kalerkantho


ফুলবাড়ীতে টাকা চুরির অভিযোগে ছাত্রকে শিক্ষকের নির্যাতন

দিনাজপুর প্রতিনিধি   

২ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ০০:০০



ফুলবাড়ীতে টাকা চুরির অভিযোগে ছাত্রকে শিক্ষকের নির্যাতন

দিনাজপুরের ফুলবাড়ী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের বিছানায় কাতরাচ্ছে শিশু শাকিল। ছবি : কালের কণ্ঠ

দিনাজপুরের ফুলবাড়ীতে টাকা চুরির অভিযোগে মাদরাসাছাত্র মো. শাকিলকে নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে শিক্ষকের বিরুদ্ধে। ঘটনাটি ঘটেছে গত শুক্রবার সন্ধ্যায় দেবীপুর হাফিজিয়া মাদরাসার আবাসিক কক্ষে। শাকিল মাদরাসাটির নাজরানা বিভাগের ছাত্র। অভিযুক্ত হাবিব উদ্দিন একই মাদরাসার সহকারী শিক্ষক। ঘটনার পর থেকে তিনি পলাতক।

শাকিলকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। সে দেবীপুর গ্রামের সজিনা খাতুন (মৃত) ও মহিবুলের ছেলে। শাকিলের মায়ের মৃত্যুর পর তার বাবা অন্যত্র বিয়ে করে সেখানে থাকছেন। সেই থেকে নানা দিনমজুর সাব্দুল মিয়ার কাছে থাকছে সে।

জানা যায়, শুক্রবার শিক্ষক হাবিবের ১৫০ টাকা হারিয়ে যায়। টাকাটা শাকিল চুরি করতে পারে—এ সন্দেহে সন্ধ্যায় তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করেন হাবিব। এ সময় সে টাকা নেয়নি বলে শিক্ষককে জানায়। কিন্তু শিক্ষক মাদরাসার আবাসিক কক্ষে শাকিলকে নিয়ে বাঁশের লাঠি দিয়ে নির্মমভাবে পেটায়। এতে সে গুরুতর আহত হয়। খবর পেয়ে শাকিলের নানা সাব্দুল ঘটনাস্থলে গিয়ে শিক্ষকের হাত-পা ধরে অনুরোধ করে নাতিকে উদ্ধার করেন। পরে তাকে পল্লী চিকিৎসকের কাছে নিয়ে যান তিনি। কিন্তু পল্লী চিকিৎসক শাকিলের অবস্থা দেখে তাকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করার পরামর্শ দেন। পরে তাকে সেখানে ভর্তি করা হয়।

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিক্যাল অফিসার (আরএমও) সঞ্জয় কুমার জানান, ‘শাকিলের শরীরের অনেক জায়গা আঘাতের কারণে ছিলে গেছে। মাংসপেশি ফেটে গেছে। সারা শরীরে রক্তক্ষরণ হচ্ছে।’

যোগাযোগ করা হলে অভিযুক্ত শিক্ষক ‘টাকা চুরি করার অপরাধে একটু শাসন করা হয়েছে’ বলে মোবাইল ফোনের লাইন কেটে দেন।

মাদরাসাটির প্রধান শিক্ষক বায়োজিদ বোস্তামী বলেন, ‘ঘটনার সময় আমি উপস্থিত ছিলাম না। ঘটনাটি দুঃখজনক।’

অন্যদিকে শিবনগর ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান মামুনুর রহমান চৌধুরী বিপ্লব বলেন, ‘আমি নির্যাতনকারী শিক্ষকের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেব।’ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আব্দুস সালাম চৌধুরী বলেন, ঘটনাটি তিনি জেনেছেন এবং অভিযুক্ত শিক্ষকের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দিয়েছেন।

ফুলবাড়ী থানার ওসি শেখ নাসিম হাবিব বলেন, ‘অভিযুক্ত শিক্ষককে আটকের চেষ্টা করছি। আহত শিশুটিকে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে রিলিজ দেওয়া না হয় বা কেউ নিয়ে যেতে না পারে সে জন্য আরএমওকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।’



মন্তব্য