kalerkantho


ভাঙা রাস্তায় নাকাল হবিগঞ্জ শহরবাসী

হবিগঞ্জ প্রতিনিধি   

৪ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ০০:০০



ভাঙা রাস্তায় নাকাল হবিগঞ্জ শহরবাসী

হবিগঞ্জ পৌর শহরে রাস্তায় জমে আছে পানি। ছবি : কালের কণ্ঠ

হবিগঞ্জ পৌর শহরের বিভিন্ন সড়ক ভেঙে খানাখন্দের সৃষ্টি হয়েছে। এতে যান চলাচলে জনসাধারণকে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। সামান্য বৃষ্টি হলে রাস্তার অবস্থা আরো করুণ আকার ধারণ করে। বিশেষ করে বাণিজ্যিক এলাকাগুলোতে রাস্তা নষ্ট থাকায় ব্যবসায়ীরা বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়েছেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, হবিগঞ্জ পৌর শহরের প্রধান সড়কের চৌধুরী বাজার ট্রাফিক পয়েন্ট, ঘাটিয়া বাজার, বগলাবাজার ও বাইপাস সড়কের বিভিন্ন স্থান ভেঙে বড় বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। রাস্তাগুলো দীর্ঘদিন ধরে সংস্কার না করায় একটু বৃষ্টি হলেই গর্তগুলোতে হাঁটুপানি জমে থাকে। এতে যানবাহনসহ সাধারণ যাত্রীদের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হয়। এদিকে ভাঙা রাস্তা দিয়ে যান চলাচলের কারণে দুর্ঘটনা যেমন বাড়ছে, তেমনি যানবাহনগুলোও বিকল হয়ে যাচ্ছে। বিশেষ করে শহরের গুরুত্বপূর্ণ এলাকা ঘাটিয়া বাজারের রাস্তা ভেঙে বড় বড় গর্ত হওয়ায় ওই এলাকার ব্যবসায়ীরা বেশি ক্ষতির মুখে পড়েছেন। ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, রাস্তা সংস্কারের জন্য তাঁরা বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে ধরনা দিয়েও কোনো ফল পাননি।

এ ব্যাপারে ঘাটিয়া বাজারের এসডি স্টোরের ব্যবস্থাপক অর্জুন রায় জানান, কয়েক মাস ধরে ঘাটিয়া বাজারের রাস্তার অবস্থা নাজুক। একটু বৃষ্টি হলেই রাস্তায় হাঁটুপানি জমে। রাস্তা দিয়ে চলাচল করা যায় না। রাস্তার এ অবস্থার কারণে ঈদুল আজহায় অন্যান্য বছরের চেয়ে এবার ক্রেতা উপস্থিতি ছিল কম। তিনি বলেন, ‘এ ব্যাপারে স্থানীয় পৌর কাউন্সিলর ও মেয়রের কাছে গিয়েও আমরা কোনো ফল পাইনি। অবিলম্বে ওই রাস্তা সংস্কারের জন্য কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি কামনা করছি।’ আয়েশা ফেব্রিক্সের স্বত্বাধিকারী রোটারিয়ান মোশাহিদ আলম জানান, ঘাটিয়া বাজারটি কাপড়ের ব্যবসার একটি গুরুত্বপূর্ণ স্থান। এখানে জেলার বিভিন্ন স্থান থেকে লোকজন আসে। কিন্তু রাস্তার করুণ দশার কারণে ক্রেতারা বিড়ম্বনায় পড়েন। অথচ ব্যবসায়ীরা পৌরসভাকে সর্বোচ্চ কর দিচ্ছেন। তিনি অবিলম্বে রাস্তাটি সংস্কারের দাবি জানান। শহরের পুরান বাজারের ব্যবসায়ী আতাউর রহমান বলেন, ‘দীর্ঘদিন ধরে পুরান বাজার থেকে বগলাবাজারের সড়কটি ভেঙে বড় বড় গর্ত হয়ে আছে। একটু বৃষ্টি হলেই গর্তগুলোতে পানি জমে থাকে। সাধারণ যাত্রীদের চলাচলে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। আমরা যারা ব্যবসায়ী, আমাদের মালবাহী ট্রাক আসা-যাওয়া করতেও সমস্যা হচ্ছে। অথচ কর্তৃপক্ষ রাস্তা সংস্কারের কোনো উদ্যোগ নিচ্ছে না।’

এ ছাড়া শহরের গুরুত্বপূর্ণ স্থান চৌধুরী বাজার ট্রাফিক পয়েন্ট এলাকায় রাস্তা ভেঙে গর্তের সৃষ্টি হওয়ায় যাত্রীসহ পরিবহন শ্রমিকদের চরম দুর্ভোগের শিকার হতে হচ্ছে। চৌধুরী বাজার এলাকার ব্যবসায়ী খায়রুল আলম বলেন, ‘চৌধুরী বাজার মোড়ে রাস্তা নষ্ট থাকায় সেখানে সব সময় যানজট লেগে থাকে। ফলে ওই এলাকার ব্যবসায়ীরা বিভিন্নভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। সামান্য বৃষ্টিতেই সেখানে কাদা-পানিতে একাকার হয়ে যায়।’ টমটম চালক মোশাহিদ মিয়া জানান, শহরের অধিকাংশ সড়ক ভাঙা। সড়কগুলো দিয়ে চলাচল করতে যাত্রীদের যেমন দুর্ভোগ পোহাতে হয়, তেমনি টমটমগুলো দু-এক দিন পর পর বিকল হয়ে যায়। অনেক সময় দুর্ঘটনাও ঘটে।

এ ব্যাপারে হবিগঞ্জ পৌরসভার ভারপ্রাপ্ত মেয়র দিলীপ দাস জানান, হবিগঞ্জ শহরে পরিকল্পিত ড্রেনেজ ব্যবস্থা না থাকায় রাস্তাগুলো ভেঙে যাচ্ছে। তবে ব্যাপক পরিকল্পনা নিয়ে টেকসই উন্নয়নে কাজ করছে পৌরসভা।

তবে অন্যান্য বিভাগের চেয়ে হবিগঞ্জ সড়ক ও জনপথ বিভাগের সড়কগুলো অনেক ভালো দাবি করে হবিগঞ্জ সড়ক বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মোহাম্মদ জহিরুল ইসলাম জানান, সড়ক বিভাগের আওতায় বাইপাস কমান্ডার মানিক চৌধুরী সড়ক ও চৌধুরী বাজার ট্রাফিক পয়েন্ট অংশে ২০-২৫ মিটার সড়ক ভাঙা রয়েছে। চৌধুরী বাজার ট্রাফিক পয়েন্ট এলাকায় দুই পাশে উঁচু দোকান থাকায় জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়। এ কারণে সেখানে কিছুদিন পর পর সড়ক ভেঙে যায়। তিনি বলেন, ‘বাইপাস কমান্ডার মানিক চৌধুরী সড়ক সংস্কারের জন্য ১১ কোটি টাকার প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে। এ প্রকল্পের কাজ ইতিমধ্যে শুরু হয়েছে। আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে কাজ শেষ হবে।’



মন্তব্য