kalerkantho


বামনায় দুর্ভোগে আশ্রয়ণ প্রকল্পের বাসিন্দারা

ওপরে বৃষ্টি, নিচে জোয়ারের পানি

বামনা (বরগুনা) প্রতিনিধি   

২০ আগস্ট, ২০১৮ ০০:০০



ওপরে বৃষ্টি, নিচে জোয়ারের পানি

বরগুনার বামনা উপজেলার জাফ্রাখালী গ্রামে আশ্রয়ণ প্রকল্পের ঘরগুলোর দশা এই রকম। ছবি : কালের কণ্ঠ

‘কি দ্যাখতে আইছেন? মোরা ক্যামন আছি হেইয়া দ্যাখবেন তো? প্রেত্যেক বছর হুদা (খালি) দ্যাইখা যান কি হরতে (করতে) পারছেন মোগো লইগ্যা? বইশ্যা (বৃষ্টি) আইলে ভিজি আর জোয়ার আইলে হগোল (সব) তলাইয়া যায়। মোগো কোন জমি নাই দ্যাইখ্যা এমন জায়গায় মোগো থাহার (থাকার) লইগ্যা দেছে। এই ১০ বছরে মোরা ক্যামন আছি, কী খাই কেউ খবর লয় নাই। এহন আপনেরা কী দ্যাখতে আইছেন?’

অনেক ক্ষোভে আর কষ্টে এই প্রতিবেদককে কথাগুলো বললেন বরগুনার বামনা উপজেলার জাফ্রাখালী গ্রামে আশ্রয়ণ প্রকল্পের বাসিন্দা পঞ্চাশোর্ধ্ব বয়স্ক আমেনা খাতুন।

গত বৃহস্পতিবার দুপুরে জাফ্রাখালী আশ্রয়ণ প্রকল্প ঘুরে দেখা যায়, এখানে তিনটি ব্যারাকে ২০টি করে ৬০টি অপরিসর ঘর নির্মাণ করা হয়েছে। একটি ঘর একটি পরিবারকে বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। কিন্তু সেখানে একটি পরিবারের বাস করা খুব কষ্টকর। তবে এই ব্যারাকে মাত্র ১২টি পরিবার বাস করছে। বাকি ঘরগুলো অযত্ন-অবহেলায় পড়ে রয়েছে। ব্যারাকগুলো বেড়িবাঁধের বাইরে খালের পারে নির্মাণ করায় বর্ষায় ও জোয়ার-জলোচ্ছ্বাসে তলিয়ে যায়। ২০১০ সালে নির্মাণ করা এই আশ্রয়ণে ৬০টি পরিবারের জন্য একটি মাত্র নলকূপ (টিউবওয়েল) বসানো হয়েছিল। সেটি প্রায় আট বছর ধরে নষ্ট হয়ে পড়ে আছে। এ ছাড়া এখানে পয়োনিষ্কাশন ব্যবস্থা নেই। ছয়টি ল্যাট্রিন থাকলেও তা ব্যবহার অনুপযোগী। ব্যারাকগুলোর টিনের চালা নষ্ট হয়ে যাওয়ায় বৃষ্টিতে ভিজে যায় বাসিন্দারা। জোয়ার আর জলোচ্ছ্বাসে পানি ঢুকে যায় ঘরগুলোতে। ফলে স্যাঁতসেঁতে ঘরে বাস করায় শিশুরা ভুগছে নিউমেনিয়া ও চর্মরোগে।

বামনা উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন (পিআইও) অফিস সূত্রে জানা গেছে, ২০০৭ সালের ১৫ নভেম্বর ঘূর্ণিঝড় সিডরের আঘাতে লণ্ডভণ্ড হয়ে যায় বামনার উপকূল। পরে ২০১০ সালে জাপান সরকারের অর্থায়নে পুনর্বাসন প্রকল্পের আওতায় পিআইও অফিসের সহায়তায় উপজেলায় ভূমিহীনদের জন্য ৩০টি আশ্রয়ণের ব্যারাক নির্মাণ করা হয়। তবে সরকারি খাস জমি না পাওয়ায় নদীর তীর ও খাল ভরাট করে ব্যারাকগুলো নির্মাণ করা হয়। দেখা যায়, ব্যারাকের বেশির ভাগ ঘর পড়েছে বেড়িবাঁধের বাইরে। ফলে জোয়ার-জলোচ্ছ্বাসে ঘরগুলোতে পানি ঢুকে পড়ে।

জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা স্বপন কুমার ব্রহ্ম বলেন, ‘আমাদের দপ্তরের মাধ্যমে আশ্রয়ণে কোনো সংস্কার কাজের বরাদ্দ নেই। তবে প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ শাখায় বিষয়টি জানালে তারা এই আশ্রয়ণগুলো সংস্কারের ব্যবস্থা নিতে পারে।’

বামনা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জেবুন্নাহার বলেন, ‘আমরা আশ্রয়ণগুলো পরিদর্শন করে দেখব। যদি এগুলো সংস্কারের প্রয়োজন হয়, তাহলে উপজেলা প্রকৌশলীর মাধ্যমে প্রাক্কলন করে দুর্যোগ ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ে পাঠানোর ব্যবস্থা করব।’



মন্তব্য