kalerkantho


গলার কাঁটা গলাচিপা খাল

গলাচিপা (পটুয়াখালী) প্রতিনিধি   

২ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ০০:০০



গলার কাঁটা গলাচিপা খাল

দখল, সংস্কারের অভাব ও বাঁধ—এ তিন কারণে ক্রমশ অস্তিত্ব হারাচ্ছে গলাচিপা পৌর শহরের একমাত্র ‘গলাচিপা খাল’। শুকনো মৌসুমে এ খাল থেকে দুর্গন্ধ ছড়ায়। বর্ষায় হয় জলাবদ্ধতা। ফলে খালটি এখন গলাচিপাবাসীর গলার কাঁটা হয়ে দাঁড়িয়েছে।

জানা যায়, ওই খালকে কেন্দ্র করেই গলাচিপা শহর গড়ে ওঠে। খালটির দৈর্ঘ্য প্রায় সাত কিলোমিটার। এর মধ্যে পৌর এলাকায় পড়েছে ২.৫ কিলোমিটার। ওই খালের পশ্চিম দিকে রামনাবাদ নদী ও পূর্ব দিকে তেঁতুলিয়া নদী। মাঝখানে গলাচিপা পৌর শহর।

১৯৯৭ সালে গলাচিপা পৌরসভা হওয়ার পর খালের কাজী মসজিদ এলাকায় একটি অপরিকল্পিত বাঁধ দিয়ে তুলনামূলক ছোট একটি পাইপ বসানো হয়। এ পাইপ দিয়ে শুকনো মৌসুমে পানি চলাচল করতে পারে না। অন্যদিকে খালের দুই পার সংকুচিত হয়ে যায়। জোয়ার-ভাটা এখন বন্ধ প্রায়। বর্তমানে ওই বাঁধ কেটে একটি স্লুইস গেট করা হয়েছে। কিন্তু তাও খুব ছোট করে। স্বাভাবিক নাব্যতা নেই খালের। এ অবস্থায় খালের দুই পারে বসবাস করা ব্যক্তিরা দখল করে নিচ্ছে খালের জমি।

এদিকে খালটির গুরুত্ব বিবেচনায় নিয়ে গলাচিপা পৌরসভা কর্তৃপক্ষ তিন মাস আগে স্থানীয় বাসিন্দাদের নিয়ে একটি সভা করে। কিন্তু একটি প্রভাবশালী মহল ওই সভায় নানা জটিলতা তৈরি করে। এরপর থেকে থমকে আছে খালখননের কাজ। তবে শহরবাসীর প্রাণের দাবি খালটি সচল করা হোক।

এ ব্যাপারে গলাচিপা বন্দরের ব্যবসায়ী অরুণ রায় বলেন, ‘খালটি দখলমুক্ত করে ময়লা পরিষ্কার করে জোয়ার-ভাটার পানি চলাচলের ব্যবস্থা করে দিলে অনেক সুবিধা হয়।’ পৌর এলাকার ২ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা মো. শহিদ বয়াতী জানান, ‘খালটি দখলমুক্ত করে পানি চলাচল করার ব্যবস্থা করে দিলে পৌর এলাকার সৌন্দর্য বৃদ্ধি পাবে।’

গলাচিপার পৌর মেয়র আহসানুল হক তুহিন বলেন, ‘খালটি সংস্কারের জন্য উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ ব্যাপারে দাতা সংস্থার কাছে একাধিক প্রজেক্ট প্রোফাইল (পিপি) পাঠানো হয়েছে। কয়েক মাস আগে আমরা খালের দুই পারের বসতিদের নিয়ে মিটিং করেছি। কিন্তু এখন পর্যন্ত কোনো সমাধানে আসতে পারিনি। খালটি দখলমুক্ত করার জন্য জেলা প্রশাসকের কাছে চিঠি দেওয়া হয়েছে। খুব তাড়াতাড়িই দখলদারদের উচ্ছেদ অভিযান শুরু হবে। পরিকল্পনা অনুযায়ী খালের দুই পারে রাস্তা করে দিয়ে মাঝখানে লেক করা হবে।’



মন্তব্য