kalerkantho


লালপুরে ঘরে বসেই যুব প্রশিক্ষণের সনদ মেলে

নাটোর প্রতিনিধি   

৪ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ০০:০০



লালপুর যুব প্রশিক্ষণকেন্দ্রে না এসেই পাওয়া যায় সনদ (সার্টিফিকেট)। প্রশিক্ষণ না নিয়েই সনদ পাওয়া যায় বলে বেশির ভাগ শিক্ষার্থীই ক্লাসে হাজির হয় না। অনেক সময় শিক্ষার্থী হাজির হলেও মেলে না প্রশিক্ষকদের দেখা। তাঁরা নিজেদের খেয়াল-খুশি মতো আসেন। তা ছাড়া প্রশিক্ষণার্থীদের খাওয়া-দাওয়াসহ যেসব সুযোগ-সুবিধা সরকারিভাবে দেওয়ার কথা তাও সঠিকভাবে দেওয়া হয় না। সম্প্রতি বেশ কয়েকজন শিক্ষার্থী ও এলাকাবাসীর অভিযোগের ভিত্তিতে এ প্রতিবেদক লালপুর যুব প্রশিক্ষণকেন্দ্র ঘুরে এসব অনিয়মের প্রমাণ পান।

সরেজমিনে গত বৃহস্পতিবার দুপুর ১২টার দিকে গিয়ে দেখা যায়, প্রশিক্ষকদের চেয়ার ফাঁকা পড়ে আছে। নেই কোনো শিক্ষার্থীও। পরে হোস্টেলে গিয়ে এবং এলাকা থেকে কিছু শিক্ষার্থী খুঁজে বের করা হয়। তারা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানায়, ‘হোস্টেলে আমাদের তিন বেলা খাবার দেওয়ার কথা। কিন্তু তা দেওয়া হয় না। এক বেলার খাবার তিন বেলা খেতে হয়। আবার বেশির ভাগ সময়ই পচা-বাসি খাবার দেয়। যা খেয়ে হোস্টেলে থাকা আমাদের পক্ষে সম্ভব হয় না।’ এ বিষয়ে প্রধান বাবুর্চি সালাহউদ্দিন বলেন, ‘প্রতিদিন তিন বেলা ৬০ জন শিক্ষার্থীর জন্য রান্না করার কথা। কিন্তু গড়ে ১৫-২০ জন শিক্ষার্থীর রান্না করা হয়।’ বাকি শিক্ষার্থীদের বাজেটের টাকা কি হয়—প্রশ্ন করলে তিনি জানেন না বলে জানান। এ সময় তিনি আরো বলেন, ‘চলতি প্রশিক্ষণের আগের প্রশিক্ষণে তো একটা শিক্ষার্থীও ছিল না। বাড়িতে বসেই তারা সনদ পেয়ে যায়।’

প্রশিক্ষকদের কক্ষে গিয়ে দেখা গেছে, জ্যেষ্ঠ প্রশিক্ষক (পশুপালন) কামরুজ্জামান ও রাজু আহম্মেদ, জ্যেষ্ঠ প্রশিক্ষক কৃষি (ডাইনিং কর্মকর্তা) মেহেদুল ইসলাম নেই। এ বিষয়ে উপসমন্বয়ক (ডেপুটি কো-অর্ডিনেটর) শফিকুল ইসলাম বলেন, ‘জ্যেষ্ঠ প্রশিক্ষকরা এসেছিলেন। আমাকে কিছু না বলে চলে গেছেন।’ শিক্ষার্থীদের হাজিরা খাতা দেখতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আমার কাছে খাতা নেই। এগুলো দেখানো সম্ভব না।’ একজন শিক্ষার্থীও নেই কেন—প্রশ্ন করলে তিনি কোনো সদুত্তর দিতে পারেননি। প্রশিক্ষণার্থীরা না এলে তাদের খাবারের টাকা কি হয় এমন প্রশ্ন করলেও তিনি চুপ থাকেন। তিনি বলেন, ‘আমি এ বিষয়ে কথা বলতে পারব না।’



মন্তব্য