kalerkantho


জামালপুরে মেসে কলেজছাত্রীর রহস্যজনক মৃত্যু

মৃত্যুর জন্য নিজেই দায়ী বলে মৌসুমীর কক্ষে পাওয়া চিরকুটে উল্লেখ রয়েছে

জামালপুর প্রতিনিধি   

১ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ০০:০০



জামালপুর সরকারি আশেক মাহমুদ কলেজের হিসাববিজ্ঞান বিভাগের অনার্সের প্রথম বর্ষের ছাত্রী মৌসুমী সুলতানা মৌয়ের (২০) লাশ উদ্ধার করেছে সদর থানা পুলিশ। বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত দেড়টার দিকে জামালপুর শহরের গোলাপবাগের হাজির মেসে তাঁর কক্ষের ফ্যানের রডের সঙ্গে ঝুলন্ত অবস্থায় লাশটি উদ্ধার করা হয়। মৌসুমী সদর উপজেলার তিতপল্লা ইউনিয়নের রিকশাচালক আনোয়ার হোসেনের মেয়ে।

পুলিশ জানিয়েছে, পারিবারিক অশান্তির কারণে মৌসুমী আত্মহত্যা করেছেন। তাঁর মৃত্যুর জন্য নিজেই দায়ী বলে মৌসুমীর কক্ষে পাওয়া চিরকুটে উল্লেখ রয়েছে।

এদিকে মৌসুমীর মৃত্যুর পর গোলাম রব্বানী শাহীন নামের ঢাকা ইনকামট্যাক্স অফিসের অফিস সহায়ক গা-ঢাকা দিয়েছেন। জানা গেছে, মৌসুমীর বাবা আরেকটি বিয়ে করে ঢাকায় রিকশা চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করেন। দূরসম্পর্কের মামা শাহীন পালক মেয়ে হিসেবে মৌসুমীর ভরণ-পোষণ ও পড়ালেখার দায়িত্ব নেন। মৌসুমী জামালপুর শহরে শাহীনের বাসায় পাঁচ বছর ছিলেন। পরে তিনি ওই মেসে ওঠেন।

জামালপুর সদর থানার ওসি মো. নাছিমুল ইসলাম কালের কণ্ঠকে বলেন, মৌসুমীর মৃত্যুর ঘটনায় পরিবার থানায় অভিযোগ না করায় পুলিশ থানায় একটি অপমৃত্যুর মামলা করেছে। তাঁর পরিবার ময়নাতদন্ত ছাড়াই লাশ নিতে আবেদন করেছিল। পরে ঝামেলা এড়াতে জামালপুর সদর হাসপাতালের মর্গে ময়নাতদন্ত করে গতকাল স্বজনদের কাছে লাশ হস্তান্তর করা হয়েছে।

মৌসুমীর মৃত্যুর বিষয়টি জানাজানি হলে ঘটনার রাতে এবং গতকাল সকালে ওই মেসে আশেক মাহমুদ কলেজের শিক্ষক, মৌসুমীর সহপাঠী ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার লোকজন ভিড় করে। তারা মৃত্যুর কারণ উদ্ঘাটন করে দায়ীদের শাস্তির দাবি জানায়।   

সূত্র মতে, মৌসুমী হাজি আব্দুর রহিমের চারতলা বাসার নিচতলায় ছাত্রীদের মেসের একটি কক্ষে তিন ছাত্রীর সঙ্গে থাকতেন। ঈদের ছুটির পর মৌসুমী একাই তাঁর মেসে ওঠেন। মেসের অন্য ছাত্রীরা ও বাসাটির লোকজন বৃহস্পতিবার রাত ১১টার দিকে মৌসুমীকে ডাকাডাকি করে সাড়া পায়নি। পরে তারা সদর থানায় খবর দেয়। পুলিশ দরজা ভেঙে ভেতর থেকে মৃত অবস্থায় মৌসুমীকে উদ্ধার এবং তাঁর হাতে লেখা একটি চিরকুট ও মোবাইল ফোনসেট জব্দ করে।



মন্তব্য