kalerkantho


দৌলতদিয়া যৌনপল্লী

দেড় বছরে ২০ তরুণীর ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার

গোয়ালন্দ (রাজবাড়ী) প্রতিনিধি   

২ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ০০:০০



রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলার দৌলতদিয়া যৌনপল্লীতে আত্মহত্যার ঘটনা দিন দিন বাড়ছে। গত শুক্রবার রাতে এক যৌনকর্মীর ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। এ নিয়ে গত দেড় বছরে ২০ যৌনকর্মীর ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করা হয়েছে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, পল্লীতে প্রায় দুই হাজার যৌনকর্মীর বসবাস। এর মধ্যে পাঁচ শতাধিক শিশু-কিশোরী রয়েছে। সেখানে ভালোবাসার মানুষের সঙ্গে অভিমান, বাড়িওয়ালিদের অত্যাচার, মোটা অঙ্কের টাকার ঋণের বোঝা, নেশায় আসক্তিসহ নানা কারণে তাদের অনেকেই আত্মহত্যার পথ বেছে নেয়। শুক্রবার রাতে মারা যাওয়া সাথী আক্তার (২৪) কয়েক মাস ধরে শহিদের বাড়িতে ভাড়াটিয়া ছিলেন। সন্ধায় বসতঘরের ভেতরে গিয়ে দরজা বন্ধ করে দেন। পরে রাত ১০টার দিকে আড়ার সঙ্গে ওড়না পেঁচিয়ে ফাঁসিতে ঝোলেন। এ সময় বিষয়টি টের পেয়ে পাহারাদাররা স্থানীয় থানা পুলিশে খবর পাঠান। খবর পেয়ে রাতেই পুলিশের একটি দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে দরজা ভেঙে লাশ উদ্ধার করে। গতকাল শনিবার সকালে ময়নাতদন্তের জন্য লাশটি রাজবাড়ী সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়। এ ব্যাপারে গোয়ালন্দ ঘাট থানায় একটি অপমৃত্যু মামলা করা হয়েছে। গত দেড় বছরে আত্মহত্যা করা যৌনকর্মীরা হলো লতা আক্তার, সুমী আক্তার, লিপি বেগম, শারমীন আক্তার, লাবনী আক্তার, বৃষ্টি আক্তার, হালিমা বেগম, শিমলা বেগম, কাজলী আক্তার, প্রিয়া আক্তার, জয়গন বেগম, মিতু আক্তার, লিপি আক্তার, রাশিদা বেগম, সেতু আক্তার, নিলু বেগম, শরিফা বেগম, মনোয়ারা বেগম ও রহিমা আক্তার।

পল্লীর অবহেলিত মহিলা ও শিশু উন্নয়ন সংস্থার সভাপতি পারভিন সুলতানা বলেন, ‘প্রশাসনিকভাবে পল্লীর বিভিন্ন অনিয়ম দূর করার পাশাপাশি নিয়মিত কাউন্সিলিংয়ের মাধ্যমে আত্মহত্যার সংখ্যা কমানো সম্ভব।’

এ বিষয়ে গোয়ালন্দ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আবু নাসার উদ্দিন বলেন, ‘বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’



মন্তব্য