kalerkantho


চৌগাছা

সাত কোটি টাকার সেতুর সংযোগ সড়কে ভাঙন

চৌগাছা (যশোর) প্রতিনিধি   

৩ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ০০:০০



সাত কোটি টাকার সেতুর সংযোগ সড়কে ভাঙন

যশোরের চৌগাছা উপজেলার নারায়ণপুরে কপোতাক্ষ নদের ওপর নির্মিত সেতুর সংযোগ সড়কে ভাঙন দেখা দিয়েছে। ছবি : কালের কণ্ঠ

যশোরের চৌগাছার নারায়ণপুরে কপোতাক্ষ নদের ওপর নির্মিত সেতুটির সংযোগ সড়কে ভাঙন দেখা দিয়েছে। দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে সড়কটি কপোতাক্ষের গর্ভে বিলীন হয়ে যেতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। এ অবস্থায় সড়কটি মেরামতের জন্য কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আর্কষণ করেছে চৌগাছাবাসী।

জানা যায়, উপজেলার নারায়ণপুর, হাকিমপুর ইউনিয়নবাসীসহ এলাকার কমপক্ষে ৫০ হাজার মানুষের চলাচলের একমাত্র মাধ্যম ওই সেতু। ১৯৯৬ সালের শেষের দিকে সাবেক বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অধ্যাপক রফিকুল ইসলাম সেতু নির্মাণের জন্য ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন।

পরে সেতুটি নির্মাণের কাজ শুরু হয়। সরকার পরিবর্তনের পরপরই নির্মাণকাজ বন্ধ হয়ে যায়। এরপর সেতুটি নির্মাণের জন্য সাবেক মন্ত্রী তরিকুল ইসলাম আবার ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন। কাজও শুরু হয়। কিন্তু অজ্ঞাত কারণে আবারও নির্মাণকাজ বন্ধ হয়ে যায়। সর্বশেষ বর্তমান সরকারের যোগাযোগ মন্ত্রণালয় সেতুটি নির্মাণের জন্য ছয় কোটি ৮৭ লাখ ৭৪ হাজার ১৫৬ টাকা বরাদ্দ দেয়। এই বরাদ্দের পর সরকারের প্রথম দিকে  সেতুটি আবার নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়। সেতুর কাজ শেষ হওয়ার পর দুই পাশের সংযোগ সড়ক তৈরি করা হয়। কাজ শেষে সেতুটি ব্যবহারের জন্য খুলে দেওয়া হয়। কিন্তু আনুষ্ঠানিকভাবে সরকারের পক্ষ থেকে উদ্বোধন করা হয়নি। পরে কয়েক বছর না যেতেই সেতুর পূর্ব পাশে সংযোগ সড়কে দেখা দেয় ভাঙন। প্রথম দিকে এই ভাঙন অল্প হলেও বর্তমানে তা ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে।

নারায়ণপুর গ্রামের আবু সাঈদ রাজু জানান, সেতুটি নির্মাণের পর এ অঞ্চলের মানুষের কষ্ট বহুলাংশে কমে  গেছে। বিশেষ করে কৃষক তার উৎপাদিত ফসল যথাসময়ে বাজারে নিয়ে ন্যায্য দামে বিক্রি করে লাভবান হতে থাকে। অসুস্থ মানুষ দ্রুত সময়ের মধ্যে উপজেলা সদরে গিয়ে চিকিৎসাসেবা নিতে পারছে। অনেকে সেতুটি দেখার জন্য বেড়াতে আসে। কিন্তু হঠাৎ করে সেতুর দুই পাশের সড়ক ভেঙে পাশের পুকুরে গিয়ে পড়েছে। সড়ক সংকুচিত হয়ে আসছে। এমন পরিস্থিতিতে সড়ক ভালো না হলে দুর্ঘটনা ঘটার আশঙ্কা আছে।

এ বিষয়ে যশোর সড়ক ও জনপথ বিভাগের (সওজ) উপসহকারী প্রকৌশলী আহসান উল কবির বলেন,  ‘সেতুর দুই পাশে সড়কের কিছু ক্ষতি হয়েছে বলে জেনেছি। তবে এগুলো রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব উপজেলা প্রকৌশলী অধিদপ্তরের। সেতু নির্মাণের পর সেটি সংশ্লিষ্ট দপ্তরকে বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছে।’

উপজেলা প্রকৌশলী রাশেদুল হাসান জানান, সেতুর দুই পাশে সামান্য ক্ষতির খবরটি শুনেছি। দ্রুত খোঁজখবর নিয়ে তা মেরামত করা হবে। তবে এ ক্ষেত্রে জনগণকেও একটু সচেতন হতে হবে। সড়কের দুই পাশে তারা যেন মাটি না কাটে বা সড়কের ক্ষতিসাধন না করে।



মন্তব্য