kalerkantho


তিস্তার ভাঙনের মুখে নাগড়াকুড়া টি-বাঁধ

কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি   

১ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ০০:০০



তিস্তার ভাঙনের মুখে নাগড়াকুড়া টি-বাঁধ

কুড়িগ্রামের উলিপুরে তিস্তা নদীর ভাঙনের মুখে নাগড়াকুড়া টি-বাঁধ। ছবি : কালের কণ্ঠ

কুড়িগ্রামের উলিপুরে প্রায় আট কোটি টাকা ব্যয়ে বছরখানেক আগে নির্মিত নাগড়াকুড়া টি-বাঁধটি (গ্রোয়েন) তিস্তার ভাঙনের মুখে পড়েছে। কুড়িগ্রাম পাউবো কর্তৃপক্ষ বালুভর্তি জিও ব্যাগ ফেলে ভাঙন রোধের চেষ্টা করছে। এদিকে অভিযোগ উঠেছে, সম্প্রতি একটি চক্র ড্রেজার মেশিন দিয়ে বালু উত্তোলন করায় বাঁধের নিচের মাটি সরে গিয়ে বাঁধটি ভাঙনের কবলে পড়েছে।

জানা গেছে, ২০১৬-১৭ অর্থবছরে সাত কোটি ৮০ লাখ টাকা ব্যয়ে উপজেলার গুনাইগাছ ইউনিয়নের নাগড়াকুড়ায় তিস্তার বাঁ তীরের বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ রক্ষায় টি-হেড গ্রোয়েনটি নির্মাণ করা হয়। ২০১৭ সালের জুন মাসে নির্মাণকাজ শেষ হলে তা ধীরে ধীরে ভ্রমণপিপাসুদের বিনোদনকেন্দ্রে পরিণত হয়। এ অবস্থায় টি-বাঁধটিকে ঘিরে প্রতিনিয়ত শত শত বিনোদনপ্রেমী ভিড় জমাতে থাকে।

টি-বাঁধে ঘুরতে আসা অনেকের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, এখানকার বিকেলের নয়াভিরাম প্রাকৃতিক পরিবেশ মানুষের মন ছুঁয়ে যায়। তাই পরিবার-পরিজন নিয়ে তারা প্রায়ই ঘুরতে আসে। টি-বাঁধটি রক্ষায় কুড়িগ্রাম পাউবোর এমন ধীরগতির কারণে দুঃখ প্রকাশ করে অনেকে। বাঁধটি ভেঙে গেলে এ অঞ্চলের মানুষের বিনোদনের এ স্থানটি হারিয়ে যাবে।

কুড়িগ্রাম পাউবোর উপসহকারী প্রকৌশলী আবুল কালাম বলেন, ‘বালুভর্তি জিও ব্যাগ ফেলে আমরা গ্রোয়েনটি ভাঙন থেকে রক্ষার চেষ্টা করছি। তবে হঠাৎ করে ভাঙন শুরু হওয়ায় আপৎকালীন প্রকল্পের মাধ্যমে কাজ করা হচ্ছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, তিস্তার ডান তীরে অন্য একটি প্রকল্পের কাজ শুরু হওয়ায় পানির গতিপথ পরিবর্তন হয়ে গ্রোয়েনটি ভাঙনের মুখে পড়েছে। তবে বাঁধের সামনে আরো কয়েকটি গ্রোয়েন নির্মাণ করা হলে টি-বাঁধটি রক্ষা করা সম্ভব হবে।’

এদিকে বাঁধটির সৌন্দর্যবর্ধন ও সুযোগ-সুবিধা বাড়াতে কুড়িগ্রাম পাউবো কর্তৃপক্ষ প্রায় ৪০ লাখ টাকা ব্যয়ে গ্রোয়েনটির উপরিভাগ পাকাকরণের কাজ শুরু করেছে। তবে স্থানীয়দের অভিযোগ, গ্রোয়েনটির ভাঙনের মুখে এ মুহূর্তে পাকা করলে বরাদ্দের পুরো টাকা পানিতে যাবে।

টি-বাঁধের দায়িত্বপ্রাপ্ত পাউবোর উপসহকারী প্রকৌশলী নজরুল ইসলাম বলেন, ‘ভাঙন রক্ষায় এখন পর্যন্ত ১৭৫ কেজি ওজনের বালুভর্তি ৬০০ জিও ব্যাগ ডাম্পিং করা হয়েছে। টি-বাঁধটি রক্ষায় প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।’

কুড়িগ্রাম পাউবোর নির্বাহী প্রকৌশলী শফিকুল ইসলাম বলেন, ‘আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই। আমরা গ্রোয়েনটি রক্ষা করে আগামী শুস্ক মৌসুমে সংস্কার করব। তা ছাড়া তিস্তা সেতুর কাছ থেকে চিলমারী পর্যন্ত বাঁ তীর রক্ষায় আমাদের আরো কিছু গ্রোয়েন নির্মাণ করার পরিকল্পনা রয়েছে।’



মন্তব্য