kalerkantho


বিতর্কিত এসআই ফেরায় হোতাপাড়ায় আতঙ্ক

নিজস্ব প্রতিবেদক   

৩ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ০০:০০



বিতর্কিত এসআই ফেরায় হোতাপাড়ায় আতঙ্ক

এসআই নাজমুল হক

গাজীপুরের জয়দেবপুর থানার হোতাপাড়া ফাঁড়িতে আবারও ফিরে এসেছেন বিতর্কিত এসআই নাজমুল হক। এতে এলাকাজুড়ে আতঙ্ক দেখা দিয়েছে। এসআই নাজমুল হকের বিরুদ্ধে ফাঁড়ির ইনচার্জ থাকার সময় নিরীহ মানুষদের ধরে এনে নাশকতা, জঙ্গি ও ইয়াবা মামলায় জড়িয়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। সর্বশেষ গত ২৯ মার্চ অনুষ্ঠিত সদর উপজেলার ভাওয়াল গড়, মির্জাপুর ও পিরুজালীর ইউপি নির্বাচনে বিএনপির দুই চেয়ারম্যান প্রার্থীর থেকে দামি গাড়ি উপহার নিয়ে প্রভাব বিস্তারের সত্যতা পাওয়ায় তাঁকে ফাঁড়ি থেকে প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়েছিল। তাঁর বিদায়ে এলাকায় স্বস্তি ফিরে আসে। কিন্তু মাত্র সাড়ে চার মাসের ব্যবধানে ফের ফাঁড়িতে ফিরে আসায় এলাকায় আতঙ্ক চলছে।

এসআই নাজমুলের অপকর্ম নিয়ে ‘পদোন্নতির ৩ বছরেই ফুলেফেঁপে এসআই নাজমুল’ শিরোনামে গত ২৭ জুলাই কালের কণ্ঠে সংবাদ প্রকাশিত হলে পুলিশ বিভাগে তোলপাড় হয়। এর মধ্যেই গত ১৭ আগস্ট ফের হোতাপাড়া ফাঁড়িতে যোগ দেন তিনি।

নাম না প্রকাশের শর্তে পিরুজালী ইউনিয়ন পরিষদের একজন সদস্য ও কয়েকজন ভুক্তভোগী অভিযোগ করে বলেন, গত ১৭ আগস্ট ফাঁড়িতে যোগদান করেই আবারও অপকর্ম শুরু করেছেন এসআই নাজমুল। যোগদানের রাতেই রাজেন্দ্রপুরের গজারি বনের বসায় অবৈধ জুয়ার আসর বসান। গত ২৫ আগস্ট রাতে বাড়ি থেকে বিনা অভিযোগে মির্জাপুরের কলেজপাড়া এলাকার সবুর আলীর ছেলে ইট ব্যবসায়ী হাবিবুর রহমান হবিকে (৩৫) ধরে আনা হয়। পরে ইয়াবা মামলায় গ্রেপ্তারের ভয় দেখিয়ে তাঁর কাছ থেকে ২০ হাজার টাকা আদায় করা হয়। ২৬ আগস্ট রাতে পিরুজালী গ্রামের ময়তাপাড়া থেকে স্থানীয় ওয়াসীম, মাজাহারসহ পাঁচজনকে আটক করেন। ফাঁড়িতে নিয়ে আসার পথে ৬০ হাজার টাকা নিয়ে তাঁদের ছেড়ে দেওয়া হয়। এর আগে ২০ আগস্ট রাতে বাড়ি থেকে তুলে এনে পানিশাইল এলাকার আবদুল কাদেরের ছেলে জনির (৩০) কাছ থেকে ৪৫ হাজার টাকা হাতিয়ে নেন। ঈদের আগের রাতে একই এলাকার ফলু মিয়ার ছেলে ভাঙ্গারি ব্যবসায়ী আমজাদ হোসেনের কাছ থেকে দুই লাখ এবং আফসার উদ্দিনের ছেলে আরিফুল (২৫), জমির উদ্দিনের ছেলে বাদল (৩৫) ও নন্দকের (৩৭) কাছ থেকে ৫০ হাজার টাকা আদায় করেন। ২৭ আগস্ট একই এলাকার আবদুল হকের ছেলে ইট ব্যবসায়ী আবুল হোসেনকে ধরে এনে ৩০ হাজার টাকা নেন। মাদক মামলায় আটক ও রিমান্ডে নিয়ে নির্যাতনের ভয় দেখিয়ে এসব টাকা হাতিয়ে নেন এসআই নাজমুল। ভাওয়াল গড় ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান আওয়ামী লীগ নেতা সালাউদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘প্রথম দফায় এসআই নাজমুল তিন বছরের বেশি হোতাপাড়া ফাঁড়িতে ছিলেন। ওই সময় তাঁর বিরুদ্ধে গ্রেপ্তার বাণিজ্য ও জুয়ার আসর বসিয়ে কোটি কোটি হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছিল। তাঁর বদীিতে এলাকায় স্বস্তি ফিরে এলেও আবার সবাই উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছে। তাঁর বিরুদ্ধে মুখ খুললে দেখে নেওয়ারও হুমকি আসছে।’

এদিকে গত আগস্টে গাজীপুরের নবাগত পুলিশ সুপারের সঙ্গে মতবিনিময়কালে সাংবাদিকদের অনেকেই এসআই নাজমুলের গ্রেপ্তার বাণিজ্যসহ নানা অপকর্ম তুলে ধরে বক্তব্য দেন। এ সময় পুলিশ সুপার অভিযোগ তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেন।

 

 



মন্তব্য