kalerkantho

নৃশংস

হবিগঞ্জ প্রতিনিধি   

২ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ০০:০০



নৃশংস

তালাবদ্ধ এক কক্ষে সাত মাসের ছেলের লাশ। আরেক কক্ষে আড়াই বছরের মেয়ের লাশ। দুই শিশুর শরীর ও মাথা বিচ্ছিন্ন। এই কক্ষেরই একটি পাখায় ঝুলে ছিল মায়ের লাশ। হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলার নিজনগর গ্রামে শুক্রবার রাত সাড়ে ১১টার দিকে এ ঘটনা ঘটে।

মায়ের নাম হাদিসা বেগম (২৫)। তিনি স্থানীয় ধর্মঘর বাজারের মুদিমাল ব্যবসায়ী আব্দুল মজিদের স্ত্রী। দুই সন্তানের নাম মিম আক্তার ও মোজাহিদুল ইসলাম শুভ।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, কয়েক দিন আগে পুরনো বাড়ির পাশে মজিদ নতুন বাড়ি নির্মাণ করেন। বর্তমানে তাঁরা এই বাড়িতে বসবাস করছিলেন। সাড়াশব্দ না পেয়ে হাদিসার শাশুড়ি রাজিয়া বেগম ছেলের নতুন বাড়িতে যান। ছেলের বউ ও দুই নাতির লাশ দেখে তিনি চিৎকার করেন।

ধর্মঘর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সামসুল ইসলাম কামাল বলেন, ‘কী কারণে এ ঘটনা ঘটেছে, তা এ মুহূর্তে বলতে পারব না।’

একটি সূত্র জানায়, প্রায় পাঁচ বছর আগে মজিদের সঙ্গে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বিজয়নগর উপজেলার কেনা গ্রামের শামীম মিয়ার মেয়ে হাদিসার বিয়ে হয়। এর কিছুদিন পর থেকে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে বনিবনা হচ্ছিল না। এ নিয়ে ঝগড়াঝাঁটি লেগে থাকত। মজিদ দুবাই থেকে দেশে আসার পর একটি মুদি দোকান দিয়ে ব্যবসা করে আসছিলেন।

হাদিসার ভাই দ্বীন ইসলাম বলেন, ‘বিয়ের পর থেকে বোনকে মারধর করত ভগ্নিপতি মজিদ। তিন দিন আগেও মায়ের সামনে বোনকে মারধর করে।’

এ বিষয়ে মাধবপুর সার্কেলের সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার এ এস এম রাজু আহমেদ জানান, পুলিশ লাশ উদ্ধার করেছে। ঘটনা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তিনি বলেন, ‘আমার চাকরিজীবনে এত মর্মান্তিক এবং নৃশংস ঘটনা দেখিনি। পুতুলের মতো দুটি বাচ্চাকে জবাই করে হত্যা করা হয়েছে।’

গ্রামের প্রবীণ বাসিন্দা সৈয়দ মিয়া বলেন, ‘আমরা চাই সত্য উদ্ঘাটন হোক।’

এদিকে গতকাল শনিবার সকালে ঘটনাস্থল পরিদর্শনে যান হবিগঞ্জের পুলিশ সুপার বিধান ত্রিপুরা। তিনি দ্রুত এ ঘটনার রহস্য উদ্ঘাটনের কথা বলেন।

পুলিশের সুরতহাল প্রতিবেদনে গৃহবধূর মাথার পিছনে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। পুলিশ সন্দেহভাজন হিসেবে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য একজনকে আটক করেছে।



মন্তব্য