করে রূপনগর নেওয়া হচ্ছিল। বাসের সামনে মোটরসাইকেলে ছিলেন সাব-ইন্সপেক্টর উত্তম কুমার সরকার।



মন্তব্য