kalerkantho


অনিয়ম করে ঘর নির্মাণ চলছেই

সৈয়দপুর (নীলফামারী) প্রতিনিধি   

২০ আগস্ট, ২০১৮ ০০:০০



নীলফামারীর সৈয়দপুরে প্রধানমন্ত্রীর আশ্রয়ণ প্রকল্পের-২-এর আওতায় গৃহ নির্মাণকাজে অনিয়ম চলছেই। নিম্নমানের উপকরণ ব্যবহার করে সিমেন্টের পিলার দিয়েই চলছে ঘর নির্মাণ। ফলে কাজের স্থায়িত্ব নিয়ে আশঙ্কা প্রকাশ করছে সুবিধাভোগীরা। প্রকল্পের নীতিমালায় পুরো ঘর নির্মাণ করে দেওয়ার কথা থাকলেও কোনো কোনো ইউনিয়নে সুবিধাভোগীদের দিয়ে ঘরের ভিটার মাটি উঁচু করে নেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে।

এ নিয়ে একাধিক প্রতিবেদন কালের কণ্ঠে প্রকাশিত হয়। সর্বশেষ গত ৪ আগস্ট ১৮ পৃষ্ঠায় ‘সচ্ছল ব্যক্তির নামে ঘর বরাদ্দ!’ শিরোনামে খবর প্রকাশিত হয়েছিল।

গত বৃহস্পতিবার সৈয়দপুর উপজেলার ৩ নম্বর বাঙ্গালীপুর ইউনিয়নে সরেজমিনে দেখা যায়, উপকারভোগী মহসীনের ঘর নির্মাণের জন্য ১৭টি আরসিসি পিলার (খুঁটি) মাটিতে লাগানো হয়েছে। আর ল্যাট্রিনের জন্য চারটি পিলার বাড়ির বাইরে ফেলে রাখা হয়েছে। নিম্নমানের উপকরণ ব্যবহার করে ঘরের খুঁটির জন্য তৈরি করা পিলারগুলো লাগানোর সময় ফাটল দেখা দেয়। পরে তাতে সিমেন্ট দিয়ে ফাটলগুলো মেরামত করা হয়েছে। পিলারের কোনো ফিনিশিং নেই। পিলারগুলো আঁকাবাঁকা। ঘরের মেঝে ও বারান্দার ঢালাইকাজের জন্য ইট, খোয়া, বালি ও সিমেন্ট আনা হয়েছে।

ঘরের ভিত্তি দেওয়ার জন্য যে ইট আনা হয়েছে, তা নিম্নমানের। আর ঢালাইকাজের জন্য আনা ইটের খোয়া তো নয়, যেন ইটের গুঁড়া। যদিও ঘরের ভিত্তির জন্য প্রথম শ্রেণির ইট ৫১০টি ব্যবহারের নির্দেশ রয়েছে প্রকল্পের নীতিমালায়।

সুবিধাভোগী মহসীনের স্ত্রী মোছা. নাজমা বেগম জানান, কন্ট্রাক্টরের লোকজন তাঁদের ঘরের ভিটায় উঁচু করে মাটি তুলতে বলেছে। ভিটার মাটি নাকি উপকারভোগীদেরই তুলতে হবে। তাই দিনমজুর স্বামী টাকা-পয়সা ধারদেনা করে সাড়ে তিন হাজার টাকার মাটি কিনে এনে ঘরের ভিটা উঁচু করেছেন। এর পরও তারা বলছে, মাটি উঁচু করা হয়নি। আরো মাটি আনতে বলেছে তারা।’

এ ইউনিয়নের বাঙ্গালীপুর ডাঙ্গাপাড়ায় গিয়েও একই দৃশ্য পরিলক্ষিত হয়। ২ নম্বর ওয়ার্ডের সুবিধাভোগী মো. মুজিবুর রহমান। দেখা যায়, মুজিবুর রহমানের লোকজন ঘরের ভিটা উঁচুকরণের কাজ করছে। মুজিবুর রহমান অভিযোগ করে বলেন, ‘কন্ট্রাক্টরের লোকজন মালামাল নিয়ে এলেই টাকা দাবি করে। কিন্তু আমি একজন রিকশাভ্যানচালক। প্রতিদিনের আয়েই চলে আমার সংসার। কন্ট্রাক্টরের লোকজনের দাবি করা টাকা-পয়সা কোথা থেকে দেব? তাই তাদের দাবীকৃত টাকা-পয়সা দিতে না পারলেও যৎসামান্য দিয়েছি।’



মন্তব্য