kalerkantho


দুই চিকিৎসক দিয়ে চলছে লাখো মানুষের স্বাস্থ্যসেবা

ঝালকাঠি ও কাঁঠালিয়া প্রতিনিধি   

৩ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ০০:০০



ঝালকাঠির কাঁঠালিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসক সংকটের কারণে স্বাস্থ্যসেবা ব্যাহত হচ্ছে। মাত্র দুজন চিকিৎসক দিয়ে লক্ষাধিক মানুষের চিকিৎসাসেবা চলছে। প্রয়োজনীয় জনবল না থাকায় স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটিতে বিভিন্ন অনিয়ম আর অব্যবস্থাপনা ভর করেছে। বর্তমানে বেশির ভাগ সময় স্বাস্থ্যসেবা দিচ্ছেন চিকিৎসা সহকারীরা।

১৯৬৩ সালে কাঁঠালিয়া উপজেলা সদর থেকে ১০ কিলোমিটার দূরে আমুয়া বন্দরে ৩১ শয্যার এ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটি নির্মিত হয়। ২০১৫ সালে আরো ১৯ শয্যা বাড়িয়ে ৫০ শয্যায় উন্নীত করা হয়। ১৫ জন চিকিৎসকের পদ থাকলেও বর্তমানে আছেন মাত্র দুজন। বেশির ভাগ সময় স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তাকে প্রশাসনিক কাজে বাইরে থাকতে হয়। তখন মাত্র একজন চিকিৎসক দিয়ে চলে স্বাস্থ্যসেবা।

চিকিৎসক, নার্স, টেকনিশিয়ান ও কর্মকারী সংকটের কারণে ৫০ শয্যার এ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটি বেহাল হয়ে পড়েছে। এদিকে পুরনো ৩১ শয্যার ভবনটি ব্যবহার অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। তাই ১৯ শয্যার নতুন ভবনে চলছে ৫০ শয্যার সেবার কাজ। চিকিৎসক সংকট থাকা সত্ত্বেও এখান থেকে সম্প্রতি শফিকুল হাসান নামের একজন সহকারী সার্জন যোগদানের মাত্র দুই মাসের মধ্যে বরিশালের শের-ই-বাংলা মেডিক্যাল কলেজে বদলি হয়ে যান। এ অবস্থায় প্রত্যাশিত সেবা মিলছে না স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে। তাই রোগীর সংখ্যাও দিন দিন কমছে। স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তার অনুপস্থিতিতে একমাত্র চিকিৎসক নিশাত সাহিদা সামলাচ্ছেন সব বিভাগের রোগীদের।

স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ভেতরের পরিবেশও নোংরা। গাইনি ও ডেন্টাল বিশেষজ্ঞের পদ দুটি শুরু থেকেই শূন্য। উপজেলা সদরসহ দুটি সাব-সেন্টার ও চারটি ইউনিয়নের ছয়জন চিকিৎসকের পদ দীর্ঘদিন ধরে শূন্য রয়েছে। এক যুগ ধরে দুটি ল্যাব টেকনিশিয়ান পদ খালি থাকায় প্যাথলজি ল্যাব এক্স-রে মেশিন বন্ধ। প্যাথলজিতে রি-এজেন্ট সংকটের অজুহাতে রোগীদের প্রস্রাব-পায়খানা ও রক্ত পরীক্ষা হয় না। বাধ্য হয়ে রোগীদের পাশের বেসরকারি ক্লিনিকে অতিরিক্ত খরচে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করাতে হচ্ছে। কাঙ্ক্ষিত সেবা না পেয়ে ভুক্তভোগীরা ভাণ্ডারিয়া কিংবা বরিশালে যেতে বাধ্য হচ্ছে। এ ছাড়া ১০ জন নার্সের পদ থাকলেও আছেন মাত্র চারজন।

হাসপাতালে চিকিৎসাধীন তারাবুনিয়া গ্রামের রাজীব খান বলেন, ‘চার-পাঁচ দিন ধরে এখানে ভর্তি আছি। বেশির ভাগ ওষুধ বাইরে থেকে কিনতে হচ্ছে। এখানকার সেবার মান অত্যন্ত খারাপ।’

মরিচবুনিয়া গ্রামের গৃহবধূ রোকসানা বেগম বলেন, ‘হাসপাতালে এসে মাত্র দুজন চিকিৎসকের কক্ষ খোলা পেয়েছি। সকালে এসেও দুপুর পর্যন্ত ডাক্তার দেখাতে পারিনি।’

এ ব্যাপারে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. তাপস কুমার তালুকদার বলেন, ‘মাত্র দুজন চিকিৎসক দিয়ে রোগীদের প্রত্যাশিত চিকিৎসাসেবা দেওয়া সম্ভব নয়। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে একাধিকবার চাহিদা পাঠানো হলেও কোনো ফল হচ্ছে না।’



মন্তব্য