kalerkantho


ছাত্রলীগকর্মীদের ‘দুঃখ’ শোনার নেতা নেই

বিয়ানীবাজারে দুই যুগ ধরে কমিটিহীন সংগঠনটি

বিয়ানীবাজার (সিলেট) প্রতিনিধি   

৩ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ০০:০০



সিলেটের বিয়ানীবাজারে ছাত্রলীগ নেতাকর্মীদের ‘দুঃখ’ শোনার কেউ নেই। তারুণ্যের পুরো সময় রাজপথে কাটিয়ে অনেক দাঙ্গা-ফ্যাসাদের সাক্ষী হওয়ার পরও তাদের ভাগ্যে পদ-পদবি জুটেনি। দুই যুগ পেরিয়ে গেলেও গঠিত হয়নি ছাত্রলীগের কমিটি।

সম্প্রতি ছাত্রলীগের বিবদমান পক্ষগুলোকে নিয়ে বিয়ানীবাজারে একটি বৈঠক করেন শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ এমপি। বৈঠকে ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি আবুল কাশেম পল্লবের পক্ষের কোনো নেতাকর্মী অংশ নেয়নি। অন্য পাঁচটি পক্ষের নেতাকর্মীদের নিয়ে অনুষ্ঠিত বৈঠকে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘বিবদমান সব পক্ষ একীভূত হয়ে নিজেদের মধ্যে আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে সমঝোতায় পৌঁছাতে হবে। এখানে কোনো বিরোধ সৃষ্টি হলে আমি বিষয়টি দেখব।’ শিক্ষামন্ত্রীর এমন বক্তব্যে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন।

বিয়ানীবাজারে দুই যুগের বেশি ধরে ছাত্রলীগের পূর্ণাঙ্গ কমিটি নেই। দীর্ঘ সময়েও পূর্ণাঙ্গ কমিটি না থাকায় নেতৃত্বের জটলায় জর্জরিত ছাত্রলীগ। কী কারণে কিংবা কাদের ইশারায় বিয়ানীবাজারে ছাত্রলীগের কমিটি নিয়ে এমন অবস্থা তা অনেকের অজানা। এদিকে আরব আমিরাত সফররত রিভারবেল্ট গ্রুপের নেতা ইকবাল হোসেন তারেক ফেসবুকে এক স্ট্যাটাসে ছাত্রলীগের রাজনীতি ও ভবিষ্যৎ মূল্যায়ন নিয়ে তাঁর কষ্টের অনেক কথা তুলে ধরেন। এর আগে আরেকটি স্ট্যাটাসে ছাত্রলীগকে পাবলিক সাপ্লাইয়ের কাজ করতে হয় বলে মন্তব্য করেন তিনি।

সর্বশেষ জামাল-পল্লব-জাকির কমিটি জেলা শাখা বিলুপ্ত ঘোষণা করলে কোন্দল আরো তীব্র হয়ে ওঠে। কমিটি না থাকায় কেউ কারো কথা শোনে না। এ অবস্থায় চেইন অব কমান্ড ভেঙে পড়ায় ছাত্রলীগের কোন্দল নিয়ে আওয়ামী লীগ নেতারা হয়ে পড়েন গলদগর্ম। মাত্র এক বছরে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে রেকর্ডসংখ্যক ২০ বার নিজেদের মধ্যে সংঘর্ষে জড়ায় ছাত্রলীগ। মামলা-পাল্টা মামলায় নেতাকর্মীরা হয়ে পড়ে অসহায়। বর্তমানে বিয়ানীবাজারে মূলধারা গ্রুপ, রিভার বেল্ট গ্রুপ, জামাল হোসেন গ্রুপ, পাভেল মাহমুদ গ্রুপ, আবুল কাশেম পল্লব গ্রুপ আলাদাভাবে তাদের রাজনৈতিক কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে। তাদের মধ্যে আবার বিভিন্ন উপগ্রুপ আছে।

সিলেট জেলা ছাত্রলীগের সাবেক আপ্যায়ন সম্পাদক পাভেল মাহমুদ জানান, শিক্ষামন্ত্রীর ভূমিকায় আমরা সন্তুষ্ট হতে পারিনি। আমরা সমঝোতা করতে পারলে অনেক আগেই কমিটি গঠন করা সম্ভব হতো।

সাবেক আহ্বায়ক মো. জামাল হোসেন জানান, মন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকে দুটি পক্ষ কমিটি গঠনের দাবি জানালেও অপর পক্ষগুলো বিগত দিনে তাদের বঞ্চনার কথা তুলে ধরেছে।

সিলেট জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সদস্য মো. কাওছার আহমদ জানান, শিক্ষামন্ত্রী মহোদয়ের এমন বক্তব্যে আমরা মর্মাহত হয়েছি। আমাদের আশা ছিল মন্ত্রী মহোদয় ওই সভায় কমিটি গঠন নিয়ে একটি স্পষ্ট নির্দেশনা দেবেন। কিন্তু তিনি দায়সারা বক্তব্য দিয়ে আমাদের আশাহত করেছেন।



মন্তব্য